ঢাকা, ২৬ জুন শুক্রবার, ২০২৬ || ১২ আষাঢ় ১৪৩৩
good-food

১ শতাংশ ঘুম কমলেই ডিমনেশিয়ার ঝুঁকি বাড়ে ২৭%

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৫:২৯ ২৬ জুন ২০২৬  

আমরা সাধারণত ঘুমের গুণমান বিচার করি কত ঘণ্টা ঘুম হলো বা ঘুম থেকে উঠে কতটা সতেজ অনুভব করছি, তার উপর ভিত্তি করে। ভালো ঘুম না হলে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর গভীর প্রভাব পড়ে। মনোযোগের অভাব, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া, মানসিক বিরক্তি, এবং কার্যক্ষমতা কমে যায়। দীর্ঘস্থায়ী ঘুমের অভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং ওবেসিটি, টাইপ-২ ডায়াবিটিস, ও হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পায়।

তবে বিজ্ঞানীরা এখন ঘুমের বিভিন্ন স্তর নিয়ে আরও গভীর গবেষণা করছেন। সম্প্রতি JAMA Neurology পত্রিকায় প্রকাশিত তেমনই একটি গবেষণা উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ৬০ বছরের বেশি বয়সিদের ক্ষেত্রে প্রতি বছর গভীর ঘুম বা ‘ডিপ স্লিপ’-এর পরিমাণ মাত্র ১ শতাংশ কমে গেলেই ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি ২৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

ডিপ স্লিপ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? 

ডিপ স্লিপ বা ‘স্লো-ওয়েভ স্লিপ’ হলো ঘুমের এমন এক স্তর, যখন মস্তিষ্কের তরঙ্গ ধীর হয়ে যায়, হৃদস্পন্দন কমে আসে এবং শরীর বিশ্রাম ও মেরামতির কাজে মন দেয়। সাধারণত প্রায় ৯০ মিনিটের ঘুমচক্রের তৃতীয় ধাপ এটি। তবে শরীরের বিশ্রামের পাশাপাশি এই সময় মস্তিষ্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। 

ডিপ স্লিপের সময় মস্তিষ্কে জমে থাকা ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ ও ডিমেনশিয়া সম্পর্কিত প্রোটিন পরিষ্কার করা হয়। এই প্রোটিনগুলি দীর্ঘদিন জমতে থাকলে তা আলঝাইমার্সের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

গবেষণার প্রধান লেখক, অস্ট্রেলিয়ার মনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের টার্নার ইনস্টিটিউট ফর ব্রেন অ্যান্ড মেন্টাল হেলথের সহযোগী অধ্যাপক ম্যাথিউ পাসে জানান, ডিপ স্লিপ বার্ধক্যজনিত মস্তিষ্ককে নানা ভাবে সুরক্ষা দেয় এবং আলঝাইমার্সের সঙ্গে সম্পর্কিত ক্ষতিকর প্রোটিন দূর করতে সাহায্য করে।

কীভাবে গবেষণা করা হয়েছিল? 

এই গবেষণায় যুক্ত ছিলেন ৬০ বছরের বেশি বয়সি ৩৪৬ জন ব্যক্তি। তাঁদের দু’বার রাতভর ঘুমের পরীক্ষা করা হয়। প্রথম পরীক্ষা হয় ১৯৯৫-৯৮ সালের মধ্যে এবং দ্বিতীয়টি ২০০১-০৩ সালের মধ্যে। এরপর ২০১৮ সাল পর্যন্ত তাঁদের পর্যবেক্ষণ করা হয়।

অর্থাৎ প্রায় ১৭ বছর ধরে গবেষকরা অংশগ্রহণকারীদের অনুসরণ করেন। এই সময়ের মধ্যে ৫২ জনের ডিমেনশিয়া ধরা পড়ে। গবেষকরা বয়স, লিঙ্গ, জিনগত বৈশিষ্ট্য, ধূমপানের অভ্যাস এবং বিভিন্ন ওষুধ ব্যবহারের মতো বিষয়গুলিও নজরে রাখেন। তারপরও দেখা যায়, ডিপ স্লিপের প্রতি ১ শতাংশ বার্ষিক হ্রাস ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি ২৭ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়।

৬০ বছরের পর কী করবেন?

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিপ স্লিপ কমে যাওয়া স্বাভাবিক। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ৬০ বছরের পর ধীরে ধীরে এই ঘুম কমতে থাকে এবং ৭৫ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হ্রাস পায়। তাই বিষয়টি অনেক সময় স্বাভাবিক বার্ধক্যের অংশ বলে মনে হলেও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিপ স্লপের জন্য নিয়মিত সময়ে ঘুমনোর ও জাগার অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। অ্যালকোহল এড়ানো, শোওয়ার ঘর ঠান্ডা ও অন্ধকার রাখা এবং স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যার চিকিৎসা করানো জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চাও ডিপ স্লিপের গুণমান উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

লাইফস্টাইল বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর