ঢাকা, ৩০ মার্চ সোমবার, ২০২০ || ১৬ চৈত্র ১৪২৬
good-food
৫৭

করোনাভাইরাস: বাড়ি ফেরা সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে আরও ১০ দিন

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৭:৪৬ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

নতুন করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে চীনের উহান থেকে দেশে ফেরা ৩১২ জন দুই সপ্তাহ পর্যবেক্ষণ শেষে বাড়ি ফিরে গেলেও আরও দশ দিন তাদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছে সরকারের রোগ তত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান, আইইডিসিআর।

রোববার আইইডিসিআরের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সেব্রিনা ফ্লোরা এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “৩১২ জনের সবাই সুস্থ আছেন। কোয়ারেন্টিন শেষ করা কারও মধ্যে করোনা ভাইরাসের লক্ষণ বা উপসর্গ ছিল না। তাদের মধ্যে করোনাভাইরাস নেই- এ রকম ছাড়পত্র দেওয়ার পর সবাই বাড়ি ফিরে গেছেন।”

তারপরও ‘অতিরিক্ত সতর্কতা’ হিসেবে তাদের আরও ১০ দিন নজরে রাখা হবে জানিয়ে অধ্যাপক ফ্লোরা বলেন, “তারা যেন জনসমাগম এড়িয়ে চলেন। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে তারা যেন বাড়িতে অবস্থান করেন। বাড়ির বাইরে গেলেও মাস্ক ব্যবহার করবেন।”

গতবছরের শেষ দিন চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে নতুন ধরনের করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে। এ ভাইরাস ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে ২৫ দেশে, মৃত্যু হয়েছে ১৬৬৯ জনের। 

গত ১ ফেব্রুয়ারি একটি বিশেষ বিমানে করে ৩১২ জন বাংলাদেশিকে উহান থেকে ফিরিয়ে আনা হয়। তাদের মধ্যে ৩০১ জনকে আশকোনার হজ ক্যাম্পে ‘কোয়ারেন্টিনে’ রাখা হয়। বাকি ১১ জনকে রাখা হয় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে।

দুই সপ্তাহ পর্যবেক্ষণ শেষে শনিবার  স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে তাদের সবাইকে স্বাজনদের সঙ্গে বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। 

‘অতিরিক্ত সতকর্তা’ হিসেবে তাদের ‘কন্ডিশনাল রিলিজ’ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে আইইডিসিআর পরিচালক বলেন, “আগামী দশ দিনের মধ্যে তাদের শরীরে কোনো লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দিলে আইইডিসিআরকে সঙ্গে সঙ্গে জানাতে হবে।”

সেজন্য তাদের যোগাযোগের ফোন নম্বর, ঠিকানাসহ সব তথ্য রেখে দিয়েছে আইইডিসিআর। তারা যে যেখানে থাকবেন, সেখানকার সিভিল সার্জন বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নিয়মিত যোগাযোগ করা হবে। আইইডিসিআরের সঙ্গে যোগাযোগের সব নম্বরও তাদের দিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান অধ্যাপক ফ্লোরা।

সব মিলিয়ে ২৪ দিন নজরদারির কারণ ব্যাখা করে তিনি বলেন, আইইডিসিআর সবকিছুই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী করছে। ২৪ দিন রাখার বিষয়ে ইউএস সিডিসির একটি গবেষণাপত্রে পরামর্শ পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবেই আইইডিসিআর ২৪ দিনের বিষয়টিতে গুরুত্ব দিচ্ছে।

“বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডকুমেন্টে লেখা আছে সর্বোচ্চ ১৪ দিন। ১৪ দিন তারা সেখানে অবস্থান করেছে। তাদের মধ্যে কোনো লক্ষণ উপসর্গ ছিল না। বাকি ১০ দিন আমরা অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে আমরা তাদেরকে নেটওয়ার্কের মধ্যে রেখেছি।”

পুরো কোয়ারেন্টিন কার্যক্রম পরিচালনায় যুক্ত সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আইইডিসিআর পরিচালক বলেন, দেশে এখন পর্যন্ত ৬৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে কারও শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি মেলেনি।

অপরাধ বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর