ঢাকা, ১৬ মে শুক্রবার, ২০২৫ || ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২
good-food
৮৫৫

সিইসির পদত্যাগ দাবি ঐক্যফ্রন্টের

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২১:৫৫ ২৫ ডিসেম্বর ২০১৮  

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)  কে এম নূরুল হুদার পদত্যাগ দাবি করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে জরুরি বৈঠক শেষে এ দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

তিনি বলেন, এটা কোনো নির্বাচন হচ্ছে না। ভোটের নামে রক্তের হলি খেলা হচ্ছে। সব জায়গায় আমাদের প্রার্থীদের ওপর হামলা হচ্ছে। নারীরাও বাদ যাচ্ছে না।

এর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য  গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে দেখিয়ে বলেন, এটি হলো ২০১৮ সালের নির্বাচন। রক্তাক্ত সাবেক মন্ত্রী।

মির্জা ফখরুল বলেন, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরীও আক্রান্ত হয়েছেন। কাউকে বাদ দিচ্ছে না। এটা কোনো নির্বাচন নয়।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ, অকার্যকর। এটা জাতির সামনে প্রমাণ হয়েছে। এ মুহূর্তে সিইসির পদত্যাগ চাই আমরা। এখনই চাই তিনি পদত্যাগ করুন।

এরপর ঐক্যফ্রন্টের বিবৃতি পড়েন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে তিনি এটি পড়ে শোনান।

বিবৃতিতে বলা হয়, সারাদেশে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের ওপর হামলা, মামলা, নির্যাতনের বিষয়ে অবহিত করতে নির্বাচন কমিশনে গিয়েছিলাম ড. কামাল হোসেন ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে সিনিয়র নেতারা। কিন্তু আমাদের অভিযোগ শুনে সিইসি নূরুল হুদা সরকার দলীয় নেতার মতো আচরণ করেছেন।

এতে বলা হয়, সিইসি  ড. কামাল হোসেনসহ ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সঙ্গে যে আচরণ করেছেন তা ছিল অত্যন্ত অশোভন। ঐক্যফ্রন্ট নেতারা তাৎক্ষণিক ক্ষোভ জানিয়ে বৈঠক বর্জন করেন।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ দাবি করছি। রাষ্ট্রপতির কাছে আহ্বান করছি, যাতে নিরপেক্ষ কাউকে সিইসি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। কারণ এমন মেরুদণ্ডহীন কমিশনের কাছ থেকে সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করা যায় না।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা জনগণকে আহ্বান জানাব ঐক্য গড়ে তুলে দাবি আদায় করার।

এরপর মঙ্গলবার প্রচারণাকালে হামলার শিকার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, নির্বাচন কমিশনের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, ক্ষমতাসীনদের বিজয়ী করতে ইসি ‘৭১ সালের আল বদর, আল শামস বাহিনীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে জনগণ যেভাবে পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করেছে, ঠিক একইভাবে ৩০ তারিখের নির্বাচনে বর্তমান ক্ষমতাসীনদের পরাজিত করবে। আমরা বলতে চাই রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দেব।

এর আগে দুপুরে নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করে বৈঠক বর্জন করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।

বৈঠক বর্জন করে বিএনপি মহাসচিব ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সিইসির আচরণ ভদ্রজনিত ছিল না। এজন্য আমরা সভা বয়কট করেছি। তবে আমরা নির্বাচনে ফাঁকা মাঠে গোল দিতে দেব না।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় বৈঠক শুরু হয়। প্রায় দু’ঘণ্টার পর ২টার দিকে তারা বৈঠক বর্জন করেন। বৈঠক থেকে বের হয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

সংবাদ সম্মেলনের আগে বৈঠক থেকে ক্ষুদ্ধ ড. কামাল হোসেনও বেরিয়ে চলে যান।

নির্বাচন কমিশনের আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে  বৈঠকে বসে ঐক্যফ্রন্ট।

বৈঠকে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ আরো অনেকে।

ভোটের সব খবর বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর