নায়ক - নায়িকারা আসলেই রুপালী জগতের বাসিন্দা!
স্বপন ধর
লাইফ টিভি 24
প্রকাশিত: ২৩:০৭ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০
আমাদের শৈশব থেকে তরুণ বয়স, এই সময়টুকুকে সিনেমার স্বর্ণযুগ বলা চলে। তখন এমনিতেই মানুষ হলমুখী ছিলো। মানুষ সপরিবারে সিনেমা দেখতে যেতো। শৈশবে বাবা-মা সহ আমি বেশ কিছু ছবি দেখেছিলাম। তখন থেকেই সিনেমার প্রেমে পড়ে যাই।
রিকসায় করে পোস্টার সহযোগে মাইকিং চলতো এইরকম - "হ্যাঁ ভাই, কাজী জহির পরিচালিত, বিউটি কুইন শাবানা আর নায়করাজ রাজ্জাক অভিনিত, নিটোল প্রেমের ছবি 'অবুঝ মন' চলছে আপনাদেরই প্রিয় প্রেক্ষগৃহ নিরালা'য়।"
দেয়ালে দেয়ালে সাটানো থাকতো সিনেমার পোস্টার। আমার কাছে তখন মনে হতো নায়ক - নায়িকারা আসলেই রুপালী জগতের বাসিন্দা।
তখন কিছু কিছু নায়ক নায়িকার নামের আগে একটা করে টাইটেলও থাকতো, যেমন : নায়করাজ রাজ্জাক, ড্যাসিং সোহেল রানা, ম্যাগাস্টার উজ্জ্বল, বিউটি কুইন শাবানা, মিষ্টি মেয়ে কবরী, ড্রিম গার্ল ববিতা, সুইট সুচরিতা ইত্যাদি ইত্যাদি।
তখন রেডিওতে সিনেমার প্রোমোশনের জন্য পনেরো মিনিটের একটা বিজ্ঞাপন প্রচার হতো, মনে হয় দুপুর দেড়টা অথবা দুটোর দিকে। উপস্থাপনা করতেন নাজমুল হুসাইন এবং গাজী মাজহারুল ইসলাম। এদের দরাজ কন্ঠে এক ধরণের মাদকতা ছিল। অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকতাম রেডিওতে ওগুলো শোনার জন্য।
যশোর শহরে প্রথম দিকে ছিলো তিনটি হল : নিরালা, তসবীর মহল আর চিত্রা। যশোর ক্যান্টনমেন্টে ছিলো গ্যারিসন হল, সেখানে মাঝে মাঝে ভারতীয় বাংলা এবং হিন্দী ছবিও চলতো। এরপর আর একটা হল হয়, তার নাম মানসী। তবে সব থেকে সাড়া ফেলেছিল যে হল, তার নাম মনিহার। তখনকার সবথেকে বড় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বেশী আসন সংখ্যার অত্যাধুনিক সিনেমা হল।
তখন কোন কোন ছবি বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতো। খুব কম ছবিই ছিলো যেটা দুই সপ্তাহের কম চলতো, যদি না সেটা পুরোন ছবি না হতো। কোন কোন ছবি তো সিলভার জুবিলি, গোল্ডেন জুবিলি, প্লাটিনাম জুবিলি বা ডায়ামন্ড জুবিলিও চলতো।
তার মানে শহরের সব মানুষ তো দখতোই, পাশাপাশি হিট ছবিগুলো দেখার জন্য আশেপাশের গ্রাম থেকেও দর্শকেরা তখন দলে দলে আসতো সিনেমা দেখত এবং তখন এটা খুব স্বাভাবিক ঘটনা ছিল যে দর্শকেরা একই ছবি একাধিকবার দেখছে।
আমি শৈশব থেকে বাবা কিংবা কাকার সাথে বাজারে যেতাম। এভাবে সঙ্গ দিতে দিতে বাজার কিভাবে করতে হয়, তা অল্পদিনেই শিখে গেলাম। এই যে অল্পদিনে একা একা বাজার করা শিখে গেলাম, এর একটা কারণ অবশ্য ছিলো, সেটা হলো বাজার থেকে টাকা মারা। কারণ ছবি দেখতে হবে তো!
