ঢাকা, ১৮ জুলাই বৃহস্পতিবার, ২০১৯ || ২ শ্রাবণ ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
২১৮

স্বামী-স্ত্রীর আয়ে অধিকার বনাম বাস্তবতা

প্রকাশিত: ২৩:০৮ ১১ মে ২০১৯  


আমার পরিচিত এক নারী নিজের বেতনের সব টাকা স্বামীর হাতে তুলে দিতেন। এমনকি, তার ভিসা কার্ডটাও তার স্বামীর কাছে থাকতো। আমরা না বুঝে লোকটিকে লোভী বলে পিছে পিছে গালি দিতাম আর নারীটিকে বোকা।

 

পরে আমি দেখলাম, অনেক নারীই স্বামীর টাকা নিজের মনে করে বেতন পাবার সাথে সাথেই নিজের জিম্মায় রেখে দেয়। আবার অনেক নারীকেই দেখেছি স্বামীর ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড নিজের মনে করে যত্রতত্র খরচ করেন। তখন বুঝলাম শুধুশুধু লোকটিকে আমরা বকাবকি করেছি।

 

কোন পুরুষ শ্বশুরবাড়ির বিপদে আপদে এগিয়ে না এলে, আমরা যাচ্ছেতাই বাজে বলি। আমার দেখা অনেক নারীই শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের কিছু দিতে চায় না। এমনও শুনেছি, মাকেও টাকাপয়সা দিতে দেয় না।

 

কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম - ফেসবুকে একটা পোস্ট দেখছি, নারীদের টাকা বা সম্পত্তিতে স্বামীদের কোন অধিকার নাই। কেন নাই? স্বামীর সবকিছুতে যদি নারীর অধিকার হয়ে থাকে, যুক্তি অনুযায়ী নারীর সবকিছুতেও স্বামীর অধিকার আছে। কিন্তু, আমার যুক্তিতে দুইটাই ভালো না। একটা নির্দিষ্ট পরিমাণের পরে কোন মানুষের সম্পদেই অন্য কোন মানুষের অধিকার বা নিয়ন্ত্রণ থাকা ঠিক না।

 

আমার বেটারহাফের টাকায় আমার মা, বাবা, ভাই বোন অধিকার ফলালে সেটা যেমন ছোটলোকির মাত্রা ছাড়িয়ে যাবে, তেমন আমার আয়ে বা সম্পদে আমার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা ভাগ বসাতে আসলে সেটাও অন্যায় একটা ব্যাপার হবে।

 

এবার আসল কথায় আসি, নারীর সম্পদ বা সম্পত্তি নিয়ে সেই পোস্টটা ফেসবুকে ছড়ানো হয়েছে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর একটা ঘোষণার পর পরেই। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পিতামাতার সম্পত্তিতে ছেলে মেয়ে সমান অংশ পাবে। এর পরেই ফেসবুকে ঘুরছেঃ  নারীর সম্পত্তিতে স্বামীর হক নাই। সেটা আবার অনেক নারী খুশি মনে শেয়ার দিয়ে বেড়াচ্ছেন।

 

এতে খুশি হবার কিছু নাই, পুরুষরা যখনই দেখবে স্ত্রীর সম্পত্তিতে সে কিছুই পাবে না, বেশিরভাগই স্বভাবতই পিতামাতার সম্পদে ছেলে মেয়ে উভয়ের সমান অধিকার বিষয়ে তেমন আগ্রহ দেখাবেনা বা সেটার বিরোধিতা করে বসবে। ব্যতিক্রম অনেকেই আছেন যারা তাদের ছেলে আর মেয়েকে সমান চোখে দেখেন, তাদের কথা বলছি না, তাই কেউ অযথা গায়ে পেড়ে নিবেন না।

 

আমার মতে প্রতিটি মানুষ স্বাধীন এবং তাদের সম্পত্তি তারা কাকে দিবে, কিভাবে দিবে সেটা তার নিয়ন্ত্রণেই থাকা উচিত। জীবনসঙ্গী হিসেবে একটা অংশ নেয়া যেতে পারে বা পরামর্শ দেয়া যেতে পারে, কিন্তু সব আমার এই মানসিকতা থেকে বাইরে আসা জরুরি। বিশেষ করে নারীদের। পুরুষদের কাতারে আসতে হলে তাদের মতো করে দায়িত্বও নিতে হবে।

 

আমার পিতার কি আছে, আমার স্বামীর কি আছে, এইসব নিয়ে বসে না থেকে নারীদের উচিত নিজের গুণে নিজের সম্পদ করা। আর যারা বউদের টাকা থেকে আমরা কিছু পাই না বলে হতাশায় ভুগেন, তাদের উচিত নারীদের অবদানের মূল্যায়ন করা। আপনি তাকে নিজের সমান ট্রিট করলে তবেই না সে আপনার সমান দ্বায়িত্ব নেয়ার জন্য তৈরি হবে।