ঢাকা, ২২ মার্চ রোববার, ২০২৬ || ৭ চৈত্র ১৪৩২
good-food
৩০৪

কী আছে এপস্টেইন ফাইলসে?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২১:১৩ ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

‘এপস্টেইন ফাইলস’! শুনলে মনে হয়, নেটফ্লিক্সে সদ্য মুক্তি পাওয়া কোনও সিরিজের নামই হয়তো হবে। কিন্তু এটি বাস্তবের এমন এক দলিলভান্ডার, যেখানে জড়িয়ে আছে অর্থ, ক্ষমতা, প্রভাব আর অপরাধের অস্বস্তিকর সব যোগসূত্র।

 

মার্কিন ধনকুবের জেফ্রি এপস্টেইনের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন নির্যাতন ও পাচারের অভিযোগে যে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া চলে, তারই আদালত–নথি, সাক্ষ্য, যোগাযোগের তালিকা, ফ্লাইট লগ, ব্যক্তিগত ডায়েরি—সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এই ‘ফাইলস’।

 

আলোচনা তুঙ্গে ওঠে তখনই, যখন এসব নথিতে রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, সেলিব্রিটি, এমনকি রাজপরিবারের সদস্যদের নামও ঘুরে ফিরে আসে। এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপ, প্রাসাদোপম বাড়ি আর ব্যক্তিগত বিমানে কারা যাতায়াত করতেন, এইসবই আজকে আলোচনার বিষয়।

 

এই ‘ফাইলস’ নিয়ে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে প্রশ্ন-

 

কে কী জানতেন, কে কতটা জড়িত ছিলেন, আর কে নীরব ছিলেন—এই ধোঁয়াশাই কৌতূহলকে বাড়িয়ে তোলে।

২০১৯ সালে কারাগারে এপস্টেইনের রহস্যজনক মৃত্যু পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে। ফলে ‘এপ্সটেইন ফাইলস’ আর শুধু এক অপরাধীর গল্প নয়; এটি হয়ে ওঠে ক্ষমতাবানদের দায়বদ্ধতা, বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং গ্লোবাল এলিটদের নিয়ে বৈশ্বিক বিতর্কের প্রতীক।

 

“এপস্টেইন ফাইল” নামটা শুধুই একটি কাগজ নয়; এটি জেফ্রি এপস্টেইনের পুরো জীবন, তার অপরাধ, মামলা এবং তদন্তের তথ্যের সংকলন। মিডিয়া, তদন্তকারীরা, এমনকি গবেষকরা যখন তার কেস নিয়ে রিপোর্ট তৈরি করে, তখন সংক্ষেপে এই নাম ব্যবহার করা হয়।

 

ফাইলটির তিনটি দিক-

একটি আদালতের নথি, আরেকটি হলো অভিযোগ ও অন্যটি এলাকাভিত্তিকঘটনা। এটিকে আমরা বলতে পারি ক্ষমতার আড়ালে লুকানো কেলেঙ্কারির সংরক্ষিত রেকর্ড। ‘এপস্টেইন ফাইল’ নামটি তাই এমন একজন ধনী ব্যবসায়ীর গল্প বলে, যিনি বৈশ্বিক সেলিব্রিটি ও প্রভাবশালীদের সঙ্গে যেমন ঘনিষ্ঠ ছিলেন, তেমনি কিশোরী মেয়েদের যৌন শোষণেও লিপ্ত ছিল।

 

কী আছে এই ফাইলে? কাদের নাম এসেছে?

প্রকাশিত এপস্টেইন ফাইলে ই-মেইল, যোগাযোগের তালিকা, বিমানে যাতায়াতের রেকর্ড (ফ্লাইট লগ), ছবি ও সাক্ষ্যের তথ্য একসঙ্গে পাওয়া যায়। এসব কাগজপত্রে দেখা যায়, ২০০৮ সালে শিশু যৌন নির্যাতনের মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পরও অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন।

 

ই-মেইলের তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রু (তৎকালীন ডিউক অব ইয়র্ক) এপ্সটেইনকে বাকিংহাম প্যালেসে ব্যক্তিগত নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানাতে পারেন এমন ইঙ্গিত আছে। তার সাবেক স্ত্রী সারাহ ফার্গুসনের সঙ্গেও এপস্টেইনের সখ্য ছিল বলে এই ফাইলের তথ্যে জানা গেছে। ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসনের স্বামীকেও অর্থ পাঠানোর কথাও নথিতে আছে।

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের কাছে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে কিছু অভিযোগ জমা পড়েছিল। সে সম্পর্কিত তথ্যও এই ফাইলে আছে। প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের সঙ্গে এপেস্টেইনের এক পার্টি নিয়ে কথোপকথনের উল্লেখ আছে, কিন্তু কোনো অপরাধের অভিযোগ নেই। আরও আছেন ক্রীড়া সংগঠক কেসি ওয়াসারম্যান ও ব্যবসায়ী স্টিভ টিশ। এছাড়া, মৃত্যুর কিছুদিন আগে এপ্সটেইনের আইনজীবীরা মামলায় সহযোগিতা নিয়ে প্রসিকিউটরদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন—এ তথ্যও রয়েছে।

 

প্রিন্স অ্যান্ড্রু ও তার সাবেক স্ত্রী সারাহ ফার্গুসন।

এপস্টেইন নথিতে রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। ফাইলে এক মেইলের উল্লেখ আছে। ওই ইমেইলে উল্লেখ আছে, “ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মোদী আমার পরামর্শ নেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে খুশি করতে ইসরায়েলে গিয়ে নাচ-গান করেন।”

 

বাংলাদেশি নাম

এক মেইলের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ২০ বছর ধরে কাজ করা নারী সহকারী লেসলি গ্রোফ এক মেইলে জানিয়েছেন, কোনো একটি অজানা বিষয়ে তার টিমের সঙ্গে বাংলাদেশের দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামি শেখ হাসিনা একমত হয়েছেন। তবে বিষয়টি কী, তা বলা হয়নি।

 

জেফ্রি এপস্টেইন কে?

জেফ্রি এপস্টেইন ছিলেন ধনী মিলিয়নেয়ার, যিনি সেলিব্রিটি, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিলেন। প্রথমবার ২০০৫ সালে ফ্লোরিডার পাম বিচে তাকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ ছিল, তিনি ১৪ বছরের এক কিশোরীকে ‘যৌনসেবা’ দেওয়ার জন্য অর্থ প্রদান করেছেন।

 

এরপর আরও অনেক কিশোরী তার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের কথা জানালেও, ২০০৮ সালে কেবল একটি মামলার জন্য তিনি অপরাধ স্বীকার করেন। এরপর ২০১৯ সালে নিউ ইয়র্কে নারী পাচারের অভিযোগে তাকে ফের গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু বিচার চলাকালীন তিনি জেলে আত্মহত্যা করেছেন বলে অনেকেই মনে করেন।