ঢাকা, ১২ জানুয়ারি সোমবার, ২০২৬ || ২৮ পৌষ ১৪৩২
good-food
১১

এআই ও রিলস নিয়ে কড়া মন্তব্য শিল্পার

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৭:৫৬ ১১ জানুয়ারি ২০২৬  

সাফল্যের পরের ব্যর্থতা সবচেয়ে ভয়ংকর বলে অভিমত দিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেঠি। কিশোরী বয়সে অভিনয়ে আসার পর থেকে নিজের সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার কথা সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে এসে জানিয়ে গেলেন তিনি।

কলকাতা শহরের একটি পাঁচতারকা হোটেলে শিল্পা শেঠি উপস্থিত হন ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্সের ওয়েলনেস সামিটে।

সামিটে বক্তব্যের শুরুতে শিল্পা জানান, এশিয়ান নারীরা একসঙ্গে অনেক কাজ সামলানোর চেষ্টা করেন। তিনি নিজের মাকে স্কুলের কাজ, সংসার এবং বাবার ব্যবসার কাজে সাহায্য করতে দেখেছেন। সবটাই তিনি একা হাতে করতেন। পাশাপাশি চাকরিও করতেন। তার মাকে সাহায্য করার মানুষও খুব কম ছিল।

শিল্পা বলেন, “আমাকে অনেক কিছু একসঙ্গে সামলাতে হয়, ভাবি- মা পারলে আমিও পারব।” তিনি কোনো কিছু পারফেক্ট করার চেষ্টা করেন না। কারণ পারফেকশন বলে কিছু নেই। ব্যালেন্স করাটাই আসল।

বলিউডের বাইরে থেকে এসে কাজ শুরু করেছিলেন শিল্পা। তার জন্মস্থান কর্ণাটক রাজ্যের মাঙ্গালুরু। জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল অল্প বয়সে ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখা। মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি অভিনয় শুরু করেন। তখন হিন্দি ভালো বলতে পারতেন না।

শিল্পা বলেন, “আমার প্রথম ফিল্ম সুপারহিট ছিল। কিন্তু তার পর অনেক রিজেকশন পেয়েছি। সাফল্যের পরের এই ব্যর্থতাটা ভয়ংকর। অনেকেই মনে করেন প্রথম ছবি সুপারহিট হলে বোধহয় কাজ পেতে সুবিধা হয়। আমার ক্ষেত্রে তা হয়নি।”

ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্সের ওয়েলনেস সামিটে শিল্পা শেঠি।

তবু তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকতে চেয়েছিলেন। তার ভাষ্য, “যারা কিছু করতে চান তারা মনে হয় এই রিজেকশন থেকে শিক্ষা নিয়েই এগিয়ে যান। আমিও ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকতে চেয়েছিলাম। শেখা বন্ধ করিনি কখনও। তাই এখন বলতে পারি, আমি আমার মতো করে সাফল্য পেয়েছি।”

সামিটে মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বলতে গিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, “বাইরে থেকে সুস্থ দেখালেও মানসিক স্বাস্থ্য অনেক সময় ভালো থাকে না। সে দিকে নজর দেওয়া জরুরি।” 

“মন শরীরের থেকেও বেশি শক্তিশালী।” তিনি আরও বলেন, “আধ্যাত্মিকভাবে ভালো থাকতে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখা প্রয়োজন। ভেতর থেকে শক্ত হলে বাইরের কোনো শক্তি ক্ষতি করতে পারে না।”

সামাজিক মাধ্যমে দিনে সর্বোচ্চ ৪০ মিনিট সময় দেন শিল্পা। তার ফোনে টাইমার দেওয়া থাকে। সকালে একেবারেই সামাজিক মাধ্যম দেখেন না। বাচ্চারা স্কুলে গেলে তিনি যোগব্যায়াম বা ওয়েট ট্রেনিং করেন বলে জানান।

ডায়েট ও ফিটনেস সংক্রান্ত সামাজিক মাধ্যমের রিলস নিয়ে শিল্পার স্পষ্ট  বক্তব্য, “এআই বা রিলসের ওপর ভরসা করে জীবন কাটানো বন্ধ করা উচিত। শারীরিক অসুস্থতার চিকিৎসা যেমন রিলস দেখে করা হয় না, তেমনই ফিটনেস ও ডায়েটের ক্ষেত্রেও তা করা উচিত নয়।”

তাঁর মতে, “আদি’তে ফিরে যাওয়া দরকার। বাড়িতে ছোট ছোট নিয়ম মানলেই সুস্থ থাকা সম্ভব। যেমন অপ্রয়োজনে এসি না চালানো, জল ও বিদ্যুৎ অপচয় না করা, প্লাস্টিক ব্যবহার না করা এবং বেশি করে হাঁটা।”

শিল্পা বলেন, মুম্বইয়ের রাস্তায় হাঁটতে পারলে তিনি খুব খুশি হতেন। কিন্তু নানা কারণে তা সম্ভব নয়। তাই যাঁরা পারেন, তাঁদের হাঁটার পরামর্শ দেন। তিনি নিজেও খাওয়ার পর বাড়ির মধ্যেই হাঁটাহাঁটি করেন।

১৭ বছর বয়সে অভিনয় শুরু করেন শিল্পা

নিজের পছন্দের খাবারের বিষয়ে বলতে গিয়ে শিল্পা বলেন, “আমার স্বাচ্ছন্দ্যের খাবার এখনও নিরামিষ খিচুড়ি। চিনি একেবারেই খাই না। তবে রসগোল্লা পেলে নিজেকে আটকাতে পারি না।” শিল্পা অবশ্য মজা করে বলেন, “এটা কলকাতায় আছি বলে বলছি না।”

অভিনেত্রী জীবনের সবচেয়ে কঠিন দিক হিসেবে তিনি বলেন, “সব সময় বাইরের ভ্যালিডেশনের (স্বীকৃতি) প্রয়োজন পড়ে। এক্সপেরিমেন্ট করা বন্ধ করা যায় না। কখনও সফল হন, কখনও হন না।”

তবে তার মতে, দায়িত্বশীল হওয়া জরুরি। কোনো ব্র্যান্ডের প্রচার করলে তা যেন শুধু টাকার জন্য না হয়। ব্যবহারকারীরা যেন তার ওপর ভরসা রাখতে পারেন। কারণ ব্র্যান্ড ব্যর্থ হলে তার দায় প্রোমোটারদের ওপরও পড়ে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট করার আগে শিল্পা যতটা সম্ভব রিয়েল ও অথেনটিক থাকার চেষ্টা করেন। তবে ইমেজের কথা ভেবে সব সময় তা সম্ভব হয় না। কিছু ক্ষেত্রে এডিট করতে হয় বলে ওই সামিটে খোলামেলাভাবে জানান তিনি।

বিনোদন বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর