‘শিরক’ আখ্যা দিয়ে কেটে ফেলা হলো শতবর্ষী বটগাছ
লাইফ টিভি 24
প্রকাশিত: ০২:৩৭ ৭ মে ২০২৫
মাদারীপুর সদর উপজেলার শিরখাড়া ইউনিয়নের আলম মীরের কান্দি গ্রামের শতবর্ষী একটি বটগাছকে ঘিরে ‘পূজা-মানতের মত শিরক কাজ হচ্ছে’ এমন অভিযোগ তুলে সেটি কেটে ফেলেছেন স্থানীয় আলেমরা। গত সোমবার সকাল ৯টার দিকে তারা সেখানে গিয়ে গাছ কাটা শুরু করেন। এরপর একে একে ডালপালা থেকে শুরু করে দণ্ডায়মান কাণ্ডগুলো কেটে ফেলা হয়।
বটবৃক্ষ কাটার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেক স্থানীয় বাসিন্দা বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিরখাড়া ইউনিয়নের কুমার নদের আলম মীরের কান্দি গ্রামের খেয়াঘাটে প্রকৃতির নিয়মে জন্ম নেওয়া বটবৃক্ষটির ‘অলৌকিক ক্ষমতা’ রয়েছে বলে অনেকে বিশ্বাস করেন। সেই বিশ্বাস থেকে নদীর পাড়ের এই বটবৃক্ষে লাল শাড়ি ও কাপড় বেঁধে এবং মোমবাতি ও আগরবাতি জ্বালিয়ে অনেকেই মানত করেন। এই মানত করা ধর্মীয় দৃষ্টিতে ‘শিরক ও বিদআত’ (ইসলামি শাস্ত্রবিরুদ্ধ কাজ) বলে আখ্যা দিয়ে এই গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি সোমবার সকালে করাত দিয়ে গাছ কেটে ফেলেন।

শিরখাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বাবুল হোসেন বলছিলেন, “স্থানীয় কয়েকজন বটগাছটি কেটে ফেলেন। তারা গাছ কাটার বিষয়ে আমাদের কিছু জানায়নি। তবে লোকমুখে শুনেছি, যারা গাছ কেটেছে, তারা দাবি করেছেন- এই বটগাছে এসে মানুষ পূজা করে; মানত করে। অনেকে মনে করত, গাছটির অলৌকিক ক্ষমতা আছে।
তিনি বলেন, “এই বিষয়টিই এক শ্রেণির লোকজন মনে করেছে যে, বিদআত ও শিরক। এই অভিযোগ তুলে তারা গাছটি কেটে ফেলেছে। তাদের হাত থেকে এখন গাছও বাঁচতে পারতেছে না। এই হলো অবস্থা। এখন প্রশাসনের কাছে দাবি করছি, এই ঘটনার একটি সুষ্ঠু বিচার তারা করুক।”
গাছটি কেটে ফেলার বিষয়ে স্থানীয় পরিবেশ কর্মীরা মনে করছেন, ওই বটবৃক্ষ থেকে এই এলাকার প্রচুর মানুষ অক্সিজেন গ্রহণ করতেন। তাছাড়া বট গাছের ফল খেয়ে প্রচুর পাখি বেঁচে থাকত। বটবৃক্ষটি কেটে ফেলার সঙ্গে যারা জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও করেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল আহমেদ বলেন, “এই গাছটি তো মানুষের কোনো ক্ষতি করেনি। তবুও এক শ্রেণির লোক এখানে মানত করে তা মেনে নিতে না পেরে পুরো গাছটিকে হত্যা করলো। যা অত্যন্ত খারাপ একটি উদাহরণ হয়ে রইল। এই ঘটনা যাতে আবারো না ঘটে তার জন্য সরকারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার।”

এদিকে বট গাছ কাটা নিয়ে তোলপাড়া সৃষ্টি হলে মঙ্গলবার সকালে মাদারীপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বনবিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে যান। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মাদারীপুর বন নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের বন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমি সকালেই আলম মীরের কান্দি গিয়ে বট গাছটি দেখে এসেছি। গাছটির ৯০ শতাংশই কেটে ফেলা হয়েছে। মাটির সঙ্গে ১০ ফুট উচ্চতার দুটো মূলকাণ্ড ডালাপালা বিহীন দাঁড়িয়ে আছে। বাকি সব মূলকাণ্ড ও ডালাপাল কেটে ফেলা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমি গাছটির মালিক হান্নান হাওলাদারের সঙ্গে কথা বলেছি। মাত্র ১৫০০ টাকায় গাছটি বিক্রি করেছেন। অথচ গাছটির আর্থিক মূল্য এর চেয়ে অনেক বেশি হওয়ার কথা। আমরা তদন্ত করছি। তদন্ত প্রতিবেদন আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করব। পরে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
মাদারীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ বলেন, “এই বট গাছটি তো কারো কোনো ক্ষতি করেনি। এই গাছ আমাদের বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন দেয়। গাছে পাখিরা বাসা বাঁধে, ফল খায়। কিন্তু এই পুরনো বটগাছে বিভিন্ন ধরনের মানুষ নানা রকমের মানত করে, এটা কিছু লোকজন ভালো চোখে দেখে না। তাই তারা পুরো গাছটিকে নির্মমভাবে হত্যা করল। গাছের উপরের ডালপালাসহ নিজের গোড়ার অংশগুলোও কেটে ফেলা হয়েছে। এই ঘটনার যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করছি।”
মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব বলেন, “শিরখাড়ায় যে বট গাছটি স্থানীয়রা কেটে ফেলেছে। আমরা সেখানে প্রশাসনের লোক পাঠিয়েছি। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা এখন গা ঢাকা দিয়েছে। আমরা তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা গা ঢাকা দিয়েছেন, ফলে চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য সংগ্রহ করা যায়নি।”
- আমরা সমান, কেউ ছোট বা বড় নয়: ভারতের হাইকমিশনার
- সেগুন, মেহগনি নাকি গামারি: আসবাবের জন্য কোন কাঠ সেরা
- জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ১৪ জনের নামে মামলার আবেদন, তদন্তে সিআইডি
- দক্ষিণী অভিনেত্রীরা: কে সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পান
- নেপাল-তিব্বতে বন্যায় নিহত ১০০০ ছাড়ালো
- অবসরে মেসি: আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২১ বছরের রেকর্ড ও অর্জন
- রাগ নিয়ন্ত্রণের ১০ উপায়
- পপিকে খোঁচা জয়ের
- আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পাকিস্তানে
- ‘মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদান নিয়ে তাড়াহুড়োর কিছু নেই’
- যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের আরও উড়োজাহাজ কিনবে বাংলাদেশ
- র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের রুনা খান
- স্বামী-স্ত্রীর বয়সের ব্যবধান কত হওয়া উচিত?
- সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত ইমরান হাশমি
- গুমের আগে কোথায়, কীভাবে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন
- ব্যালন ডি’অরে রাজনীতি ঢুকেছে: মরিনহো
- ঢাকার যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর ৭ নির্দেশনা
- ৬ মাসে ২ লাখ জনশক্তি নিতে চায় মালয়েশিয়া
- নেপালে বিপর্যয়ের ৫ মাস আগেই দেওয়া হয়েছিল পূর্বাভাস
- রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের সাফল্য কামনা পুতিনের
- বন্ধু নাকি গোপন শত্রু, চেনার সহজ কৌশল
- অবশেষে নতুন সিনেমায় বাপ্পারাজ
- চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীতে গোসলে নেমে পাঁচ শিশুর মৃত্যু
- জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সফরে আসতে পারে ভারত
- রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার নতুন অধ্যায়: স্পিকার
- মক্কা চুক্তি সম্প্রসারিত হলে অন্যদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই
- রাষ্ট্রীয় দায়িত্বপালনে দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করব: রাষ্ট্রপতি
- প্রতিদিন লিকার চা খেলে শরীরে কী ঘটে?
- কেমন আছেন ইলিয়াস কাঞ্চন?
- ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফরম্যাট বদল, আইসিসির সমালোচনায় অজি কিংবদন্তি
- নেপালে বিপর্যয়ের ৫ মাস আগেই দেওয়া হয়েছিল পূর্বাভাস
- ‘সেরা ইউনিয়ন পরিষদ ও চেয়ারম্যান’ পুরস্কার দেওয়া হবে
- ‘অবিশ্বাস্য’ দামে বিক্রি ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ বল
- রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার নতুন অধ্যায়: স্পিকার
- ৯ বছরেও স্বদেশে ফেরা হয়নি রোহিঙ্গাদের
- প্রতিদিন লিকার চা খেলে শরীরে কী ঘটে?
- কেমন আছেন ইলিয়াস কাঞ্চন?
- চলতি অর্থবছরেই সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন
- থালাপতি বিজয়ে মুগ্ধ যশ
- জলে নয়, মুহূর্তে ডুবেছেন পূজা
- রাষ্ট্রীয় দায়িত্বপালনে দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করব: রাষ্ট্রপতি
- চিরতরুণ থাকতে খান জাম্বুরা
- চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীতে গোসলে নেমে পাঁচ শিশুর মৃত্যু
- বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মীকে মালয়েশিয়া পাঠাবে সরকার
- অবশেষে নতুন সিনেমায় বাপ্পারাজ
- খালেদকে দিলেও কেন শরিফুলকে কাউন্টিতে খেলতে দিলো না বিসিবি
- ব্যালন ডি’অরে রাজনীতি ঢুকেছে: মরিনহো
- সব অভিবাসী ভিসা আবেদন স্থগিত করলো যুক্তরাষ্ট্র
- ঢাকার যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর ৭ নির্দেশনা
- সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত ইমরান হাশমি

