ঢাকা, ২৯ জানুয়ারি বুধবার, ২০২০ || ১৫ মাঘ ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
৯০

পেঁয়াজের দাম কমলে পদত্যাগে ১ সেকেন্ডও লাগবে না বাণিজ্যমন্ত্রীর

প্রকাশিত: ২২:৫৪ ৩ ডিসেম্বর ২০১৯  


প্রয়োজন হলে এক লাখ টন পেঁয়াজ বাজারে নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, দরকার হলে আগামী ৪০ দিনের মধ্যে এক লাখ টন পেঁয়াজ ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাজারে নিয়ে আসব। গত ছয় দিন ধরে মিশর ও তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ ঢুকতে শুরু করেছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর ফারস হোটেলে এক মতবিনিময় সভায় এসব বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। ‘নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধকল্পে ব্যবসায়ী সমাজের করণীয়’ সম্পর্কে এই মতবিনিময় সভা হয়।

সংকট মোকাবেলায় আমদানি করা পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমদানিতে যাওয়া ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, এস আলম গ্রুপ-তারা বলেছে ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টন পেঁয়াজ দেবে। সবচেয়ে আনন্দের কথা তারা বলেছে, তারা এক টাকাও প্রফিট করবে না। যত কোটি টাকা লাগে ইনভেস্ট করবে। পেঁয়াজে কোনো মুনাফা না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া এই প্রতিষ্ঠানগুলো আমদানি খরচের যে হিসাব দিয়েছে, তাতে কেজিপ্রতি পেঁয়াজের ব্যয় ৪২ টাকা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

আরো পড়ুন: দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ: ফখরুল

পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে ব্যবসায়ীদের সুযোগ নেওয়ার কথা জানিয়ে টিপু মুনশি বলেন, ভারত যখন পেঁয়াজ বন্ধ করে দিল, সেদিন সন্ধ্যার সময়ে ঢাকার বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়ার কথা নয়। পেঁয়াজ তো তখন স্টকে ছিল, কোনো কোনো ব্যবসায়ী সঙ্গে সঙ্গে সেই সুযোগটা নিয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, বলা হচ্ছে, বাণিজ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ চাই। পদত্যাগ করতে আমার এক সেকেন্ডও লাগবে না। তাতে পেঁয়াজের দাম যদি ঠিক হয়, তাহলে আমার তো কিছু যায় আসে না। এই মন্ত্রিত্ব কাজ করার জন্য, জব করার জন্য।

তিনি বলেছেন, পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির কারণে তাকে বহুবার বলা হয়েছে 'জেলে দেন, ক্রসফায়ারে দেন'।

মন্ত্রী বলেন, রাজনীতি করেন তিনি। মন্ত্রিত্ব চাকরি নয়, কাজ করার জন্য।

বিদেশ থেকে ৪০-৪২ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ এনে তা কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি করায় কতিপয় ব্যবসায়ীর প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীরা যে পেঁয়াজ দিচ্ছেন, এর বাইরেও কিছু কিছু পেঁয়াজ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ঢুকছে। তার মূল্যও কিন্তু কোনও অবস্থায় ৪০ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। কিন্তু তারা তো বিক্রি করছেন বেশি দামে। তাহলে ব্যবসায়ীদের মানবিক মূল্যবোধটা কোথায়? যথেষ্ঠ পরিমাণ আমদানি করে এই ধরনের মুনাফালোভী - যারা দুর্ভিক্ষ ও ক্রাইসিসের সামনেও নিজেদের মূল্যবোধ জাগ্রত করেন না, তারা ব্যবসায়ী হতে পারেন না।

যৌক্তিক লাভ রেখে বাজারে পেঁয়াজ ছাড়তে ব্যবসায়ীদের মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের মানুষকে অভুক্ত ও সংকটে রেখে লাভ করেন - সমস্যা নাই। কিন্তু আল্লাহর ওয়াস্তে বৈধ ও যৌক্তিক লাভ করেন। ৫ টাকা লাভ রেখে বাজারে পেঁয়াজ ছাড়েন। এরপরও বাজারে পেঁয়াজের কেজি ৫০-৫৫ টাকার বেশি হবে না।

ভারত রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকে দেশের বাজারে পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট সংকট নিরসনে সরকারের এ যাবৎকালের পদক্ষেপ তুলে ধরে টিপু মুনশি বলেন, একটা অভিজ্ঞতা, একটা শিক্ষা তো হয়েছে।

ভবিষ্যতে পেঁয়াজ সংকট সমাধানে আগামী তিনবছরের মধ্যে এই পণ্য উৎপাদনে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির এই সমস্যা থেকে উত্তরণ করতে হলে উপায় একটাই, আমাদের এই পণ্য উৎপাদনে আত্মনির্ভরশীল হতে হবে। এছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। আমরা ভারতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকব, আর ভারত যখন খুশি রপ্তানি বন্ধ করে দেবে, তাহলে আমরা কীভাবে পেঁয়াজের বাজার ঠিক রাখব? প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, তিন বছরের মধ্যে যেকোনো ভাবেই হোক আত্মনির্ভরশীল হতে হবে। প্রয়োজনে আমরা ভারতে রপ্তানি করব।

সংকট নিরসনে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সবাইকে এই বার্তাটাই দিতে চাই, সব দিন সমান যাবে না। একটু কষ্ট করতে হবে। এই কষ্টটা নতুন দিন দেখাবে। কথায় আছে, কখনো কখনো বিপদও সম্পদে পরিণত হয়। আমরা এই বিপদটাকে সম্পদে পরিণত করবই করব।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, দেশের বাজার ব্যবস্থাপনায় অসুস্থ অবস্থা বিরাজ করছে। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগ নিশ্চুপ থাকতে পারে না, থাকেওনি। আওয়ামী লীগ সরকার চেষ্টা করছে সুস্থ ও বিকল্প বাজারব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার।

তিনি বলেন, পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের বাজারে কিছুটা অস্থিরতা রয়েছে। এই বাজারকে লাগামহীন পাগলা ঘোড়া হতে দেওয়া যাবে না। একটি জনগণের সরকার, জনগণের দল এই অবস্থা মেনে নিতে পারে না। কারণ এটা শেখ হাসিনার সরকার, জনগণের সরকার, ব্যবসাবান্ধব সরকার।

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে নানক বলেন, মানুষের মুখের দিকে তাকিয়ে সিদ্ধান্ত নিন, দাম কমাতে হবে। সহনশীল পর্যায়ে নিতে হবে। মনে রাখবেন, শেখ হাসিনাকে অস্বস্তিতে রাখলে দেশ অস্বস্তিতে থাকবে। আজ থেকে শপথ করতে হবে, আগামীকাল থেকেই যেন বাজার নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। চাল, ডাল, রসুন, পেঁয়াজ, আদাসহ কোন্রা কিছুর দামই আর বাড়াতে পারবে না।

সভাপতির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এবং শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান কাজী আকরাম উদ্দীন আহমেদ বলেন, পণ্যদ্রব্যর মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিএনপি সরকার পতনের আন্দোলনের কথা বলছে। মির্জা ফখরুল সাহেবরা সরকার পতন আন্দোলন দেখেননি, শোনেনওনি। তাদের এই আন্দোলন কখনো সফল হয়নি, হবেও না।

পেঁয়াজসহ দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের বিবেক। তারা দিনকে দিন, রাতকে রাত বানাতে পারেন। পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারাও ভূমিকা রাখতে পারেন। সরকারের দিকে তাকিয়ে, শেখ হাসিনার দিকে তাকিয়ে সহযোগিতা করুন।


এই বিভাগের আরো খবর