জীবন এত ছোটো ক্যানে, মা?
লাইফ টিভি 24
প্রকাশিত: ২১:২৫ ২১ জুলাই ২০২০
১। সশস্ত্র বাহিনীতে করোনা চিকিৎসায় যখন আমার দায়িত্ব শুরু হল, কোয়ারান্টাইনের অংশ হিসেবে আমার মায়ের বাড়িতে যাওয়া তখন থেকে বন্ধ। একই নগরীতে থাকি। মোবাইলে কথা হয়। তখনও করোনা ঢাকায় রুদ্ররুপে প্রকাশ করেনি। মা শুধু আমাকে নিজের নিরাপত্তার কথা স্মরণ করিয়ে দিতেন।
চিকিৎসক হিসেবে এই ভয়াল রোগের থাবা থেকে মানুষকে বাঁচাতে লড়বার সৌভাগ্য তাঁর সন্তান পেয়েছে' এই আত্মতৃপ্তি মায়ের ছিল। আমি যেন বিভ্রান্ত না হই তাই নিজের অসুস্থতার কথা খুব একটা বলতেন না। বরং আমিই স্মরণ করিয়ে দিলাম তাঁর বয়স, উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগের কথা। মা মৃদু হাসেন। উল্টো আমাকে নির্ভাবনার কথা শোনান।
২। ' পিঁপড়ার ভয়ে মা না থুইলা মাটিত
কোলে নিয়া বুক দিয়া জগতে বিদিত
আশক্য আছিলুঁ মুই দুর্বল ছাওয়াল
তান দয়া হন্তে এই ধড় বিশাল। '
-----শাহ মোহাম্মদ সগীর
সগীর মনে হয় প্রায় ৬০০ বছর আগে দিব্য চোখে মা আর এই অর্বাচীনকে দেখতে পেয়েছিলেন। ছোটোবেলায় আমি ছিলাম লিকপিকে। এটা ওটা অসুখ লেগেই থাকতো। ক্লাশে বন্ধুরা আমার খর্বাকৃতি নিয়ে খেপাতো। আমি প্রায় ক্লাশ থেকে বাসায় ফিরে কাঁদতাম। মা বলতেন, 'তুই বড় হবি বাবা। ওদের থেকে অনেক বড়।' সেসব সাথীরা হারিয়ে গেছে। সেই শুকনো ছেলেটি সামরিক বাহিনীতে কমিশন পেয়ে গেলো।
ভাটিয়ারী মিলিটারি একডেমিতে ইংরেজি বিতর্ক হতো। আমি শুধু বুঝি আমার নিউরনে মা শক্তি যোগাচ্ছেন। কোথা থেকে আসতো অমিয় সব শব্দমালা! প্রতিপক্ষের ট্রেইনি অফিসারদের যুক্তি সহসাই খন্ডিত হতো শাণিত প্রত্যুত্তরে। সবাই এক সারিতে যখন দাঁড়াতাম দেখতাম বিশাল ধড় নিয়ে লম্বায় প্রায় সবাইকে ছাড়িয়ে গেছি। মা, দেখ পিঁপড়ার ভয়ে তুমি মাটিতে রাখনি, তোমার সেই ছেলে অস্ত্র হাতে ট্রেনিং করে!
৩। অনেকের মতোই আমার জীবনেও কষ্টের দিন ছিল। পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনে থিসিস করবার সময় ভয়ানক অনিশ্চয়তা আমাকে ঘিরে ধরল। আমি সরকারি কোয়ার্টার ছেড়ে মায়ের বাড়িতে চলে এলাম। রাতে বুড়ো খোকাটা মায়ের সাথেই ঘুমাতো। থিসিস ডিফেন্ড করছি, অভয় বানী দেয়া মায়ের স্মিত হাসিমাখা মুখটা মনে পড়ল। বুঝি, বুকে হাজার হাতির সাহস। আমার মুখ দিয়ে অনর্গল কথা বেরুচ্ছে। পরীক্ষা শেষে গাইড আমাকে বিজয়ের বার্তা জানিয়ে দিলেন।
৪। মায়ের কিছু 'প্যাশন ' ছিল। যৌতুকে দায়গ্রস্ত কন্যাদের বিয়ের ব্যবস্থা করা। দূর সম্পর্কের আত্মীয়, এমন কি অচেনা বেশ কিছু কন্যাকে পাত্রস্থ করেছেন ব্যাপক ঝুঁকি আর গাঁটের পয়সা খরচ করে। কারও মৃত্যুর সংবাদ শুনলে সেই বাড়িতে যাওয়া চাই-ই চাই। মুর্দা ধোয়ানোর কাজটি করতে মরহুমাদের অনেক নিকটজনই নানা ছুতায় পাশ কাটিয়ে গেলেও পবিত্র কাজটি করতেন পরম মমতায়।
৫। জীবনের বাঁকে বাঁকে ঝড় বন্যা এসেছে। আমি জানি একজোড়া চোখ সারারাত অশ্রুজলে ভিজেছে। জায়নামাজে দু'হাত তুলে সন্তানের মঙ্গল কামনা করেছেন। একদিনের কথা বলি। বিশেষ কিছু কাগজ মায়ের কাছে ছিল। সেগুলো হঠাৎ করে সেদিনই দরকার হল। সম্ভবত ড্রাইভার ছুটিতে ছিল। মা ধড়মড় আসতে যেয়ে পথে রক্তাক্ত হলেন। সেই ক্ষত লুকিয়ে মা আমার পাশে হাজির। হাজার সূর্যের আলোতে অন্ধকারের বিরুদ্ধে আরেকবার জ্বলে উঠলাম।
৬। সন্মিলিত সামরিক হাসপাতালের আইসিইউতে মায়ের লাইফ সাপোর্টে থাকা ৫ দিন ছুঁয়েছে। তাঁর কষ্ট হচ্ছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক আমার দিকে প্রশ্নবিদ্ধ চোখে তাকালেন। আমি সম্মতিসূচক মাথা নাড়ি। মা ' ডেডবডি 'হয়ে গেলেন। করোনা যুদ্ধে ক্লান্ত বাবা আজ সকালে রিলিজ হয়ে বাসায় ফিরেছেন। বোনটারও করোনার চিকিৎসা চলছে। আমার পাশে আমার একমাত্র ভাই, মামা। কাকে আমি সবার আগে বলব ' মরিলে কান্দিস আমার দায় রে, যাদুধন! '
৭। হয়তো নিষ্ঠুর পৃথিবী আমাকে আরও অনেক কঠিন দিনের মুখোমুখি করাবে। সেটিই জীবন। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত মাটি কামড়ে লড়াই করাটা মা- ই শিখিয়েছেন। আমি আমার ১০ বছরের শিশু সন্তানের দিকে তাকাই। কি নির্ভরতায় তার মায়ের পাশে ঘুমাচ্ছে! বড্ড ঈর্ষা। জীবনের চলার পথে আমার প্রাপ্তির খাতাটিও নেয়াত কম ভারী সেটি বলা যায় না! ললাট ভবিষ্যতে আরো কিছু দিতেও পারে। কিন্তু' মা' কে কখনই আর ফেরত দেবে না। মায়ের ডেথ সার্টিফিকেটটা যখন আমাকে তুলে দেয়া হল, তখনও মনে হচ্ছিল এটি অন্য কারো। ভুল করে আমার কাছে চলে এসেছে।
জীবন এত ছোটো ক্যানে, মা?
লেখক: মেজর খোশরোজ সামাদ
- অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা কে কোথায় ভোট দিচ্ছেন
- ‘এটা পাকিস্তানের নাটক ছিল’
- অসুস্থ পরীমণি, ফের পেছাল জেরা
- প্রধান উপদেষ্টাসহ ২৭ জনের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ
- ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিতে পারবেন যারা
- যেসব কারণে বাতিল হতে পারে আপনার ভোট
- জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট বৃহস্পতিবার, প্রস্তুতি সম্পন্ন
- নির্বাচনি মিছিলে অসুস্থ হয়ে ২ জনের মৃত্যু
- নির্বাচনের ইতিহাস: প্রাচীন থেকে আধুনিক
- ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানতে ৪ পদ্ধতি চালু করল ইসি
- ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোনে নিষেধাজ্ঞা
- বাংলাদেশকে ক্ষতিপূরণসহ ৩ শর্তে ভারতের বিপক্ষে খেলবে পাকিস্তান
- নির্বাচনে তিন সংগীতশিল্পীর যে প্রত্যাশা
- গোপালগঞ্জ–৩: কার হাতে যাচ্ছে হাসিনার আসন
- আমেরিকার ইতিহাসে আলোচিত ১১ নির্বাচন
- ‘আত্মঘাতী’ বইমেলায় অংশ নেবে না ৩২১ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান
- নির্বাচনে ছুটি ও রমজানে কর্মঘণ্টা নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন
- ৫ খাবার নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা
- ফোন রেকর্ড ফাঁস করলেন পরীমণি
- বুলবুলের আচমকা পাকিস্তান সফর নিয়ে মুখ খুললেন ফারুক
- NASA Opens Door to Personal Smartphones in Space
- Seed Paper: A Plantable Paper Turns Waste into Living Green
- বিহারি ক্যাম্পে মিললো একই পরিবারের চারজনের মরদেহ
- ববিতা, শফিক, আইয়ুব বাচ্চুসহ একুশে পদক পাচ্ছেন যারা
- রমজানে অফিস সময় নির্ধারণ
- বোতলজাত পানির চেয়ে কলের পানি নিরাপদ
- সন্তান জন্ম দিতে দেশ ছাড়ছেন বুবলী!
- চড়া দামে পিএসএলে দল পেলেন মোস্তাফিজ
- আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো: ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড, সাতজনের যাবজ্জীবন
- নির্বাচনে ভারতসহ বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ নাহিদের
- Seed Paper: A Plantable Paper Turns Waste into Living Green
- NASA Opens Door to Personal Smartphones in Space
- বিহারি ক্যাম্পে মিললো একই পরিবারের চারজনের মরদেহ
- এপস্টেইন নথিতে নাম নেই যে ৫ প্রভাবশালী রাষ্ট্রপ্রধানের
- রোজায় ৬৫০ টাকায় মিলবে গরুর মাংস, ৮ টাকায় ডিম
- বাচ্চাদেরও শেখান মানি ম্যানেজমেন্ট
- আ’লীগ সমর্থকদের পছন্দ বিএনপি, নতুনদের ঝোঁক জামায়াতে
- রমজানে অফিস সময় নির্ধারণ
- ঘুমের আগে দাঁত না মাজলে ক্ষতি হতে পারে হৃদ্যন্ত্রের
- নির্বাচনি মিছিলে অসুস্থ হয়ে ২ জনের মৃত্যু
- কাজ পাচ্ছেন না অঙ্কিতা
- নির্বাচনে ভারতসহ বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ নাহিদের
- শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত
- বদলে যাচ্ছে র্যাবের নাম, পোশাকও পাল্টাবে
- সন্তান জন্ম দিতে দেশ ছাড়ছেন বুবলী!
- আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো: ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড, সাতজনের যাবজ্জীবন
- রুনা লায়লার বিনিময়ে যা দিতে চেয়েছিল ভারত
- নাহিদের রিট খারিজ, ভোটে থাকবেন বিএনপির কাইয়ুম
- বোতলজাত পানির চেয়ে কলের পানি নিরাপদ
- ববিতা, শফিক, আইয়ুব বাচ্চুসহ একুশে পদক পাচ্ছেন যারা

