ঢাকা, ৩০ নভেম্বর রোববার, ২০২৫ || ১৬ অগ্রাহায়ণ ১৪৩২
good-food

ঘি কি কোলেস্টেরল বাড়ায়?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২১:২০ ৩০ নভেম্বর ২০২৫  

আধুনিক ডায়েটের জগতে ঘিকে রীতিমতো আসামি বানিয়ে রাখা হয়েছে। অনেকে মনে করেন ঘি মানেই স্যাচুরেটেড ফ্যাট, তাই এটি কোলেস্টেরল বাড়ায় এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি সৃষ্টি করে।

কিন্তু এই ধারণা কতটা সত্য?

হার্ভার্ড ট্রেইনড ইন্টিগ্রেটিভ হেলথ বিশেষজ্ঞ ডা. আকাঙ্ক্ষা পান্ডে বলছেন ভিন্ন কথা। তার মতে ঘিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। 

 

ঘি নিয়ে যত ভুল ধারণা

 

১৯৫০-এর দশকে এক অনুমানকে কেন্দ্র করে ঘি-কে ‘খারাপ ফ্যাট’-এর তালিকায় ঢুকিয়ে দেয়। সেই সময়ের পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছিল, স্যাচুরেটেড ফ্যাট খেলে কোলেস্টেরল ও হৃদ্‌রোগ বাড়ে। কিন্তু হাল জামানার আরও গভীর গবেষণাগুলো বলছে, ঘি নিয়ে ভয় অনেকটাই অতিরঞ্জিত।

 

জেনে নেওয়া যাক ঘি নিয়ে জনপ্রিয় ভুল ধারণাগুলো। পাশাপাশি এসব নিয়ে বিজ্ঞান কী বলছে তাই জানা যাবে।

 

“ঘির স্যাচুরেটেড ফ্যাট খারাপ কোলেস্টেরল বাড়ায়”

ঘিতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট আছে ঠিকই, কিন্তু সব স্যাচুরেটেড ফ্যাটের আচরণ এক নয়। ঘিতে রয়েছে প্রচুর শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড। বিশেষ করে বুটিরিক অ্যাসিড, যা হজমে সাহায্য করে, অন্ত্রের কোষে দ্রুত শক্তি দেয়।

ঘিতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট আছে ঠিকই, কিন্তু সব স্যাচুরেটেড ফ্যাটের আচরণ এক নয়।

ডা. পান্ডে বলেন, “এক চা চামচ ঘি ধমনি বন্ধ করে না। আসল সমস্যা হলো অক্সিডাইজড এলডিএল, চিনিসমৃদ্ধ খাবার ও খারাপ হজম।”

গবেষণায় দেখা গেছে, সীমিত পরিমাণে ঘি খেলে কোলেস্টেরল প্রোফাইলে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে না।

“ঘি মানেই প্রক্রিয়াজাত মাখন বা মার্জারিন”

ঘি তৈরি হয় ধীরে ধীরে দুধের মাখন সেদ্ধ করে, যাতে ল্যাকটোজ ও কেসিন বেরিয়ে যায়। ফলে এটি অনেকটাই ল্যাকটোজ-ফ্রি। ঘরের ঘি অতিরিক্ত পুষ্টিকর, কারণ এতে থাকে সিএলএ এবং ভিটামিন এ,ডি,ই এবং কে।

অন্যদিকে অনেক বাজারি ঘি ও মার্জারিনে থাকতে পারে ট্রান্স ফ্যাট যা সত্যিই ক্ষতিকর।

“ঘির কোলেস্টেরল হৃদ্‌রোগীদের জন্য বিপজ্জনক”

ঘিতে কোলেস্টেরল আছে ঠিকই, কিন্তু খাদ্যগত কোলেস্টেরলের প্রভাব রক্তের কোলেস্টেরলের ওপর খুবই কম। বরং আমাদের লিভারই বেশি কোলেস্টেরল তৈরি করে।

এ বিষয়ে ডা. পান্ডে বলেন, “অত্যধিক ট্রাইগ্লিসারাইড বা খুব দুর্বল হজমব্যবস্থা ছাড়া অধিকাংশ মানুষকেই ঘি বাদ দিতে হয় না।”

“ঘি হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ”

বরং ঘিতে থাকা ভিটামিন কেটু শরীরে ক্যালসিয়াম ঠিক জায়গায় পাঠাতে সাহায্য করে- হাড়ে জমা করে এবং ধমনী থেকে দূরে রাখে। ঘি রান্নায়ও নিরাপদ।

“ঘি লিভারের ক্ষতি করে”

অতিরিক্ত ঘি ক্ষতি করতে পারে, কিন্তু সঠিক পরিমাণে ঘি লিভারের পিত্ত নিঃসরণ বাড়ায় এবং হজমে সাহায্য করে।

“ঘি শুধু শীতে খাওয়া উচিত”

বিশেষজ্ঞ বলছেন, ঘির ব্যবহার পুরো বছরই চলতে পারে, শুধু পরিমাণটা মৌসুম অনুযায়ী মানিয়ে নিতে হয়।

“ঘি ব্রণ বাড়ায়”

চিনি, হরমোন ও স্ট্রেসই সাধারণত ব্রণের প্রধান কারণ। অল্প ঘি ভিটামিন শোষণ বাড়ায় এবং ত্বক মেরামতে সাহায্য করে। তবে শুধুমাত্র অতিরিক্ত খেলেই সমস্যা হতে পারে।

তাহলে কতটুকু ঘি খাবেন?

সুস্থ মানুষের জন্য দৈনিক ১ থেকে ২ চা চামচ ঘি যথেষ্ট। অবশ্যই উচ্চমানের, ঘাস খাওয়ানো গরুর ঘি বেছে নেওয়া ভালো।

যাদের উচ্চ কোলেস্টেরল বা হৃদ্‌রোগ আছে, তাদের অবশ্যই ডাক্তার বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সূত্র: এনডিটিভি