আমি যে বয়স থেকে ছবি দেখি সে বয়সে আমি কখনই টিকিট কাউন্টারের লোককে দেখতে পাইনি। টিকিটের টাকা সহ কোন রকমে গোড়ালি উঁচু করে কাউন্টারের ফোকর পর্যন্ত হাতটা গেলেই হয়েছে। টিকিট হাতে চলে আসতো।
আমি বরাবর সামনের সারির দর্শক ছিলাম। কারণ সপ্তাহে যদি দু-তিনটে ছবি দেখতে হয় তবে ইনকাম অনুযায়ীই তো খরচাটা হতে হবে। আর এই ছবি যে দেখতাম সেটা নিশ্চয়ই বাবা মাকে বলে নয়, তাঁদেরকে ফাঁকি দিয়েই।
কিভাবে করতাম? একটা কায়দা বের করেছিলাম। যশোর পাবলিক লাইব্রেরীর সদস্য ছিলেন আমার বাবা, আর আমি ছিলাম ক্ষুদে সদস্য। আমাদের দুজনেরই কার্ড ছিলো। আমি দুপুরে খেয়ে, হাতে আগে নিয়ে আসা বইটি নিয়ে লাইব্ররীর কার্ডঢি নিয়ে লাইব্রেরীতে বই আনার নিমিত্তে বাসা থেকে বের হতাম। যখন ফিরতাম তখন থাকতো আর একটা বই।
মানে হলো সিনেমা তো দেখতামই পাশাপাশি গল্পের বইও পড়তাম। বাসা থেকে বাবা-মা মনে করতেন, আমি লাইব্রেরীতে গিয়ে পড়তাম এবং আসার সময় নতুন একটা বই নিয়ে আসতাম। কথাটা আংশিক সত্য ছিলো বৈকি। বইটা লাইব্রেরী থেকে শুধু পাল্টাতে যতটুকু সময়, এর পরের সময়টুকু আমি সিনেমা হলে। কোন কোন সপ্তাহে নতুন কোন ছবি রিলিজ না পেলে একই ছবি আবার দেখতাম। অভ্যাসটাতো ঠিক রাখতে হবে নাকি? ততদিনে ছবি দেখা আমার নেশায় পরিণত হয়ে গেছে।
তবে ছোটবেলাতে ফ্যান্টাসী ছবিগুলো দেখতেই বেশী ভালো লাগতো। যেমন 'বাহাদুর' দেখার পর ওয়াসিম হয়ে গেল আমার প্রিয় নায়ক। ঐ সময়ে প্রত্যেক নায়কেরই দর্শকপ্রিয়তা ছিলো।
তাই সময়ের সাথে আমার পছন্দের নায়কও পরিবর্তিত হতো। ধীরে ধীরে একসময় দেখা গেল রাজ্জাক, সোহেলরানা, ফারুক, আলমগীর, উজ্জ্বল, জাফর ইকবাল - এরা সবাই আমার প্রিয় নায়কে পরিণত হয়েছিলেন। ছেলেবেলায় ইমোশনাল সিনগুলো দেখে কান্নাও করতাম। একসময়ে একসাথে চুরি করে সিনেমা দেখার কিছু বন্ধুও পেয়ে গেলাম। তার মধ্যে বাড়ীর কাছের এক বন্ধু ছিল আমার নিয়মিত সঙ্গী। এমনও হয়েছে 'তালাক' ছবি দেখে দুই বন্ধু গলা জড়িয়ে ধরেও কান্না করেছি।
তবে এই যে চুরি করে এতোদিন ছবি দেখেছি হাতে নাতে ধরা পড়িনি অনেক অনেক দিন। বলে রাখা ভালো আমরা সব সময় ম্যাটিনি শো'তে ছবি দেখতাম। কথায় বলে না চোরের দশ দিন তো গৃহস্থের একদিন।
তখন এস এস সি পরীক্ষা চলছে, ইলেকটিভ ম্যথের আগে কয়েকদিনের গ্যাপ ছিলো, এই সুযোগে আমি আর আমরা ঐ বন্ধু চলে গেলাম সাইকেল চালিয়ে, ক্যান্টনমেন্ট গ্যারিসন সিনেমা হলে ভারতীয় ছবি 'অনুসন্ধান' দেখতে।
যেহেতু ক্যান্টনমেন্ট ছিলো বাসা থেকে প্রায় চার পাঁচ কিলোমিটার দূরে তাই আসতে আসতে রাত হয়ে যায়। প্রথমে পড়ে ঐ বন্ধুর বাড়ী, ওর বাড়ী পর্যন্ত যেতেই দেখি বন্ধুর মা, আমার প্রিয় খালাম্মা দাঁড়িয়ে আছেন। উনি আমাকে তখনও ভালোবাসতেন এখনো ভালোবাসেন।
আমাকে বললেন, 'এই তুইই বল কোথায় গিয়েছিলি তোরা? সিনেমা দেখতে নিশ্চয়ই।'
খালাম্মা ছিলেন দারুণ স্মার্ট আর আমি একটু সরল সোজা, খাড়ার উপর মিথ্যা বলতে পারি না। তাই স্বীকার করে ফেললাম। খালাম্মা আমাকে খুব একটা কিছু বললেন না বরং আমাদেরকে যে ধরে ফেলেছেন এতেই উনি বেশ খুশী হলেন। আর সত্য বলারও তো একটা বেনিফিট আছে নাকি?
এই ছবি দেখার নেশাটা পুরো ইন্টারমিডিয়েট পাশ করা পর্যন্ত ব্যাপকভাবেই ছিল। এরপর ছবি দেখাতে ভাটা পড়তে লাগলো। শেষের দিকে সালমান শাহ ছিলো আমার প্রিয় নায়ক। সালমান শাহ এর মতো স্মার্ট নায়ক আমি আর একটিও পাইনি। আমি তার ফ্যান ছিলাম। উনি মারা যাবার সাথে সাথে আমার হলে গিয়ে সিনেমা দেখার অভ্যাসটা চলে যায়। ততদিনে আমি খুলনা বিআইটিতে দ্বিতীয় বর্ষে।
লেখক : স্বপন ধর
- ভাত রান্নার আগে চাল ভালো করে ধুতে বলা হয় কেন?
