ঢাকা, ২৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার, ২০২৪ || ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০
good-food
৬৫৫

মানুষকে মূল্যায়ন করবেন কীভাবে?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২২:২০ ৭ ডিসেম্বর ২০২২  

আমরা খুব সহজেই মানুষকে বিচার করে ফেলি। নিজের জীবনের আলোকে, নিজের বুদ্ধি-জ্ঞানের ওজনে, নিজের দৃষ্টিভঙ্গি কষ্টি পাথরে অন্যকে বিচার করি। কিন্তু এই বিচার করার অধিকার আমাকে কে দিয়েছে? আর আমি কি হিসেবে নিজেকে শ্রেষ্ঠ ভেবে নিজের আকল-বুদ্ধি আর দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে অন্যকে বিচার করতে যাই? 

 

কেউ হয়তো নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ায়। অনেক প্রতিভাশালী-ক্ষমতাশালী হবার পরেও গ্রামে-গঞ্জে গিয়ে মানুষের জন্য কিছু করবে বলে পড়ে থাকে। তার অর্থ এই নয় যে, সে বাউন্ডুলে-দায়িত্বহীন মানুষ। কেউ যেটাকে ঠিক বলে মনে করে সেটার বিপরীত কিছুর সাথে আপোষ করবে না বলে- সেটার জন্য প্রয়োজনে সোনার থালার ভাত-মাংস উপেক্ষা করে দুবেলা পাউরুটি খেয়ে থাকছে।

 

এর অর্থ এই নয় যে সে বোকা-সোকা, দিন-দুনিয়ার কিচ্ছু বোঝে না, একটা আবাল। কেউ সত্যকে বা যেটাকে ন্যায় বলে বোধ করে তা প্রয়োজনে ঠাস ঠাস করে ন্যাংটা ভাষায় বলতে হলেও বলে ফেলে। তার অর্থ এই নয় যে সে উড়াধুরা ফাউল মানুষ। কেউ অন্যের সাথে অন্যায় হতে দেখলে, চুপ না থেকে অসহায় মানুষটার পক্ষ নিয়ে নিজে ক্ষতিগ্রস্থ হয় বারবার। তবুও অসহায় মানুষের পাশেই থাকে।

 

এর অর্থ এই নয় যে সে উদ্ধত, উগ্র কিংবা অসহনশীল। যে বারবার পড়ে গিয়েও উঠে দাঁড়ায়, খুঁড়িয়ে হলেও চলা থামায় না-এর অর্থ এটা নয় যে সেই মানুষটা একটা নির্লজ্জ। হতে পারে আমরা যারা শুধু নিজেদের জন্য বাঁচি, চলার পথে রাস্তার ফকিরকে দুটা টাকা দিয়ে ভাবি খুব সমাজসেবা করে ফেল্লুম। আমাদের যাদের নিজস্বতা বলে কিছু নেই-গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে নিরাপদ অনুভব করি। 

 

অন্যায়ের সাথে আপোষ করাটাকেই জীবন বলে মনে করি, বিপদে পড়া মানুষকে দেখেও নিজের নিরাপত্তার চিন্তায় না দেখার ভান করে পাশ কাটিয়ে যাই। আমরা যারা মিথ্যা বলাটাকে আধুনিক জীবনের একটা আর্ট বানিয়ে ফেলে ভাবি- আহ আমি কি স্মার্ট আর কি বুদ্ধিমান!

 

- তাদের চাইতে ওই সো-কল্ড বাউন্ডুলে-দায়িত্বহীনজ্ঞানহীন বোকা মানুষগুলা,  আবাল আর উড়াধুরা ফাউল মানুষগুলা, নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো অন্য রকম মানুষগুলা, আমাদের ভাষায় উদ্ধত, উগ্র, অসহনশীল আর নির্লজ্জ মানুষগুলা, আমাদের চাইতে অনেক বেশি সাহসী, সৎ, আত্মনির্ভরশীল, পরোপকারী, দয়ালু, নিরহংকারী, সহনশীল আর শান্তিপ্রিয় মানুষ। তাদের হয়তো কারো আশ্রয়ের প্রয়োজন হয় না। তারাই অন্যের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়।

 

তাই জাজমেন্টাল না হয়ে সামনের মানুষকে এটলিস্ট বোঝার চেষ্টা করি, বুঝতে না পারলে নিরব থাকি। কারণ, সামনের সেই মানুষটাকে বিচার করার ক্ষমতা আমার নাও থাকতে পারে। বোঝার চেষ্টা করা আর বিচার করা কিন্তু এক জিনিস না।