ঢাকা, ১৮ নভেম্বর সোমবার, ২০১৯ || ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
১৯২

সিজারের মাধ্যমে সন্তান জন্মদান হার কমছে চীনে

প্রকাশিত: ২২:১৩ ৫ জুলাই ২০১৯  


এক দশক আগেও সিজারিয়ানের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেয়ার হারে বিশ্বে অন্যতম শীর্ষ ছিল চীন। যে কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমালোচনার মুখে পড়তে হয় দেশটিকে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন।

বিশ্বব্যাপী সন্তান জন্ম দিতে সিজারিয়ান বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন চিকিৎসক গবেষকেরা। সাম্প্রতিক সময়ে সফলভাবে হার কমিয়ে এনেছে চীন। যদিও সিজারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেয়ার হার দেশটিতে এখনো স্ক্যান্ডেনেভিয় দেশগুলোর তুলনায় দ্বিগুণ। তবে সিজার বাড়ার হার দ্রুত কমছে।

সিজার কমার কারণ

গবেষকেরা বলছেন, চীন উল্লেখযোগ্যভাবে হার কমিয়ে আনতে সক্ষম হচ্ছে।  তবে ব্রাজিল কোন অগ্রগতি করতে পারেনি।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুশান হেলেরস্টেইন যৌথভাবে চীনের ১০ কোটির বেশি শিশু জন্মের তথ্য নিয়ে গবেষণা করেছেন। ২০১৭ সালে দেশটিতে প্রায় পৌনে কোটি শিশুর জন্ম হয়েছে স্বাভাবিক উপায়ে। অর্থাৎ সিজারিয়ান ছাড়াই।

অধ্যাপক হেলেরস্টেইন বলছেন, চীনে সিজারিয়ানের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেয়ার প্রবণতা কমে আসার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে।

মাতৃস্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ

শহরাঞ্চলে মধ্যবিত্তের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি

সিজারে উদ্বুদ্ধ করলে শাস্তির ব্যবস্থা

দেশটিতে এখন হাসপাতালে সিজার করতে ইচ্ছুক মায়েদের একেবারে শেষ পর্যায়েও নিরুৎসাহিত করেন চিকিৎসক নার্সেরা।

সরকারি নীতি

চীনে ২০১২ সাল থেকে সিজার কমে আসছে। ওই বছর প্রথমবার মা হতে যাওয়া ৬৭ শতাংশ নারী সিজারিয়ানের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেন। ২০১৬ সালে সেই সংখ্যা ৪৯ শতাংশে নেমে এসেছে। এর মধ্যে ২০১৩ সালে সিজার প্রক্রিয়ায় সন্তান নীতি শিথিল করা হয়। ২০১৫ সালে সেটি বাতিল করা হয়।

সিজার কমাতে সরকারের নেয়া নীতিকেই প্রধান কারণ মনে করা হয়। ২০০১ সালে চীনের স্বাস্থ্য নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। দেশটির সরকার এজন্য ১০ বছরব্যাপী এক পরিকল্পনা নেয়। তাতে সিজারিয়ানের হার কমানো অন্যতম একটি লক্ষ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

সেই বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, চীনে সিজারিয়ানের মাধ্যমে ৪৬ শতাংশ মা সন্তান জন্ম দেন। এখন দেশটিতে গর্ভবতী নারীদের প্রাকৃতিক উপায়ে সন্তান জন্ম দেয়া এবং বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য বাধ্যতামূলক ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এজন্য ধাত্রীদের প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে।

বর্তমানে সেখানে ধাত্রী প্রশিক্ষণের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, দেশটির হাসপাতালগুলোকে এজন্য সরকারের কাছে নিয়মিত জবাবদিহি করতে হয়। কোন হাসপাতালে সিজারিয়ানের সংখ্যা বাড়লে সেটির লাইসেন্স বাতিলসহ নানা ধরণের শাস্তি জরিমানার মুখে পড়তে হয়। এজন্য অনেক হাসপাতাল বন্ধও করে দেয়া হয়েছে।

সিজারিয়ানে সমস্যা

অনেক ক্ষেত্রে সিজারিয়ানকে জীবন রক্ষাকারী উপায় বলা হয়। কিন্তু একই সঙ্গে এটি ঝুঁকিপূর্ণও। কারণ, যেকোন বড় সার্জারির মতো এক্ষেত্রেও একজন মানুষের সেরে উঠতে সময় লাগে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বহুদিন ধরেই বলে আসছে, একদম অপরিহার্য বা স্বাস্থ্যগতভাবে অত্যাবশ্যক না হলে সিজার করা উচিত নয়।

কিন্তু এখনো অনেক দেশেই সিজারিয়ানের সময় মাতৃমৃত্যুর ঘটনা ঘটে। বলা হয়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেসব মায়েদের তা করানোর ব্যাপারটি স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে চিকিৎসক পরামর্শ দেননি।

স্ক্যান্ডেনেভিয়ান অনেক দেশে সিজারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেয়ার হার অনেক কম। কারণ, সেসব দেশের প্রথা স্বাভাবিকভাবে সন্তান জন্ম দেয়া। কিন্তু ব্রাজিলের মতো, অনেক দেশেই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সন্তান জন্ম দেয়ার ব্যাপারটি ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে।