ঢাকা, ১১ জুলাই শনিবার, ২০২০ || ২৭ আষাঢ় ১৪২৭
good-food
১০২

করোনা আক্রান্ত চাকরির বাজারে টিকে থাকবেন যেভাবে

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২১:০১ ১৩ জুন ২০২০  

বিশ্বজুড়ে মানুষের জীবনে ব্যাপক বিরূপ প্রভাব ফেলেছে চলমান মহামারী করোনা। জীবিকাতেও থাবা বসিয়েছে সর্বগ্রাসী এ ভাইরাস। এর কবলে পড়ে উপার্জনের প্রায় সব পথই অবরূদ্ধ হয়ে পড়েছে। কেতাদুরস্ত কর্পোরেট থেকে মাঝারি ব্যবসায়ী কিংবা খুচরা উদ্যোগও ঝিমিয়ে তথা মুষড়ে পড়েছে।

ইতিহাস বলছে, এর আগে যতবার মন্দা এসেছে, তা কাটিয়ে উঠতে বেশ সময় নিয়েছে বিশ্ববাজার। এবারের মহামন্দাও বেকারত্বের ছবি পাল্টাতে ঢের সময় নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে মানুষের আয় ও ব্যয় সঙ্কুচিত হচ্ছে। বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবার চাহিদা কমছে। ফলে চলতি বছরের গোড়ায় যে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল, সেই জায়গায় ফিরতে সময় লাগবে আরও কয়েক বছর। 

তো সঙ্কটজনক এ সময়ে সাধারণ মানুষের করণীয় কী কী হতে পারে-

প্রথমত, কঠিন হলেও মেনে নিতে হবে রূঢ় বাস্তবতাকে। অর্থনীতির পরিভাষায় বাজারের অংশ হিসেবেই নিজেদের দেখতে হবে। যেখানে আমরা নিজেদের শ্রম, দক্ষতা অথবা প্রতিভা বিক্রি করি। আমাদের কর্মদক্ষতা বা মেধাকে অর্থের বিনিময়ে কিনে নেন চাকরিদাতা। 

এ মুহূর্তে বাজারে ক্রেতার তুলনায় বিক্রেতার সংখ্যা বেশি। সেক্ষেত্রে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতামূলক এ চাকরির বাজারে কীভাবে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে হবে, তা আয়ত্ত করতে হবে। 
সাধারণত যেকোনও জবের ক্ষেত্রে দেখা যায়-শিক্ষানবিশ, নবীন, নবাগত বা নতুনদের মধ্যে প্রমাণ করার তাগিদ থাকে। অপেক্ষাকৃত

পুরনো বা অভিজ্ঞদের মধ্যে সেই উৎসাহ কমে আসে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে।
কিন্তু এ ভয়াবহ পরিস্থিতিতে প্রত্যেকের মধ্যেই নিজেকে প্রমাণ করার প্রচেষ্টা চলছে এবং তা থাকা বাঞ্ছনীয় বটে। তাই সাবধানে প্রতি পা বাড়াতে হবে। 

কোনও নতুন চাকরি, পদোন্নতি বা পুরনো চাকরি পুনর্নবীকরণের ক্ষেত্রেও বাছাই করা হয় অন্যদের সাপেক্ষেই। চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সময়েও সেই একই রীতি কার্যকর হয়। এখনও ওই পদক্ষেপই নেয়া হবে। সুতরাং সাবধান, যা বলবেন বা করবেন তা অবশ্যই বুঝে শুনে।

নিজের দক্ষতা ও ক্ষমতা নিয়েও সঠিক ধারণা থাকতে হবে। পাশাপাশি খুঁজতে থাকুন নতুন কাজের বাজার। দরকারে পেশা পরিবর্তনেরও প্রয়োজন হতে পারে। বুকে সাহস নিয়ে তা করুন।

মানসিক প্রস্তুতিরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পাশাপাশি কঠিন হলেও এ সময়ে ইতিবাচক (পজিটিভ) থাকতে হবে। কারণ এ পরিস্থিতিতে দু’টি পথ খোলা আছে। হয়, নিজেকে ছাড়া বাকিদের দোষারোপ করে পরাজয় স্বীকার করে নিতে হবে। নয়তো নিজেকে পরিবর্তন করে বাস্তবের মুখোমুখি হতে হবে। 

সর্বোপরি, কোনোভাবেই উচ্ছৃঙ্খল হওয়া যাবে না। রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। খারাপ লাগলেও সেসব হজমের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। সবার সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করতে হবে। নিয়মশৃঙ্খলার বিকল্প নেই।