ঢাকা, ০১ আগস্ট শনিবার, ২০২৬ || ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
good-food

প্রক্রিয়াজাত খাবার কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, কী বলছে গবেষণা

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৬:১২ ৩১ জুলাই ২০২৬  

প্রক্রিয়াজাত খাবার খেলেই ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস কিংবা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে—দীর্ঘদিন ধরে এমন ধারণাই প্রচলিত ছিল। তবে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারটি কতটা প্রক্রিয়াজাত তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই খাবারের সার্বিক পুষ্টিগুণ।

প্যাকেটজাত খাবার বিশ্বজুড়ে দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০ লাখেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের কয়েক দশকের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা নিশ্চিত হয়েছেন—উন্নত পুষ্টিগুণসম্পন্ন খাবার খেলে প্রক্রিয়াজাত উপাদানের উপস্থিতিতেও হৃদরোগ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

কেন প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি অনাস্থা? 

খাবার প্রক্রিয়াজাতকরণ বা প্রসেসিং ব্যবস্থার কারণে খাবারে অতিরিক্ত চিনি, সোডিয়াম এবং রিফাইন্ড শর্করা যুক্ত হয়। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে হজমের সমস্যা, মেটাবলিক সিন্ড্রোম এবং নানাবিধ ক্রনিক রোগের ঝুঁকি বাড়ে। 

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব প্রক্রিয়াজাত খাবারকে এক পাল্লায় মাপা ঠিক নয়। প্রসেসড খাবার এবং অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

সব প্রক্রিয়াজাত খাবার ক্ষতিকর নয় 

সব প্রক্রিয়াজাত খাবার স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ নয়। প্রক্রিয়াজাত হওয়ার পরেও অনেক খাবার অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর এবং এতে ফাইবার, ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। যেমন: 

ফোর্টিফাইড সিরিয়াল: বাদাম, বীজ ও লাল আটার তৈরি সকালের নাশতার সিরিয়াল।

হোল-গ্রেইন রুটি: জটিল শর্করা ও লাল আটার মিশ্রণে তৈরি রুটি।

উদ্ভিজ্জ দই: এতে থাকা ‘প্রোবায়োটিক’ পেটের সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

প্যাকেটজাত ডাল ও শিম: প্রক্রিয়াজাত বা পরিষ্কার করে প্যাকেটজাত করা হলেও এর মূল পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ণ থাকে। 

যে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারগুলো এড়িয়ে চলবেন

যেসব প্রক্রিয়াজাত খাবারে অতিরিক্ত সোডিয়াম, চিনি এবং ক্ষতিকর চর্বি থাকে, সেগুলোই মূলত দীর্ঘমেয়াদী রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এ জাতীয় অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। যেমন:

# মিষ্টিজাতীয় কোমল পানীয় বা সোডা
# প্যাকেটজাত মিষ্টি ও ডেজার্ট
# রিফাইন্ড প্রক্রিয়াজাত স্ন্যাক্স
# ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত মাংস 

বিশেষজ্ঞরা জানান, কোনো খাবার প্যাকেটজাত বা প্রক্রিয়াজাত—কেবল এই লেবেল দেখে বিচার না করে এর ভেতরে কী উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে তা দেখা উচিত। খাদ্যতালিকা থেকে প্রক্রিয়াজাত খাবার একেবারে মুছে ফেলার বদলে খাদ্যাভ্যাসে বৈচিত্র্য আনা এবং পুষ্টিকর উপাদান বেছে নেওয়া বেশি জরুরি। 

সুস্থতায় যা মেনে চলবেন 

দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকতে গবেষকেরা কিছু সহজ খাদ্যাভ্যাস অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন: 

১. প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি ও ফলমূল খাদ্যতালিকায় রাখুন।

২. লাল আটা, ওটস বা হোল-গ্রেইন শস্য জাতীয় খাবার খান।

৩. প্রোটিন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেতে ডাল, শিম ও বাদাম খান।

৪. খাবারের মোড়কে থাকা পুষ্টির তথ্য ভালোভাবে পড়ে কিনুন।

৫. অতিরিক্ত চিনি ও সোডিয়ামযুক্ত খাবার পরিহার করুন।

হার্ভার্ডের এই গবেষণা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, অসুস্থতা ও স্থূলতার ঝুঁকি কমাতে হলে প্রসেসড খাবার সম্পূর্ণ বর্জন নয়, বরং পুষ্টিকর প্রসেসড খাবার বেছে নেওয়া এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। 

লাইফস্টাইল বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর