হুমকির মুখে ১৬০ কোটি শ্রমিকের জীবিকা
লাইফ টিভি 24
প্রকাশিত: ১১:০৪ ৩০ এপ্রিল ২০২০
কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে থেমে গেছে গোটা বিশ্ব। লকডাউনের কারণে কাজের সুযোগ কমে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের ১৬০ কোটি শ্রমিকের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। এমনটাই সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠন আইএলও।
বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে আইএলও জানিয়েছে, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের এই কর্মীসংখ্যা বিশ্বের মোট শ্রমশক্তির প্রায় অর্ধেক।
চলতি বছরের শুরুতে নতুন ধরনের করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর শ্রমবাজারের ওপর এর প্রভাব নিয়ে গত মার্চে সমীক্ষা শুরু করে আইএলও। তারপর এপ্রিলের শুরুতে একটি এবং এপ্রিলের শেষে এসে তৃতীয় প্রতিবেদনটি তারা প্রকাশ করেছে, যেখানে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে বন্ধ রাখা হয়েছে বহু দেশের অর্থনীতির চাকা। ফলে চাকরির ওপর তৈরি হয়েছে মারাত্মক ঝুঁকি। আইএলওর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সেই ঝুঁকির চিত্রই উঠে এসেছে।
‘আইএলও মনিটর থার্ড এডিশন: কভিড-১৯ অ্যান্ড দ্য ওয়ার্ল্ড অব ওয়ার্ক’ শিরোনামে এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এসে (এপ্রিল থেকে) যে হারে কর্মঘণ্টা কমে যাচ্ছে তা আগের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি আশঙ্কাজনক।
২০১৯ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) যখন এ সঙ্কটের শুরু হয়নি, সেই সময়ের তুলনায় এখন বিশ্বজুড়ে শ্রমিকের কর্মঘণ্টা ১০ দশমিক ৫ শতাংশ কমে গেছে, যা প্রায় ৩০ কোটি পূর্ণকালীন চাকরির সমান (একটি ফুলটাইম চাকরিতে সপ্তাহে ৪৮ কর্মঘণ্টা ধরা হয়)।
আইএলও বলছে, এই সঙ্কটে বিশ্বজুড়ে শ্রমিকের কর্মঘণ্টা ৬ দশমিক ৭ শতাংশ কমতে পারে, যা প্রায় ১৯ কোটি পূর্ণকালীন চাকরির সমান। কিন্তু দেশে দেশে লকডাউন দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে ক্ষতি হচ্ছে ধারণার চেয়ে অনেক বেশি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন অঞ্চলভেদে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। আইএলওর পূর্বাভাস বলছে, ২০২০ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দুই আমেরিকায় কর্মঘণ্টা হিসেবে শ্রমিকের কাজের সুযোগ সঙ্কট শুরুর আগের সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে যেতে পারে। একইভাবে ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ায় ১১ দশমিক ৮ শতাংশ এবং বিশ্বের অন্যান্য অংশে সাড়ে ৯ শতাংশ কমতে পারে।
অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতি
বিশ্বে বর্তমানে কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা ৩৩০ কোটি। এর মধ্যে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত আছে দুইশ কোটি মানুষ, যারা দৈনিক মজুরি বা কর্মঘণ্টার ভিত্তিতে বিভিন্ন কাজ করেন।
বাংলাদেশে কৃষি, মৎস্য চাষ ও প্রক্রিয়াকরণ, নির্মাণ কাজ, হকার, চাতাল, সেলাই কাজ, ওয়েল্ডিং, তাঁত, বিড়ি কারখানা, প্রিন্টিং, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান, ইটভাটা, গৃহস্থালি কর্ম, ক্ষুদ্র কারখানা প্রভৃতি খাতকে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত হিসেবে গণ্য করা হয়।
আইএলও বলছে, মহামারীর কারণে সৃষ্টি অর্থনৈতিক সঙ্কটের ফলে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের প্রায় ১৬০ কোটি কর্মীর জীবিকা অর্জনের সুযোগ বা সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে বা কমে যাবে। অর্থাৎ পৃথিবীর মোট কর্মজীবী মানুষের অর্ধেকই কভিড-১৯ এর অভিঘাতের শিকার হচ্ছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জানুয়ারিতে সঙ্কট শুরুর প্রথম মাসে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের আয় ৬০ শতাংশ কমে গেছে বলে ধারণা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে আফ্রিকা ও আমেরিকায় কমেছে ৮১ শতাংশ, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ২১ শাতাংশ এবং ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ায় ৭০ শতাংশ।
বাংলাদেশে আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর টোমো পুটিয়ানেন বলেন, “নারী, নবীন, বৃদ্ধ (যাদের বয়স ৫৫ বছরের বেশি), অভিবাসী এবং যারা আত্মকর্মসংস্থানে রয়েছেন, তাদের জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে কভিড-১৯ এর প্রভাবে। নবীন ও তরুণরা ইতোমধ্যে কর্মহীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।”
পোশাক খাত
প্রায় চার হাজার কারখানা নিয়ে তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগের যোগান দিচ্ছে। এ খাতে সরাসরি কাজ করছে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক, যাদের অর্ধেকের বেশি নারী।
গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম কভিড-১৯ রোগী ধরা পড়ার পর থেকে বেতন ভাতা, চাকরিচ্যুতি ও কর্মক্ষেত্রের ঝুঁকি নিয়ে টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে এ খাত। অনেক পোশাক কারখানা এখনও মার্চ মাসের বেতন পরিশোধ করতে পারেনি। লে-অফ ও ছাঁটাইয়ের খবরও এসেছে কয়েকটি কারখানা থেকে।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি বাবুল আকতার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এই পরিস্থিতিতে এখনই ৯০ শতাংশ পোশাক কারখানায় লে অফ হয়ে গেছে। বিজিএমইএ হয়ত ৭০ শতাংশ কারখানায় লে অফ হয়েছে বলতে চাইবে। কিন্তু প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি।
“অনেকে আবার সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর পেছনের তারিখে লে অফ ঘোষণা করছে। ১৪ হাজার শ্রমিককে ছাঁটাইয়ের তথ্য আমাদের কাছে আছে। এর বাইরেও অনেকে ছাঁটাই হয়েছে। সব মিলিয়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি।”
ব্যবসার ভরা মৌসুমে প্রাণঘাতি ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে লকডাউন ও দোকানপাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশীয় পোশাকখাতও।
দেশীয় পোশাক ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘ফ্যাশন উদ্যোগের’ সহ সভাপতি সৌমিক দাস বলেন, প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের এই খাতে গত বৈশাখ ও চলতি ঈদের মওসুমে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ অবরুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে। পোশাক বিক্রি থেমে যাওয়ায় এ খাতের শ্রমিকদের বেতনভাতা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে মালিকদের পক্ষে।
আইএলও বলছে, করোনাভাইরাস সঙ্কটে বিশ্বব্যাপী ৪৩ কোটি ৬০ লাখ ব্যবসায়িক উদ্যোগ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে ২৩ কোটি পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীক উদ্যোগ রয়েছে। চার কোটি রিয়েল এস্টেট ও অন্যান্য ব্যবসাও রয়েছে এর মধ্যে।
এই পরিস্থিতিতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শ্রমিকদের সুরক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে বলছে আইএলও।
তাদের পরামর্শ, এই প্রণোদনা হতে হবে খাতভিত্তিক এবং ঋণ হতে হবে সহজ শর্তের। ঋণ সঙ্কট দূর করার পাশাপাশি থোক বরাদ্দ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোও আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
পুটিয়ানেন বলেন, “ব্যবসা, কর্মসংস্থান ও শ্রমিকদের সুরক্ষায় সঠিক উদ্যোগ নিতে পারলেই কেবল আমাদের অর্থনীতি ও সমাজ কভিড-১৯ এর ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।“
উল্লেখ্য, মরণঘাতী করোনাভাইরাসে বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৩২ লাখ ২০ হাজার ১৪৮ জনে দাঁড়িয়েছে। ২১০টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাস বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ৯টা পর্যন্ত ২ লাখ ২৮ হাজার ২১৫ জন মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়ার্ল্ডমিটারে এ সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়েছে।
আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১০ লাখ ৩০৩ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ১৯ লাখ ৯১ হাজার ৬৩০ জন। তাদের মধ্যে ১৯ লাখ ৩১ হাজার ৮১৯ জনের শরীরে মৃদু সংক্রমণ থাকলেও ৫৯ হাজার ৮১১ জনের অবস্থা গুরুতর।
- প্রথম ধাপে ১০৫০ ইউপিতে ভোট, বাদ ইভিএম
- হাসিনাকে ফেরাতে এক্সট্রাডিশন চুক্তির আওতায় ভারতকে অনুরোধ
- গেম খেলে মানুষকেও টেক্কা দিচ্ছে এসব প্রাণী!
- অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার সময় কোন কোন খাবার খেলে ভালো?
- চলতি মাসে কপাল খুলবে ৪ রাশির
- রেনেসাঁ মানব মাইকেল এঞ্জেলো
- কেন এনসিপি ছাড়ছেন আলোচিত নেত্রীরা?
- চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, সিলেট পুনরুদ্ধারের সময় এসেছে: বিজেপি এমপি
- আলু ফুলকপির ডালনা তৈরির সহজ রেসিপি
- নতুন বাড়িতে ওঠার সময় যেসব বিষয় খেয়াল করবেন
- দিনে কত কাপ চা পান করা উচিত
- এনসিপি থেকে সামান্তা শারমিনের পদত্যাগ
- বিনা খরচে ১১২ কর্মী নেবে মালয়েশিয়া, বেতন ১৭০০ রিঙ্গিত
- টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, সেনা নিহত
- স্যরি বলতে নাকি শুনতে বেশি ভালো লাগে?
- স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের যে ৫ বিষয় অনুকরণ করেন
- ট্রাম্পের রাজনীতি, পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনীতির ভবিষ্যৎ কী
- রঙিন আতশবাজির পেছনের বিজ্ঞান
- খেলাপি সিটি গ্রুপকে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিতে আইন শিথিল
- হামের টিকা: অন্তর্বর্তী সরকারের অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন
- প্রেম-বিয়ে-মৃত্যু, সবকিছুতেই মানুষ ফুল দেয় কেন?
- ৪৮ বছর পানি পান করেননি বাফেট? নেপথ্যে কী
- এসআরবির নতুন মহাপরিচালক ফারুক আহমেদ
- দফাদার এখন ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’, মহল্লাদার ‘গ্রাম পুলিশ’
- ভিডিও কলে শুধু কবুল পড়ে বিয়ে করলে কি বৈধ হয়?
- আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগে দল পেলেন সাকিব, নাহিদ ও শামীম
- কেউ দ্রুত ঘুমিয়ে পড়েন, আবার কারও দেরি হয়: নেপথ্যে কী
- অনন্য রেকর্ডের সামনে মেসি
- ২০২৭ সালে সরকারি ছুটি কতদিন, জানা গেল
- ঘরের ভেতর অলৌকিক ‘জোড়া কবর’
- কেউ দ্রুত ঘুমিয়ে পড়েন, আবার কারও দেরি হয়: নেপথ্যে কী
- অনিয়ম পেলে সারের ডিলারশিপ বাতিল: কৃষিমন্ত্রী
- মধ্যবর্তী নির্বাচনে হেরে গেলে ট্রাম্পের কী হবে?
- স্যরি বলতে নাকি শুনতে বেশি ভালো লাগে?
- ভিডিও কলে শুধু কবুল পড়ে বিয়ে করলে কি বৈধ হয়?
- ২০২৭ সালে সরকারি ছুটি কতদিন, জানা গেল
- বিনা খরচে ১১২ কর্মী নেবে মালয়েশিয়া, বেতন ১৭০০ রিঙ্গিত
- আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগে দল পেলেন সাকিব, নাহিদ ও শামীম
- স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের যে ৫ বিষয় অনুকরণ করেন
- অনন্য রেকর্ডের সামনে মেসি
- আলু ফুলকপির ডালনা তৈরির সহজ রেসিপি
- রঙিন আতশবাজির পেছনের বিজ্ঞান
- প্রেম-বিয়ে-মৃত্যু, সবকিছুতেই মানুষ ফুল দেয় কেন?
- হামের টিকা: অন্তর্বর্তী সরকারের অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন
- ঘরের ভেতর অলৌকিক ‘জোড়া কবর’
- ৪৮ বছর পানি পান করেননি বাফেট? নেপথ্যে কী
- ট্রাম্পের রাজনীতি, পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনীতির ভবিষ্যৎ কী
- এসআরবির নতুন মহাপরিচালক ফারুক আহমেদ
- কেন এনসিপি ছাড়ছেন আলোচিত নেত্রীরা?
- নতুন বাড়িতে ওঠার সময় যেসব বিষয় খেয়াল করবেন











