৯ বছরেও স্বদেশে ফেরা হয়নি রোহিঙ্গাদের
লাইফ টিভি 24
প্রকাশিত: ১৪:২৩ ২৫ আগস্ট ২০২৬
পাহাড়ি দুর্গম পথ। চারদিকে আতঙ্ক, গোলাগুলির শব্দ আর প্রাণ বাঁচানোর ছুটে চলা। পেছনে পড়ে ছিল ঘরবাড়ি, জমি, স্বজন ও শৈশবের স্মৃতি। সামনে ছিল অজানা ভবিষ্যৎ। তবুও জীবন বাঁচাতে পাহাড়-জঙ্গল পেরিয়ে বাংলাদেশের সীমান্তের দিকে ছুটেছিলেন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা যুবক মোহাম্মদ আরিফুল্লাহ।
২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট পরিবারের চার সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর দমন-পীড়ন থেকে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তিনি। দীর্ঘ আট দিন পাহাড়ি দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে শেষ পর্যন্ত আশ্রয় নেন উখিয়ার কুতুপালংয়ে।
এরপর দেখতে দেখতে কেটে গেছে নয় বছর। সময় বদলেছে, ক্যাম্পে প্রজন্ম বদলেছে। অনেক শিশু কৈশোর পেরিয়ে তারুণ্যে পৌঁছেছে। কিন্তু বদলায়নি রোহিঙ্গাদের অপেক্ষা—কবে ফিরবেন নিজেদের দেশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে।
মোহাম্মদ আরিফুল্লাহ বলেন, ‘মিলিটারির হাত থেকে প্রাণ বাঁচিয়ে আট দিন হাঁটার পর এ দেশে এসেছিলাম। তখনকার কথা মনে পড়লে এখনো কান্না পায়। কিন্তু সেটা আমার দেশ, আমার ভূমি। সেখানে আবার ফিরে যেতে চাই।’
আরিফুল্লাহর মতো লাখো রোহিঙ্গার জীবনের গল্প প্রায় একই। কেউ সন্তানকে কোলে নিয়ে, কেউ বৃদ্ধ বাবা-মাকে কাঁধে তুলে, কেউ আবার স্বজন হারিয়ে একাই সীমান্ত পেরিয়েছেন। ২০১৭ সালের সেই ঢল কক্সবাজারকে পরিণত করে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী আশ্রয়কেন্দ্রে।
সাত লাখের বেশি মানুষের সেই যাত্রা
২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর কয়েক মাসে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। তাদের সঙ্গে যুক্ত হন এর আগে বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা।
জাতিসংঘ ও মানবিক সংস্থাগুলোর হিসাবে, বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন। তাদের অধিকাংশই কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি ক্যাম্পে বসবাস করছেন। কক্সবাজারের বাইরে ভাসানচরেও একটি অংশকে স্থানান্তর করা হয়েছে।
২০১৭ সালের গণহারে পালিয়ে আসার ঘটনা শুধু একটি দেশের শরণার্থী সংকট তৈরি করেনি; এটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে।
ক্যাম্পেই বেড়ে উঠছে নতুন প্রজন্ম
নয় বছর ধরে ক্যাম্পে বসবাস করছে একটি বিশাল জনগোষ্ঠী। ২০১৭ সালে বাবা-মায়ের হাত ধরে যেসব শিশু বাংলাদেশে এসেছিল, তাদের অনেকেই এখন কৈশোর বা তারুণ্যে পা দিয়েছে। আবার এমন শিশুও আছে, যারা বাংলাদেশেই জন্মেছে। তাদের কাছে মিয়ানমার কোনো দেখা দেশ নয়; বাবা-মায়ের মুখে শোনা জন্মভূমির গল্প।
এই প্রজন্মের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—তাদের ভবিষ্যৎ কোথায়?
ক্যাম্পে শিক্ষা কার্যক্রম থাকলেও তা সীমিত। কর্মসংস্থানের সুযোগও খুব কম। তরুণদের একটি বড় অংশ ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শরণার্থী হিসেবে বসবাসের কারণে তাদের সামাজিক ও মানসিক জীবনেও চাপ তৈরি হচ্ছে।
একদিকে নিজ দেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষা, অন্যদিকে নিরাপত্তাহীনতা, কর্মসংস্থানের অভাব এবং মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা—এই দ্বৈত বাস্তবতার মধ্যেই কাটছে রোহিঙ্গাদের জীবন।
নতুন করে রোহিঙ্গা আসায় সংকট আরও দীর্ঘ
২০১৭ সালের পর বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে রোহিঙ্গা প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ২০২৩ সালের শেষ দিকে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে তীব্র সংঘাত শুরু হয়। রাখাইনের বিভিন্ন এলাকায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের জীবন আরও অনিরাপদ হয়ে পড়ে।
এর প্রভাব পড়ে বাংলাদেশ সীমান্তেও। ২০২৪ সাল থেকে নতুন করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশের খবর পাওয়া যায়। ফলে আগে থেকেই জনাকীর্ণ ক্যাম্পগুলোতে খাদ্য, পানি, স্বাস্থ্যসেবা, আশ্রয় ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়।
রাখাইনে এখন কার নিয়ন্ত্রণ কতটা—এ প্রশ্নও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি আরাকান আর্মি সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে শুধু বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সমঝোতা করলেই প্রত্যাবাসন বাস্তবায়ন করা যাবে কি না, সেটিও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রত্যাবাসনে নতুন অগ্রগতি, তবু সংশয় কাটেনি
নয় বছর পর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে নতুন করে কিছু অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ যে তালিকা দিয়েছে, তার মধ্যে জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের নাম যাচাই করে ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে মিয়ানমার বলেছে, রাখাইনে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে যাচাই করা ব্যক্তিদের প্রত্যাবাসন গ্রহণের বিষয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।
এটি দীর্ঘদিনের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হলেও রোহিঙ্গাদের মধ্যে স্বস্তির পাশাপাশি সংশয়ও রয়েছে।
তাদের প্রশ্ন—ফিরে গেলে নিরাপত্তা কে নিশ্চিত করবে? নাগরিকত্ব কী হবে? নিজেদের জমি-বাড়ি ফিরে পাবেন কি না? তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ কী হবে? আবারও যদি সহিংসতা শুরু হয়, তখন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা কী থাকবে?
এই প্রশ্নগুলোর সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত বড় পরিসরে প্রত্যাবাসনে রোহিঙ্গাদের আস্থা তৈরি করা কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
‘শুধু ফেরত পাঠানো নয়, অধিকার নিশ্চিত করতে হবে’
রোহিঙ্গাদের সবচেয়ে বড় দাবি—প্রত্যাবাসন হতে হবে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই। তাদের ভাষায়, শুধু সীমান্তের ওপারে পাঠিয়ে দিলেই প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হবে না। নিজ ভূমিতে বসবাসের অধিকার, নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব বা আইনগত পরিচয়, জমি-বাড়ির অধিকার এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
রোহিঙ্গা তরুণ মোহাম্মদ ফুরকান মির্জা বলেন, ‘ইউসিআর প্রমাণ করেছে, রোহিঙ্গারা শান্তিপূর্ণ, স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীলভাবে নিজেদের সংগঠিত করতে পারে। এই সংগঠন আমাদের ঐক্য, জবাবদিহিতা এবং মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যতের প্রতীক হয়ে উঠেছে।’
রোহিঙ্গাদের নেতৃত্বে ইউসিআর
নিজ দেশে ফেরার প্রস্তুতি, ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় এবং প্রত্যাবাসনের দাবিকে আরও সংগঠিত করতে রোহিঙ্গাদের উদ্যোগে গড়ে উঠেছে ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা (ইউসিআর)। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের অনুমতি নিয়ে ২০২৫ সালে কক্সবাজারের ৩৩টি ক্যাম্পে ইউসিআরের প্রতিনিধি নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
১৪টি শ্রেণি থেকে ভোটার বাছাই করা হয়। এর মধ্যে ছিলেন ইমাম, মুহতামিম, ছাত্র, শিক্ষক, ওকতা বা চেয়ারম্যান, নারী প্রতিনিধি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকর্মী, হেড মাঝি, প্রবীণ নাগরিক, কমিউনিটি ডাক্তার, ব্যবসায়ী, যুব প্রতিনিধি, ক্যাম্পভিত্তিক সংগঠন ও প্রবাসী রোহিঙ্গা।
ইউসিআরের সদস্যদের দাবি, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়, ক্যাম্পে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের দাবিতে তারা কাজ করছেন।
ইউসিআরের প্রেসিডেন্সিয়াল প্যানেলের সদস্য ও রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী সৈয়দ উল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। তারা আমাদের আশ্রয় দিয়েছে এবং জীবন বাঁচিয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক দাতাগোষ্ঠীগুলো আমাদের সহায়তা করছে। আমরা এখানে স্থায়ী নই। আমাদের একদিন নিজ দেশে ফিরতেই হবে। রোহিঙ্গাদের কাছে একমাত্র সমাধান প্রত্যাবাসন। সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
ক্যাম্পে অপরাধও বড় উদ্বেগ
দীর্ঘ নয় বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে অপরাধও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত নয় বছরে হত্যা, মাদক, অস্ত্র, ডাকাতি, ধর্ষণ ও নারী-শিশু নির্যাতন, অপহরণ এবং মানব পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধে সাড়ে চার হাজারের বেশি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ১০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে আসামি করা হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২৮৮টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২৭৭টি মামলা হয়েছে এবং এসব মামলায় প্রায় দুই হাজারজনকে আসামি করা হয়েছে।
এ ছাড়া মাদকসংক্রান্ত সাড়ে তিন হাজার মামলায় আসামি হয়েছেন ৫ হাজার ৯৩৫ জন। অস্ত্র ও ডাকাতির ১৬৫টি মামলায় ৩১২ জন, ধর্ষণ ও নারী-শিশু নির্যাতনের ৩৫২টি মামলায় ৫২১ জন, অপহরণের ৩০৬টি মামলায় ৩৫৩ জন এবং মানব পাচারের চার শতাধিক মামলায় ৮৭৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্যান্য আইনে আরও শতাধিক মামলা হয়েছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্বে নিয়োজিত ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) রিয়াজ উদ্দিন বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরের সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বদা কাজ করছে। রোহিঙ্গাদের সমাবেশ ঘিরেও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে হাজারো পরিবার
কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় গড়ে ওঠা ক্যাম্পগুলোতে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ধস বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে পাহাড়ধস ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের তথ্য। আহত হয়েছেন আরও অনেকে।
২০২৬ সালের জুলাইয়ে পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় মাদ্রাসাশিক্ষার্থীসহ অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু এবং ১০ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। ২০২৪ সালের জুনে পাহাড়ধসে আটজন নিহত হন। ২০২১ সালের জুলাইয়ে পাহাড়ধস ও বন্যায় ২০ জনের মৃত্যু হয়। ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্তও পাহাড়ধসসহ বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত ২০ জন মারা যান।
ক্যাম্পবাসীর কাছে তাই বর্ষা মানেই শুধু বৃষ্টি নয়; বরং পাহাড়ধস, ঘর ভেঙে পড়া এবং প্রাণহানির আতঙ্ক।
পরিবেশ ও স্থানীয় জনজীবনেও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব
রোহিঙ্গাদের বিপুল উপস্থিতির প্রভাব পড়েছে কক্সবাজারের পরিবেশ ও স্থানীয় জনজীবনেও। উখিয়া ও টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় ক্যাম্প স্থাপন, জ্বালানি কাঠের ব্যবহার, অবকাঠামো নির্মাণ ও জনসংখ্যার চাপের কারণে বন ও জীববৈচিত্র্যের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চাপ রয়েছে। স্থানীয় অর্থনীতি, বাজার, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে।
স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অনেকেই মনে করেন, বাংলাদেশ মানবিক কারণে দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে আসছে। কিন্তু এই সংকটের স্থায়ী সমাধানের দায়িত্ব শুধু বাংলাদেশের নয়; আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মিয়ানমারকেও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।
কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, ‘১২ লাখের বেশি মানুষকে যদি ধাপে ধাপে ফেরত পাঠাতে হয়, তাহলে কাজটি কত দীর্ঘ হতে পারে তা সহজেই বোঝা যায়। শুধু মানুষকে সীমান্তের ওপারে পাঠিয়ে দেওয়াই প্রত্যাবাসন নয়। মর্যাদার সঙ্গে ফেরার নিশ্চয়তা থাকতে হবে।’
অর্থায়নের সংকট বাড়াচ্ছে উদ্বেগ
রোহিঙ্গা সংকটের শুরুতে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক মনোযোগ তৈরি হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অর্থায়নের ঘাটতি বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে।
২০২৬ সালের জন্য জাতিসংঘ ও সহযোগী সংস্থাগুলো রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং তাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জরুরি চাহিদা পূরণে ৭১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার চেয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় কক্সবাজার ও ভাসানচরের রোহিঙ্গা এবং উখিয়া-টেকনাফের স্থানীয় জনগোষ্ঠীসহ প্রায় ১৬ লাখ মানুষকে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
জাতিসংঘের হিসাবে, ২০২৬ সালের এই চাহিদা আগের বছরের তুলনায় কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এটি মূলত জীবন রক্ষাকারী জরুরি সহায়তা চালু রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম অর্থায়ন।
অর্থায়ন কমে গেলে খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পানি, স্যানিটেশন ও সুরক্ষাসেবায় প্রভাব পড়তে পারে। ফলে প্রত্যাবাসনের পাশাপাশি ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
প্রত্যাবাসনের প্রথম শর্ত নিরাপত্তা
রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিরাপত্তা। রাখাইনে সংঘাত চলতে থাকলে বড় আকারে প্রত্যাবাসন শুরু করা কঠিন। কারণ রোহিঙ্গারা যে এলাকা থেকে পালিয়ে এসেছেন, সেই এলাকাগুলোর অনেক জায়গায় এখনো স্থিতিশীল ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়নি।
প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে শুধু সীমান্ত পার করানো নয়, ফিরে যাওয়ার পর তাদের কোথায় রাখা হবে, বাড়িঘর ও জমির কী হবে, নাগরিকত্ব ও পরিচয় কীভাবে নিশ্চিত করা হবে এবং তাদের চলাচল ও নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে—এসব প্রশ্নেরও সমাধান প্রয়োজন।
রোহিঙ্গাদের আশঙ্কা, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত না করে তাড়াহুড়ো করে প্রত্যাবাসন করা হলে তা টেকসই হবে না।
২৫ আগস্ট স্মরণ দিবসে ঘরে ফেরার আকুতি
২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস। দিনটি তাদের কাছে হারানো স্বজন, পুড়ে যাওয়া ঘরবাড়ি, নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ এবং নয় বছরের শরণার্থী জীবনের প্রতীক। স্মরণ দিবস উপলক্ষে উখিয়া-টেকনাফের তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক তিনটি বড় সমাবেশ আয়োজনের কথা রয়েছে। সেখানে রোহিঙ্গারা নিজেদের অধিকার, নিরাপত্তা এবং দ্রুত ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি জানাবেন।
উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি হামিদ উল্লাহ বলেন, ‘দীর্ঘ ১৫ দিন পায়ে হেঁটে উখিয়ার বালুখালীতে আশ্রয় নিয়েছিলাম। এরপর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঝুপড়ি তুলে থাকতে হয়েছে। একটা ভয় কাজ করত। চোখের সামনে পাড়া-প্রতিবেশীদের মারা যেতে দেখেছি।’
উখিয়ার ৩ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি রশিদ উল্লাহ বলেন, ‘স্বদেশে ফিরতে মন চায়। কিন্তু কীভাবে ফিরব? মিয়ানমারের ওপারে প্রতিনিয়ত সংঘর্ষ চলছে।’ উখিয়ার ৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের হেড মাঝি এনায়েত উল্লাহও দ্রুত প্রত্যাবাসনের দাবি জানান।
নয় বছর পরও একই প্রশ্ন—কবে ফিরবে ঘরে?
নয় বছর আগে যারা জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে এসেছিলেন, তাদের অনেকেই এখনো সেই একই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন—কবে ফিরবেন নিজেদের দেশে?
মোহাম্মদ আরিফুল্লাহর মতো কেউ নিজের ঘরবাড়ির স্মৃতি বুকে নিয়ে অপেক্ষা করছেন। কেউ স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে বেঁচে আছেন। আবার কেউ বাংলাদেশেই জন্ম নিয়ে বড় হয়েছেন, কিন্তু বাবা-মায়ের কাছ থেকে শুনে মিয়ানমারের রাখাইনকে নিজের দেশ হিসেবে ভাবছেন।
এদিকে নতুন প্রজন্মের বেড়ে ওঠা, ক্যাম্পে অপরাধের চাপ, পাহাড়ধসের ঝুঁকি, আন্তর্জাতিক অর্থায়নের সংকট এবং মিয়ানমারে চলমান সংঘাত—সব মিলিয়ে রোহিঙ্গা সংকট এখন শুধু একটি শরণার্থী সংকট নয়; এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক মানবিক ও নিরাপত্তা সংকট।
প্রত্যাবাসন নিয়ে নতুন করে যাচাই-বাছাই শুরু হওয়া কিছুটা আশার আলো দেখালেও বাস্তবে মানুষ ফেরত যাওয়ার প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি। মিয়ানমারের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির শর্ত দেওয়া হয়েছে।
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাশা অবশ্য স্পষ্ট—তারা বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে থাকতে চান না। তারা ফিরে যেতে চান নিজেদের দেশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে। তবে সেই ফেরাটা হতে হবে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও অধিকার নিশ্চিত করে।
কারণ রোহিঙ্গাদের কাছে প্রত্যাবাসন শুধু একটি সীমান্ত পার হওয়ার ঘটনা নয়। এটি তাদের হারানো পরিচয়, ভূমি, নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা।
- ‘সেরা ইউনিয়ন পরিষদ ও চেয়ারম্যান’ পুরস্কার দেওয়া হবে
- চলতি অর্থবছরেই সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন
- থালাপতি বিজয়ে মুগ্ধ যশ
- ‘অবিশ্বাস্য’ দামে বিক্রি ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ বল
- আবেগের বন্যায় সম্পর্ক ডুবছে না তো?
- ৯ বছরেও স্বদেশে ফেরা হয়নি রোহিঙ্গাদের
- হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানোর যত উপায়
- আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ!
- সালমান শাহ’কে নতুন সিনেমা ‘লাভ ৯৬’
- প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ব্যাংক আমানত ছাড়ালো ৯০ হাজার কোটি টাকা
- ৬ মাসে বন্ধ ৯৫ কারখানা, কাজ হারিয়েছেন ৬২ হাজার শ্রমিক
- নুসরাত হত্যা: দুজনের মৃত্যুদণ্ড, চারজনের যাবজ্জীবন, খালাস ১০
- মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন যারা
- ঝগড়ার পরে সম্পর্ক ঠিক করবেন যে ৫ উপায়ে
- মির্জা ফখরুল: যুদ্ধ থেকে কারাগার, অতঃপর রাষ্ট্রপতি
- নায়করাজের শূন্যতা আজও সমান অনুভব করি : শাকিব খান
- ভারতের বাংলাদেশ সফর নিয়ে যা জানালেন তামিম
- বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি আবেদন শুরু, করবেন যেভাবে
- যানজট নিয়ন্ত্রণে যুক্ত হচ্ছে ড্রোন সার্ভিলেন্স
- মিথ্যা বললে শরীরের যত ক্ষতি হয়
- আইয়ুব বাচ্চু: ছয় তারের জাদুকর
- বল কেটে ভাগ করলেন টাং ও রবিনসন
- স্বামীকে শেষ বিদায় জানাতে ঢাকার বাসায় দীপু মনি
- সন্দেহজনক লেনদেন বেড়েছে, তদন্তে জোর বিএফআইইউর
- সুখী, সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি: মির্জা ফখরুল
- গলাব্যথা-সর্দি-কাশিতে আরাম দেবে ৩ ঘরোয়া পানীয়
- গোলাপি বাস নিয়ে ট্রল: সমালোচকদের কড়া জবাব সাদিয়া আয়মানের
- প্রিমিয়ার লিগের যে পাঁচ তারকার ওপর নজর থাকবে
- ২৬ আগস্ট ঈদে মিলাদুন্নবী, জাতীয় কর্মসূচি ঘোষণা
- জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবো: দুদক চেয়ারম্যান
- মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন যারা
- গলাব্যথা-সর্দি-কাশিতে আরাম দেবে ৩ ঘরোয়া পানীয়
- মিথ্যা বললে শরীরের যত ক্ষতি হয়
- সন্তান সম্পর্কে অন্যদের যেসব কথা বলতে দেবেন না
- ২৬ আগস্ট ঈদে মিলাদুন্নবী, জাতীয় কর্মসূচি ঘোষণা
- দিল্লির পর ঝাড়খণ্ডেও জেন জি আন্দোলন সফল
- মির্জা ফখরুল: যুদ্ধ থেকে কারাগার, অতঃপর রাষ্ট্রপতি
- রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ব্যালট ‘ওপেন’, কে কাকে ভোট দেবেন দেখা যাবে
- গোলাপি বাস নিয়ে ট্রল: সমালোচকদের কড়া জবাব সাদিয়া আয়মানের
- স্বামীকে শেষ বিদায় জানাতে ঢাকার বাসায় দীপু মনি
- সুখী, সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি: মির্জা ফখরুল
- আইয়ুব বাচ্চু: ছয় তারের জাদুকর
- সাবেক সেনাপ্রধান আজিজকে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলে চিঠি
- ভারতের বাংলাদেশ সফর নিয়ে যা জানালেন তামিম
- ৬ মাসে বন্ধ ৯৫ কারখানা, কাজ হারিয়েছেন ৬২ হাজার শ্রমিক
- জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবো: দুদক চেয়ারম্যান
- ঢাকায় ২০০ ইভি বাস কিনছে সরকার, নারীদের জন্য ১০০টি
- বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি আবেদন শুরু, করবেন যেভাবে
- নায়করাজের শূন্যতা আজও সমান অনুভব করি : শাকিব খান
- সালমান শাহ’কে নতুন সিনেমা ‘লাভ ৯৬’
















