ঢাকা, ০৪ মার্চ সোমবার, ২০২৪ || ২১ ফাল্গুন ১৪৩০
good-food
৯৩

মধু আহরণে ভাঙছে সব রেকর্ড

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ০১:১৯ ২৯ জানুয়ারি ২০২৪  

স্বাদে ও মানে অনন্য হওয়ায় বেশ কদর আছে সরিষা ফুলের মধুর। এবার সিরাজগঞ্জে এই মধু আহরণে অতীতের সব রেকর্ড ভাঙতে চলেছেন মৌয়ালরা। সরিষার বাম্পার ফলন আর অনুকূল আবহাওয়াই মূল কারণ বলে জানিয়েছেন তারা।

 

যেন হলুদের চাদরে ঢেকে আছে ফসলের মাঠ। সিরাজগঞ্জের চলনবিল এলাকায় চাষ হওয়া সরিষা খেতের দৃশ্য এখন এমনই। বাম্পার ফলনে সুবিধা হয়েছে মৌয়ালদের। খেতের মাঝে বিশেষ পদ্ধতির তৈরি বাক্স বসিয়ে সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। 

 

এক মৌয়াল বলেন, এই অঞ্চলে প্রচুর সরিষার আবাদ হয়। এখান থেকে ব্যাপক পরিমাণে মধু সংগ্রহ করা হয়। যার গুণগত মান অনেক ভালো। বিভিন্ন কোম্পানিতে দারুণ চাহিদা রয়েছে।  আরেক মৌয়াল জানান, এক মণ মধু ৮ থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছরের চেয়ে এবার চাহিদা ভালো।  

 

মৌয়ালরা জানান, একেকটি বাক্সে রয়েছে ৭ থেকে ৮টি চাক। যেখানে ফুল থেকে মধু আহরণের পর তা জমিয়ে রাখে মৌমাছির দল। পরে তা প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে পাঠানো হয় ক্রেতা-ভোক্তার দোরগোড়ায়। 

 

এক মৌয়াল বলেন, এ বছর মধুর পরিমাণ ভালো, দরও বেশি। এটা বিক্রি করে আমরা লাভবান হচ্ছি। অন্যবারের চেয়ে এবার লাভ বেশি হচ্ছে। আরেক মৌয়াল বলেন, খেতের পর খেতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। পাশেই মৌমাছির খামার রয়েছে। এতে পরাগায়ন ঘটছে। ফলে সরিষার ফলনও বাম্পার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দুইভাবেই লাভবান হচ্ছি আমরা। 

 

সরিষা খেতে মধু আহরণে কেবল মৌয়ালরাই লাভবান হন তা নয়, এর মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় সরিষার উৎপাদন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বাবুল কুমার সূত্রধর এই দাবি করেন।

 

তিনি বলেন, ফুলের পরাগায়নের মাধ্যমে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ সরিষার ফলন বেশি হয়। পাশাপাশি মধু আহরণ করে মৌয়ালরা। এতে উভয়ভাবেই লাভবান হন তারা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে এ বছর সিরাজগঞ্জ থেকে পাওয়া যাবে অন্তত ৩৫০ টন মধু।