- মোটরসাইকেলের সামনেও নম্বর প্লেট রাখা বাধ্যতামূলক
- বিএসএফের হাতে আটক দুই পুলিশ সদস্যকে ফেরত আনল বিজিবি
- এডিস মশা শনাক্ত করবে ‘স্মার্ট ফাঁদ’
- এনআইডিতে নাম, বয়স ও ঠিকানা সংশোধনে যেসব কাগজপত্র লাগবে
- ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে কমবে দারিদ্র্য, ধারণা বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের
- বয়স্করা যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন
- বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ
- বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের সূচি পরিবর্তন
- ঢাকার বায়ুদূষণ দেশের জন্য লজ্জার বিষয়: প্রধানমন্ত্রী
- ‘বাংলাদেশ পথ দেখিয়েছে’, নেহার ভিডিও নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ বিজেপির
- প্রক্রিয়া শুরু
মালয়েশিয়ায় যেভাবে হবে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ - দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহারে চোখে জ্বালাপোড়া, সমাধান কী?
- ওষুধ কারখানার আগুনে ক্ষয়ক্ষতি হলেও প্রাণহানি নেই
- নোবেল পুরস্কারের ফেসবুক পেজে রবীন্দ্রনাথ ও রাসেলের ১১৪ বছরের চিঠি
- ক্যারিয়ার সেরা র্যাঙ্কিংয়ে হাসান মাহমুদ
- রাশিয়ায় নিয়ে যুদ্ধে পাঠানো ৩০ বাংলাদেশির ২০ জনের মৃত্যু
- অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো অভিযানের পরিকল্পনা নেই
- দূষণজনিত মাথাব্যথা নাকি মাইগ্রেনের সমস্যা? বুঝবেন যেভাবে
- সমুদ্র তীরে দাঁড়িয়ে দৈত্যাকার দানব
- নিউটনের ঢের আগে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টের পান দা ভিঞ্চি!
- সেরা ঘুমের প্রতিযোগিতা, পুরস্কার ১৪ হাজার ডলার
- নাফ নদীতে ইয়াবা পাচারের ‘ডুবন্ত সাবমেরিন’ উদ্ধার
- বাংলাদেশ থেকে জয় ছিনিয়ে ড্র আফগানিস্তানের
- বন্ধুর চেয়ে শত্রুর নাম বেশি মনে থাকে কেন?
- সারাদেশে ২ দিন এলপিজি বিক্রি বন্ধ থাকবে
- অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ড
- বাংলাদেশসহ কয়েক দেশের শিক্ষার্থী ভর্তিতে কঠোর যুক্তরাজ্য
- বিধবা কার্ড দিলে সবার আগে এমপির বউ নেবে: হাসনাত আবদুল্লাহ
- মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে রেমিট্যান্স কমার শঙ্কা, নতুন শ্রমবাজারে নজর
- সন্দেহের বশে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে পুশইন নয়: কলকাতা হাইকোর্ট
- বিয়ের জন্য যেমন ছেলে চান মিমি
- যেসব খাবার একসঙ্গে খেলে বেশি পুষ্টি মিলে
- বিমানবন্দরে ‘সোনার ডিম’ উদ্ধার: ৫ দিনের রিমান্ডে আসামি
- রূপপুরের বিদ্যুৎ দ্রুত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ: রোসাটম
- শান্তিতে নোবেলজয়ী কে এই নাভি পিল্লাই
- হ্যাটট্রিক করে ইতিহাসে হাসান মাহমুদ
- দূষণজনিত মাথাব্যথা নাকি মাইগ্রেনের সমস্যা? বুঝবেন যেভাবে
- হঠাৎ চুল পড়া বাড়লে কি করবেন?
- দুর্গাপূজা: বাঙালি হিন্দুদের বড় ধর্মীয় উৎসবে পরিণত যেভাবে
- অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ড
- বন্ধুর চেয়ে শত্রুর নাম বেশি মনে থাকে কেন?
- সারাদেশে ২ দিন এলপিজি বিক্রি বন্ধ থাকবে
- একটি দৃশ্যের জন্য এখনো বারবার মহড়া দেন অমিতাভ
- সেরা ঘুমের প্রতিযোগিতা, পুরস্কার ১৪ হাজার ডলার
- জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা জাতীয় স্বার্থে ব্যয়ের নির্দেশ
- মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে রেমিট্যান্স কমার শঙ্কা, নতুন শ্রমবাজারে নজর
- দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহারে চোখে জ্বালাপোড়া, সমাধান কী?
- সমুদ্র তীরে দাঁড়িয়ে দৈত্যাকার দানব
- বাংলাদেশসহ কয়েক দেশের শিক্ষার্থী ভর্তিতে কঠোর যুক্তরাজ্য











