ঢাকা, ২৬ আগস্ট বুধবার, ২০২৬ || ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
good-food
৪৮

‘অবিশ্বাস্য’ দামে বিক্রি ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ বল

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৪:৩০ ২৫ আগস্ট ২০২৬  

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত গোল হিসেবে বিবেচিত ‘হ্যান্ড অব গড’। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে হাত দিয়ে গোল করেছিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। সেই গোলটি জায়গা করেছে নিয়ে ইতিহাসে। 

ওই গোলের পর একই ম্যাচে আর্জেন্টাইন মহানায়ক করেছিলেন আরেকটি গোল, যেটি ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ নামে পরিচিত। এই দুটি গোলই ফুটবল ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছে। 

এবার ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের সময় ব্যবহৃত বলটি নিলামে বিক্রি হয়েছে। সেই ঐতিহাসিক বল কত দামে বিক্রি হয়েছে জানেন? শুনলে চোখ কপালে উঠবেই। বলটি বিক্রি হয়েছে ২৫ লাখ পাউন্ডে! বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ২৮ কোটি টাকা।

শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের হেরিটেজ অকশনসে বলটি বিক্রি হয় ৩৩ লাখ মার্কিন ডলারে। তবে নিলামের আগে ধারণা করা হয়েছিল, বলটির দাম ১ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ৭৩ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত উঠতে পারে।

১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচের ৫১ মিনিটে ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক পিটার শিলটনের সঙ্গে বলের দখল নিতে গিয়ে লাফ দিয়ে হাতে ঠেলে বল জালে পাঠান ম্যারাডোনা। গোলটি নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হলেও রেফারি গোলটি বৈধ ঘোষণা করেন।

ম্যাচ শেষে নিজের ওই গোল সম্পর্কে ম্যারাডোনার থেকে জানতে চাওয়া হয়েছিল। সেই সময় তিনি এক বিখ্যাত মন্তব্য করেছিলেন। বলেছিলেন, “ম্যারাডোনার মাথা আর ঈশ্বরের হাত, দুটোর একটু একটু ছিল।” 

‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের বলটি ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর সংগ্রহ করেছিলেন ম্যাচটির পরিচালনায় থাকা তিউনিসিয়ান রেফারি আলি বিন নাসের। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সেটি নিজের কাছে সংরক্ষণ করেন তিনি। 

২০২৩ সালে একটি চিঠিতে বিন নাসের নিশ্চিত করেন, ১৯৮৬ সালের ওই ম্যাচে এটিই একমাত্র ব্যবহৃত বল ছিল। পরবর্তী সময়ে স্বাধীনভাবে করা যাচাইয়েও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে ২০২২ সালে বিন নাসের বলটি ২৩ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলারে বিক্রি করেছিলেন। পরে নতুন মালিক ২০২৩ সালে আবার বলটি নিলামে তোলেন। 

তবে নির্ধারিত সর্বনিম্ন মূল্য না ওঠায় সেবার বলটি বিক্রি হয়নি। এবার অবশ্য ৩৩ লাখ মার্কিন ডলারে শেষ পর্যন্ত বিক্রি হলো ঐতিহাসিক বলটি।

নিলামের আগে হেরিটেজ অকশনসের বিশেষজ্ঞ নিলামকারী মাইক প্রোভেনজালে বলটির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেছিলেন, “এটি একেবারেই একক ও অনন্য একটি স্মারক। সম্ভবত ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রীগুলোর একটি।”

ম্যারাডোনার সেই ম্যাচের স্মৃতি অবশ্য এর আগেও বড় অঙ্কে বিক্রি হয়েছে। ২০২২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে পরা তার জার্সি নিলামে বিক্রি হয়েছিল ৭১ লাখ পাউন্ডে।

খেলাধুলা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর