ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার, ২০২৬ || ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
good-food
১৭

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পদ ছাড়লেন পুতুল

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৩:৩২ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬  

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের প্রধান এবং বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল পদত্যাগ করেছেন। বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স তার পদত্যাগপত্র দেখেছে। জাতিসংঘের সংস্থা ডব্লিউএইচও এবং বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের করা জালিয়াতি সংক্রান্ত তদন্তের মধ্যেই তিনি পদত্যাগ করলেন।

পুতুলের এই ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে হাসিনার দীর্ঘ সময়ের শাসনের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের পর তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রভাব শুধু তার রাজনৈতিক মিত্রদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং পরিবারের সদস্যদের ওপরও পড়েছে। কারণ, হাসিনার সরকারের একাধিক দুর্নীতিতে তার পরিবারের সদস্যদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

হাসিনার অনেক মিত্র ও তার দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। অনেকে পালিয়ে গিয়ে বিভিন্ন দেশে স্বেচ্ছা নির্বাসনে রয়েছেন।

পুতুল ২০২৪ সালের শুরুর দিকে পাঁচ বছরের মেয়াদে ডব্লিউএইচও’র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন। গত বছরের শেষ দিকে সংস্থাটি তাকে বেতন ছাড়া প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায়। 

এর আগে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে পুতুলকে প্রথমবার ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল। এর মূল কারণ ছিল, হাসিনার পতনের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০২৫ সালের মার্চে তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও জাল নথি তৈরির অভিযোগে মামলা করেছিল।

২০২৬ সালের ৩ জুলাই ডব্লিউএইচও’র কাছে পুতুলের আইনজীবীদের পাঠানো পৃথক একটি চিঠিতে বলা হয়, পুতুলের বিরুদ্ধে ‘চীন সফরের সঙ্গে সম্পর্কিত আর্থিক জালিয়াতি’ এবং তার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ এনেছে ডব্লিউএইচও। তবে এসব অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন পুতুল।

পদত্যাগপত্রে বলা হয়েছে, পুতুলের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একটি জমির প্লট অবৈধভাবে অধিগ্রহণের অভিযোগও এনেছে ডব্লিউএইচও। তবে তিনি দাবি করেছেন, ডব্লিউএইচওতে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি ওই জমি অধিগ্রহণ করেছিলেন। 

বুধবার গভীর রাতে ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদরোস আধানম ঘেব্রেসিউসের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে পুতুল বলেন, “আঞ্চলিক পরিচালক পদে নির্বাচিত হওয়ার উদ্দেশ্য ছিল আমার অঞ্চলের দেশগুলোর সেবা করা। আন্তরিকভাবেই সেই দায়িত্ব পালন করেছি আমি।”

তিনি লেখেন, “আপনি যেহেতু আমাকে কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনে বাধা দিয়ে যাচ্ছেন। তাই ডব্লিউএইচও’র নেতৃত্বের ওপর আমার সব আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়ে গেছে। তাছাড়া আমাকে বেতন ছাড়া ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তের পর প্রায় এক বছর ধরে কোনো পারিশ্রমিক না পাওয়ায় আমার আর্থিক পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে আমি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

পুতুল এই বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ডব্লিউএইচও তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি। গত মাসে সংস্থাটি জানিয়েছিল, পুতুল ছুটিতে রয়েছেন। তবে গোপনীয়তা বজায় রাখার কথা উল্লেখ করে তার বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায় সংস্থাটি।

এর আগে দুটি সূত্র জানিয়েছিল, পুতুলকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদ থেকে সরানোর পরিকল্পনা করছে জাতিসংঘের সংস্থাটি। এর মধ্যে একটি সূত্র জানিয়েছে, ডব্লিউএইচও আগামী ১২ অক্টোবর পদটির জন্য মনোনয়ন ঘোষণা করবে। ডিসেম্বরে আবেদনগুলো যাচাই করবে। আগামী ২৪ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় সূত্র দুটি তাদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হয়নি।

আঞ্চলিক পরিচালকরা বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী স্বাস্থ্যনীতি-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্যতম। তাদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে রোগের প্রাদুর্ভাব ও জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়া এবং স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডব্লিউএইচওর নীতিগুলো বাস্তবায়ন করা। আঞ্চলিক পরিচালকদের প্রতি পাঁচ বছর পর সদস্য দেশগুলো নির্বাচন করে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ও ভারত রয়েছে।

জুলাইয়ের ওই চিঠিতে আইনজীবীদের মাধ্যমে পুতুল ভ্রমণ সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “নিয়মিত খরচ ফেরত দেওয়ার আবেদন প্রক্রিয়া করার দায়িত্বে থাকা একজন সহকারীর প্রশাসনিক ভুলের কারণে ওই জটিলতা তৈরি হয়েছিল। যেখানে ৯০১ ডলার জড়িত ছিল।”

শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে পুতুল বলেন, “বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে আমার কাজের স্বীকৃতি হিসেবে আমি একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছি। এই যোগ্যতার বিষয়টি আমি ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদরোস আধানমের কাছে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলাম।”

বাংলাদেশ বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর