ভাষার জন্য লড়াই করেছিল যেসব দেশ
লাইফ টিভি 24
প্রকাশিত: ১৬:৩৭ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বছর ঘুরে ফেব্রুয়ারি এলে বাঙালির হৃদয়ে ফিরে আসে এক অমলিন স্মৃতি। ফিরে আসে ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি। যেদিন ঢাকার রাজপথে রফিক, সালাম, বরকত, জব্বারদের রক্তে লেখা হয়েছিল বাংলা ভাষার দাবি। সেই আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘ ১৯৯৯ সালে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। কিন্তু ভাষার জন্য সংগ্রামের ইতিহাস শুধু বাংলাদেশের নয়; পৃথিবীর নানা প্রান্তের মানুষ মাতৃভাষার মর্যাদার প্রশ্নে রক্ত দিয়েছে, জেল খেটেছে, আন্দোলনে নেমেছে।
ভারতের দক্ষিণে হিন্দিবিরোধী আন্দোলন
১৯৩৭ সালে ব্রিটিশ ভারতের মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি স্কুলে হিন্দি বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শুরু হয় তীব্র প্রতিবাদ। অনশন, পদযাত্রা, গ্রেফতারের মাঝেও তিন বছর ধরে চলে আন্দোলন। আন্দোলনের তীব্রতায় ১৯৪০ সালে এই আইন প্রত্যাহার করা হয়।
পরবর্তীতে ১৯৬৫ সালে হিন্দিকে একমাত্র সরকারি ভাষা করার উদ্যোগে দক্ষিণ ভারত, বিশেষ করে তামিলনাড়ু উত্তাল হয়ে ওঠে। সহিংসতায় শতাধিক প্রাণহানি ঘটে। শেষ পর্যন্ত ১৯৬৭ সালে হিন্দির পাশাপাশি ইংরেজিকেও ব্যবহারিক সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

মাদ্রাজে ভাষার জন্য আন্দোলন।
বরাক উপত্যকার রক্তাক্ত ১৯ মে
১৯৬১ সালের ১৯ মে আসামের বরাক উপত্যকায় মাতৃভাষা বাংলার দাবিতে গুলিবিদ্ধ হন ১১ জন আন্দোলনকারী। শিলচর রেলস্টেশনে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান কিশোরী কমলা ভট্টাচার্যসহ অনেকে। তাদের আত্মত্যাগের ফলেই বরাকের তিন জেলায় বাংলা সরকারি ভাষার মর্যাদা পায়। প্রতিবছর এই দিনটি সেখানে ‘ভাষা শহীদ দিবস’ হিসেবে পালিত হয়।

আসামে ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে ভাস্কর্য।
সোয়েটোর শিশুদের প্রতিবাদ
১৯৭৬ সালের ১৬ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার সোয়েটো-তে স্কুলশিক্ষার্থীরা আফ্রিকানার (দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত শ্বেতাঙ্গ ডাচদের জার্মান-ডাচ ভাষার মিশ্রণ) ভাষায় বাধ্যতামূলক শিক্ষার বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে। বর্ণবাদী সরকারের গুলিতে নিহত হয় শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী। এই ঘটনা ইতিহাসে ‘সোয়েটো অভ্যুত্থান’ নামে পরিচিত। দিনটি এখন দক্ষিণ আফ্রিকায় শিশু দিবস হিসেবে স্মরণ করা হয়। ভাষা সেখানে হয়ে উঠেছিল স্বাধীনতার লড়াইয়ের প্রতীক।

আফ্রিকার সোয়েটো-তে স্কুলশিক্ষার্থীরা আফ্রিকানা ভাষায় বাধ্যতামূলক শিক্ষার বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে।
নেটিভ ভাষার স্বীকৃতি
যুক্তরাষ্ট্রে বহু আদিবাসী ভাষা ঔপনিবেশিক শাসনের ফলে বিলুপ্তির মুখে পড়ে। দীর্ঘ আন্দোলনের পর ১৯৯০ সালের ৩০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্র সরকার আদিবাসী ভাষা সংরক্ষণে আইন পাস করে। একইভাবে কানাডা-র কুইবেকে ফরাসি ভাষার মর্যাদা রক্ষায় আন্দোলন রাজনৈতিক রূপ নেয়।
অন্যদিকে লাটভিয়া-তে ২০১২ সালের গণভোটে রুশ ভাষাকে দ্বিতীয় দাপ্তরিক ভাষা করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হয়। লাটভিয়ার জনগণের কাছে, জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নে ভাষাই ছিল মূল ইস্যু।
ভাষা মানেই পরিচয়
শ্রীলঙ্কায় ‘সিনহালা অনলি’ আইনের পর তামিলদের দীর্ঘ সংগ্রাম, পাকিস্তানের বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখাওয়ায় ভাষাগত অধিকার আন্দোলন—সব জায়গাতেই ভাষা হয়ে উঠেছে আত্মপরিচয়ের প্রশ্ন। ইউরোপের বেলজিয়াম, স্পেনের কাতালোনিয়া, ফ্রান্স কিংবা বলকান অঞ্চলেও ভাষা ও সংস্কৃতির টানাপোড়েন বহু রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্ম দিয়েছে।
আজকের বিশ্বায়নের যুগে ভাষার সংকট আরও জটিল। প্রযুক্তি ও বাজারের চাপে ছোট ভাষাগুলো হারিয়ে যাচ্ছে দ্রুত। তাই মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা মানে শুধু আবেগ নয়, চর্চা ও সংরক্ষণও জরুরি। জরুরি নিজ ভাষায় পড়া, লেখা, গবেষণা এবং নতুন প্রজন্মকে ভাষার ইতিহাস শেখানো।
ফেব্রুয়ারির এই ভাষার মাস তাই শুধু স্মরণ নয়, প্রতিজ্ঞারও সময়। তাই নিজ ভাষাকে ভালোবাসার পাশাপাশি পৃথিবীর সব মাতৃভাষার বৈচিত্র্য ও মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকার করতে হবে। ভাষা বাঁচলে বাঁচবে মানুষের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়।
- ভাত রান্নার আগে চাল ভালো করে ধুতে বলা হয় কেন?
- মোটরসাইকেলের সামনেও নম্বর প্লেট রাখা বাধ্যতামূলক
- বিএসএফের হাতে আটক দুই পুলিশ সদস্যকে ফেরত আনল বিজিবি
- এডিস মশা শনাক্ত করবে ‘স্মার্ট ফাঁদ’
- এনআইডিতে নাম, বয়স ও ঠিকানা সংশোধনে যেসব কাগজপত্র লাগবে
- ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে কমবে দারিদ্র্য, ধারণা বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের
- বয়স্করা যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন
- বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ
- বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের সূচি পরিবর্তন
- ঢাকার বায়ুদূষণ দেশের জন্য লজ্জার বিষয়: প্রধানমন্ত্রী
- ‘বাংলাদেশ পথ দেখিয়েছে’, নেহার ভিডিও নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ বিজেপির
- প্রক্রিয়া শুরু
মালয়েশিয়ায় যেভাবে হবে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ - দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহারে চোখে জ্বালাপোড়া, সমাধান কী?
- ওষুধ কারখানার আগুনে ক্ষয়ক্ষতি হলেও প্রাণহানি নেই
- নোবেল পুরস্কারের ফেসবুক পেজে রবীন্দ্রনাথ ও রাসেলের ১১৪ বছরের চিঠি
- ক্যারিয়ার সেরা র্যাঙ্কিংয়ে হাসান মাহমুদ
- রাশিয়ায় নিয়ে যুদ্ধে পাঠানো ৩০ বাংলাদেশির ২০ জনের মৃত্যু
- অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো অভিযানের পরিকল্পনা নেই
- দূষণজনিত মাথাব্যথা নাকি মাইগ্রেনের সমস্যা? বুঝবেন যেভাবে
- সমুদ্র তীরে দাঁড়িয়ে দৈত্যাকার দানব
- নিউটনের ঢের আগে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টের পান দা ভিঞ্চি!
- সেরা ঘুমের প্রতিযোগিতা, পুরস্কার ১৪ হাজার ডলার
- নাফ নদীতে ইয়াবা পাচারের ‘ডুবন্ত সাবমেরিন’ উদ্ধার
- বাংলাদেশ থেকে জয় ছিনিয়ে ড্র আফগানিস্তানের
- বন্ধুর চেয়ে শত্রুর নাম বেশি মনে থাকে কেন?
- সারাদেশে ২ দিন এলপিজি বিক্রি বন্ধ থাকবে
- অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ড
- বাংলাদেশসহ কয়েক দেশের শিক্ষার্থী ভর্তিতে কঠোর যুক্তরাজ্য
- বিধবা কার্ড দিলে সবার আগে এমপির বউ নেবে: হাসনাত আবদুল্লাহ
- মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে রেমিট্যান্স কমার শঙ্কা, নতুন শ্রমবাজারে নজর
- সন্দেহের বশে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে পুশইন নয়: কলকাতা হাইকোর্ট
- বিয়ের জন্য যেমন ছেলে চান মিমি
- যেসব খাবার একসঙ্গে খেলে বেশি পুষ্টি মিলে
- বিমানবন্দরে ‘সোনার ডিম’ উদ্ধার: ৫ দিনের রিমান্ডে আসামি
- রূপপুরের বিদ্যুৎ দ্রুত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ: রোসাটম
- শান্তিতে নোবেলজয়ী কে এই নাভি পিল্লাই
- হ্যাটট্রিক করে ইতিহাসে হাসান মাহমুদ
- দূষণজনিত মাথাব্যথা নাকি মাইগ্রেনের সমস্যা? বুঝবেন যেভাবে
- হঠাৎ চুল পড়া বাড়লে কি করবেন?
- দুর্গাপূজা: বাঙালি হিন্দুদের বড় ধর্মীয় উৎসবে পরিণত যেভাবে
- অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ড
- বন্ধুর চেয়ে শত্রুর নাম বেশি মনে থাকে কেন?
- সারাদেশে ২ দিন এলপিজি বিক্রি বন্ধ থাকবে
- একটি দৃশ্যের জন্য এখনো বারবার মহড়া দেন অমিতাভ
- সেরা ঘুমের প্রতিযোগিতা, পুরস্কার ১৪ হাজার ডলার
- জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা জাতীয় স্বার্থে ব্যয়ের নির্দেশ
- মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে রেমিট্যান্স কমার শঙ্কা, নতুন শ্রমবাজারে নজর
- দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহারে চোখে জ্বালাপোড়া, সমাধান কী?
- সমুদ্র তীরে দাঁড়িয়ে দৈত্যাকার দানব
- বাংলাদেশসহ কয়েক দেশের শিক্ষার্থী ভর্তিতে কঠোর যুক্তরাজ্য






