ঢাকা, ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার, ২০২৬ || ৮ ফাল্গুন ১৪৩২
good-food
১১

আসিফ নজরুলের ‘মিথ্যাচার’ নিয়ে স্তম্ভিত সালাউদ্দিন

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৯:৪৬ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

প্রথমবার বাংলাদেশকে ছাড়াই আয়োজিত হয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। অন্যান্য দেশের ক্রিকেটাররা যখন বিশ্বমঞ্চে মাতাচ্ছেন চার-ছক্কায় তখন অবসর সময় কাটছে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। দেশের জন্য বিশ্বকাপ না খেলার মতো সিদ্ধান্ত নীরবে মেনে নিয়েছেন লিটন দাসরা।

অথচ সেই ক্রিকেটারদের ওপরই বিশ্বকাপ না খেলার দায় চাপিয়ে দিয়েছিলেন সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। যিনি নিজেই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলকে না পাঠানোর ব্যাপারে অনড় ছিলেন। নিজেই জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত সরকারের। অথচ সপ্তাহ না ঘুরতে নিজের কথা ঘুরিয়ে দায় চাপিয়েছেন ক্রিকেটারদের ওপর।

আসিফ নজরুলের এমন মিথ্যাচার নিয়ে রীতিমতো স্তম্ভিত বাংলাদেশ দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। বিশ্বকাপ না খেলতে পেরে ক্রিকেটারদের মানসিক অবস্থা কতটা খারাপ ছিল সেই ব্যাখ্যাও দিলেন তাসকিনদের কোচ।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে কম নাটকীয়তা হয়নি। দফায় দফায় বৈঠক শেষেও সরকার ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বিশ্বকাপ ভারতে না খেলার ব্যাপারে অনড় ছিল।

এ ব্যাপারে ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠক করে নিজেদের অবস্থান পরিস্কার জানিয়ে দেন তখনকার ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। সে সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপ না খেলা সরকারের সিদ্ধান্ত।

অথচ পরে নিজের বক্তব্য পাল্টে আসিফ নজরুল জানান, এটি সরকারের নয়, বরং বিসিবি এবং ক্রিকেটারদের সিদ্ধান্ত ছিল। গত ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি বিশ্বকাপ না খেলা ইস্যুতে বলেছিলেন, “কোনো রিগ্রেটের প্রশ্নই আসে না। আমাদের কী সিদ্ধান্ত, সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং খেলোয়াড়েরা। তারা নিজেরা স্যাক্রিফাইস করেছে দেশের ক্রিকেটের নিরাপত্তার জন্য, দেশের মানুষের নিরাপত্তার জন্য। মানুষের মর্যাদা রক্ষার জন্য ভূমিকা রেখেছে।“

আসিফ নজরুলের দুই রকমের বক্তবে রীতিমতো অবাক ক্রিকেট পাড়া। এ ব্যাপারে আজ শুক্রবার মুখ খুলেছেন বাংলাদেশ দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।

মিরপুরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিশ্বকাপ ইস্যূতে সালাউদ্দিন বলেন, “উনি খাঁড়ার ওপর এরকম মিথ্যা কথা বলবে আমি আসলে ভাবতেও পারছি না। আমি কিভাবে আসলে ছেলেদের সামনে মুখ দেখাবো। উনি একজন শিক্ষক মানুষ, ঢাকা ইউনিভার্সিটির শিক্ষক। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের একজন শিক্ষক এভাবে মিথ্যা বলবে আমরা আসলে এটা মানতে পারতেছি না।“

বিশ্বকাপ না খেলতে পেরে ক্রিকেটাররা কতটা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন সেই ব্যাখ্যা দিয়ে কোচ বলেন, “আমি তো জানি আমার দুইটা খেলোয়াড় কোমাতে চলে গিয়েছিল। পাঁচ দিন ধরে কোথায় যেন হারায় গিয়েছিল তারা। আমরা তাদের (অদম্য কাপ) টুর্নামেন্টে মাঠে ফিরিয়ে আনতে পেরেছি ওইটাই বেশি। এটা একজন কোচ হিসেবে সবচেয়ে বড় সাফল্য আমার জীবনে। একটা ছেলে যখন বিশ্বকাপ খেলবে, এটা তার স্বপ্ন, তার ২৭ বছরের স্বপ্ন এখানে নিয়ে এসেছে। একটা দলকে আপনি এক সেকেন্ডে নষ্ট করে দিয়েছেন। টাকা-পয়সা এখানে ছোট ইস্যু, বিশ্বকাপ খেলা একজন মানুষের স্বপ্ন।“

খেলাধুলা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর