ঢাকা, ২৬ জানুয়ারি সোমবার, ২০২৬ || ১৩ মাঘ ১৪৩২
good-food

ডায়াবেটিসে মধু খাওয়া যাবে কি?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৬:৫৭ ২৬ জানুয়ারি ২০২৬  

ডায়াবেটিস আছে এমন মানুষের জন্য মিষ্টি জাতীয় খাবার মানেই এক আতঙ্কের নাম। কিন্তু মধুর ক্ষেত্রে অনেকেই কিছুটা দোটানায় থাকেন। অনেকেই ভাবেন, চিনি শরীরের জন্য ক্ষতিকর হলেও মধু হয়তো নিরাপদ। কেউ কেউ আবার মনে করেন, মধু প্রাকৃতিক উপাদান হওয়ায় এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভালো। 

আবার অনেকে একেবারেই মধু এড়িয়ে চলেন। তাহলে সত্যিটা কী? মধুর মিষ্টি কি চিনির চেয়ে আলাদা? ডায়াবেটিস থাকলে মধু কি খাওয়া যায়? আর খেলে শরীরে কী প্রভাব পড়ে? চলুন তবে জেনে নেই মধুর পুষ্টিগুণ এবং ডায়াবেটিসের ওপর এর প্রভাব বিষয়ে।

মধু কী এবং এতে কী থাকে?

মধু হলো মৌমাছিদের তৈরি এক প্রাকৃতিক মিষ্টি। তারা ফুল থেকে মধুরস সংগ্রহ করে। সেই মধুরস মৌচাকে জমা থাকে। সেখানে এটি ভেঙে সাধারণ চিনি বা সিম্পল সুগারে রূপান্তরিত হয় এবং ঘন হয়ে মধুতে পরিণত হয়। যদিও এটি প্রাকৃতিক, তবুও এফডিএ বা যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসন একে ‘অ্যাডেড সুগার’ বা বাড়তি চিনি হিসেবেই গণ্য করে। কারণ এটি সাধারণ খাবার বা পানীয়তে প্রাকৃতিকভাবে থাকে না, বরং মিষ্টি করার জন্য যোগ করা হয়। 

মধুতে থাকা কার্বোহাইড্রেটের বেশির ভাগই সহজ শর্করা। এর মধ্যে গ্লুকোজ এবং ফ্রুকটোজ প্রধান। এই দুই ধরনের শর্করাই রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

এক টেবিল চামচ মধুতে থাকে :

৬১ ক্যালোরি

১৭ গ্রাম চিনি

১৭ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট

০.০৬ গ্রাম প্রোটিন

০.০৪ গ্রাম আঁশ

এছাড়াও মধুতে সামান্য পরিমাণে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক এবং ভিটামিন সি এর মতো খনিজ ও ভিটামিন থাকে। এতে কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও পাওয়া যায়। তবে মনে রাখা জরুরি যে এই পুষ্টি উপাদানগুলো মধুতে খুব সামান্য পরিমাণে থাকে। তাই পুষ্টির প্রধান উৎস হিসেবে মধুর ওপর নির্ভর করা খুব একটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।
মধু বনাম চিনি: পার্থক্য কোথায়?

সাদা চিনির সাথে মধুর মূল পার্থক্য হলো মধুতে কিছু ভিটামিন ও মিনারেল থাকে, যা চিনিতে থাকে না। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বা জিআই। জিআই হলো এমন একটি পরিমাপক যা বলে দেয় কোনো খাবার কত দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায়। মধুর জিআই স্কোর হলো ৫০, যেখানে সাদা চিনির স্কোর ৮০। এর মানে হলো, মধু চিনির তুলনায় কিছুটা ধীরে রক্তে শর্করা বাড়ায়। তাই ডায়াবেটিসে শুধু জিআই কম বলে মধু নিরাপদ ধরে নেওয়া ভুল। কারণ এটিও কার্বোহাইড্রেট এবং এটিও রক্তে সুগার বাড়ায়, শুধু চিনির চেয়ে একটু কম গতিতে।

ডায়াবেটিসে মধু খেলে কী হয়?

ডায়াবেটিস থাকলে শরীর ঠিকভাবে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। মধুতে থাকা গ্লুকোজ এবং ফ্রুকটোজ দ্রুত রক্তে মিশে যায়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে। যারা ইনসুলিন নেন, তাদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও জটিল হতে পারে। খাবারে কত গ্রাম কার্বোহাইড্রেট আছে, তার ওপর ইনসুলিনের মাত্রা ঠিক করা হয়। মধু ব্যবহার করলে অনেক সময় হিসাবের ভুল হয়। কারণ খাবারে ঠিক কতটা মধু দেওয়া হয়েছে, সেটা বোঝা কঠিন।

বাজারের অনেক খাবারেই মধু ব্যবহার করা হয়। বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে, এটি চিনি ছাড়া স্বাস্থ্যকর খাবার। কিন্তু বাস্তবে এসব খাবারে মধুর পরিমাণ অনেক বেশি হতে পারে। এর ফলে কার্বোহাইড্রেটও বেশি হয়ে যায়। এতে রক্তে শর্করা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে।

আপনার যদি টাইপ ২ ডায়াবেটিস থাকে বা এর ঝুঁকি থাকে, তবে মধুর ব্যাপারে আপনাকে সতর্ক হতে হবে। মধু প্রাকৃতিক হলেও এটি রক্তে শর্করার ওপর প্রভাব ফেলে। যারা ইনসুলিন বা ডায়াবেটিসের ওষুধ নেন, তাদের অবশ্যই সারা দিনের কার্বোহাইড্রেট হিসাব করে খেতে হয়। মধু খেলেও সেই হিসাবে গড়মিল হতে পারে।

চিনি বাদ দিয়ে মধু খাওয়া কি উপকারি?

ডায়াবেটিস থাকলে চিনি বাদ দিয়ে মধু খেলে বিশেষ কোনো লাভ নেই। কারণ দুটোই শেষ পর্যন্ত রক্তে শর্করার ওপর প্রভাব ফেলে। মধু সামান্য ধীরে কাজ করলেও এটি নিরাপদ বিকল্প নয়।

যদি কেউ একেবারেই মিষ্টি না খেতে পারেন না এবং খুব অল্প পরিমাণে মধু ব্যবহার করতে চান, তাহলে সেটি অবশ্যই হিসাব করে খেতে হবে। দিনের মোট কার্বোহাইড্রেটের হিসাবের মধ্যে মধুকে ধরতে হবে। নিজের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করাও জরুরি।

সবচেয়ে ভালো উপায় হলো, মধু বা চিনি দুটোকেই সীমিত রাখা। প্রয়োজনে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের সঙ্গে কথা বলে খাবারের পরিকল্পনা করা।