ঢাকা, ১৪ মার্চ শনিবার, ২০২৬ || ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২
good-food
১৬৮

ডিম সিদ্ধের পর ঠান্ডা পানিতে রাখছেন, ভুল করছেন?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৪:২৬ ১৬ জানুয়ারি ২০২৬  

ডিম সেদ্ধ করা পৃথিবীর সহজ কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম মনে হতে পারে। চুলায় পানি দিয়ে ডিম বসিয়ে দিলেন, আর কিছুক্ষণ পর নামিয়ে নিলেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, ডিম সেদ্ধ হওয়ার পর আমরা অনেকেই এমন একটি ভুল করি যা ডিমের স্বাদ, গঠন এবং মান একদম নষ্ট করে দিতে পারে? সাধারণত ডিম সেদ্ধ হওয়ার পরপরই আমরা গরম পানি ফেলে দিয়ে ঠান্ডা পানি বা বরফ পানিতে ডিম ডুবিয়ে দিই। উদ্দেশ্য থাকে ডিম দ্রুত ঠান্ডা করা এবং খোসা ছাড়ানো সহজ করা। কিন্তু এই সাধারণ অভ্যাসটিই আপনার শখের ডিম সেদ্ধকে নষ্ট করে দিচ্ছে।

গরম থেকে সরাসরি ঠান্ডা পানিতে দিলে ডিমের ওপর এক ধরনের তাপমাত্রার শক বা ধাক্কা লাগে। এর ফলে ডিমের খোসায় খুব সূক্ষ্ম বা মাইক্রোস্কোপিক ফাটল তৈরি হয়। এই ফাটল দিয়ে পানি ডিমের ভেতরে ঢুকে পড়ে। এতে ডিমের সাদা অংশটি পানসে বা নরম হয়ে যায় এবং অনেক সময় বাজে গন্ধ হতে পারে। এছাড়া হুট করে তাপমাত্রা বদলে যাওয়ার কারণে ডিমের ভেতরের প্রোটিনের গঠনও বদলে যায়। এতে ডিমটি খাওয়ার সময় নরম বা মোলায়েম ভাব থাকে না বরং সেটি কিছুটা শক্ত বা রবারের মতো হয়ে যায়। চিবানোর সময় সেই তৃপ্তি পাওয়া যায় না যা একটি নিখুঁত সিদ্ধ ডিমে থাকার কথা।

ডিম ঠান্ডা করার সঠিক নিয়ম

যদি আপনি ডিমের স্বাদ আর গঠন অটুট রাখতে চান তবে হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না। এর জন্য কিছু ধাপ অনুসরণ করা ভালো।

১. প্রথমে ডিম সিদ্ধ হয়ে গেলে চুলার আঁচ বন্ধ করে দিন। কিন্তু ডিমগুলো সাথে সাথে পানি থেকে তুলে নেবেন না। গরম পানিতে ডিমগুলোকে অন্তত ২ থেকে ৩ মিনিট জিরিয়ে নিতে দিন। এতে ডিমের ভেতরের তাপমাত্রা বাইরের পরিবেশের সাথে ধীরে ধীরে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে।

২. এরপর সাবধানে সব গরম পানি ঢেলে দিন। এখন ভুলেও ফ্রিজের ঠান্ডা পানি দেবেন না। বরং সাধারণ তাপমাত্রার বা সামান্য কুসুম গরম পানি দিয়ে পাত্রটি পূর্ণ করুন। এতে তাপমাত্রা হুট করে কমবে না এবং ডিমের খোসা ফেটে যাওয়ার ভয় থাকবে না।

৩. এই প্রাথমিক ধাপে ডিমটি কিছুটা ঠান্ডা হয়ে আসার পর আপনি চাইলে ঠান্ডা পানি ব্যবহার করতে পারেন। ধাপে ধাপে তাপমাত্রা কমালে ডিমের খোসা অটুট থাকে এবং ভেতরের স্বাদও অক্ষুণ্ণ থাকে।

খোসা ছাড়ানো এবং রঙের ওপর প্রভাব

অনেকেই মনে করেন সরাসরি বরফ পানিতে দিলে ডিমের খোসা খুব সহজে উঠে আসে। এটি আংশিক সত্য কারণ হঠাৎ ঠান্ডায় ডিমের ভেতরের অংশ সংকুচিত হয়ে খোসা থেকে আলাদা হয়ে যায়। তবে এর একটি বড় অসুবিধাও আছে। ডিম হুট করে ঠান্ডা করলে অনেক সময় কুসুমের চারপাশে একটি কালচে সবুজ রঙের আস্তরণ দেখা যায়। এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর না হলেও দেখতে মোটেও ভালো লাগে না। আপনি যদি চান আপনার ডিমের কুসুমটি সুন্দর হলদে বা কমলা রঙের থাকুক, তবে তাপমাত্রা কমানোর ক্ষেত্রে ধীরগতি অবলম্বন করা খুবই জরুরি। বিশেষ করে যখন আপনি ডিম দিয়ে সালাদ তৈরি করবেন, তখন এই বিষয়টি মাথায় রাখা দরকার।

সংরক্ষণ করবেন যেভাবে

হঠাৎ ঠান্ডা পানিতে ডোবানোর ফলে খোসায় যে ফাটল তৈরি হয়, তা দিয়ে শুধু পানিই নয়, ব্যাকটেরিয়াও প্রবেশ করতে পারে। এতে ডিম দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। কিন্তু আপনি যদি সময় নিয়ে ডিম ঠান্ডা করেন, তবে খোসা অটুট থাকে এবং ভেতরে কোনো আর্দ্রতা জমতে পারে না। ফলে ফ্রিজে রাখলে এই ডিম অনেক দিন পর্যন্ত ভালো থাকে এবং কোনো বাজে গন্ধ হয় না।

তাই পরের বার ডিম সেদ্ধ করার সময় তাড়াহুড়ো করবেন না। সামান্য একটু ধৈর্য আপনার সকালের নাস্তা বা সালাদের স্বাদ অনেক গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। ধীরে ধীরে ঠান্ডা করার এই ছোট্ট পরিবর্তনটিই এনে দেবে পারফেক্ট হার্ড বয়েলড এগের অভিজ্ঞতা।