ঢাকা, ২৩ জানুয়ারি শুক্রবার, ২০২৬ || ১০ মাঘ ১৪৩২
good-food
২০

আপনার দাঁতের ক্ষতি করছে দৈনন্দিন ৫ অভ্যাস

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৭:১৮ ২৩ জানুয়ারি ২০২৬  

আজকাল যে কোনো ডেন্টাল ক্লিনিকে ঢুকলেই একটি বিষয় চোখে পড়ে। অল্প বয়সী অনেক মানুষ দাঁতে শিরশির ভাব পাতলা হয়ে যাওয়া এনামেল কিংবা দাঁতের কিনারা ভেঙে যাওয়ার অভিযোগ নিয়ে আসছেন। এক সময় এসব সমস্যা মূলত বার্ধক্য বা দীর্ঘদিনের অবহেলার সঙ্গে যুক্ত ছিল। কিন্তু এখন চিত্রটা বদলে গেছে।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে প্রায় ২৭ শতাংশ ডেন্টাল রোগীর দাঁতে এনামেল ক্ষয়ের লক্ষণ রয়েছে এবং এই সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। অবাক করার বিষয় হলো, এই ক্ষতির পেছনে কোনো বড় দুর্ঘটনা বা অবহেলা দায়ী নয়।

 বরং আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কিছু ছোট ছোট অভ্যাস, যা আমরা নিতান্তই সাধারণ মনে করি, সেগুলোই তিলে তিলে দাঁতের ক্ষতি করে চলেছে। আজ আমরা জানব এমন ৫টি অভ্যাসের কথা যা গোপনে আপনার দাঁতের বারোটা বাজাচ্ছে।

বেশি জোরে ব্রাশ করা

অনেকের ধারণা, যত জোরে ঘষে ব্রাশ করা যাবে, দাঁত তত বেশি পরিষ্কার হবে। এই ভুল ধারণা থেকেই অনেকে শক্ত শলাকার ব্রাশ দিয়ে জোরে জোরে দাঁত মাজেন। কিন্তু এতে দাঁতের ওপরের সুরক্ষস্তর বা এনামেল ক্ষয়ে যায়। 

এনামেল একবার নষ্ট হয়ে গেলে তা আর ফিরে পাওয়া যায় না। এর ফলে দাঁতে শিরশিরানি বা সেনসিটিভিটি শুরু হয়। তাই দাঁত পরিষ্কার রাখতে হলে জোরে নয়, বরং সঠিক নিয়মে এবং নরম ব্রাশ দিয়ে আলতো করে মাজা উচিত।

অম্ল ও চিনিযুক্ত খাবার

আধুনিক জীবনে কোমল পানীয়, এনার্জি ড্রিংকস, ফলের রস বা অতিরিক্ত কফি পানের অভ্যাস আমাদের দাঁতের বড় শত্রু। এসব পানীয়তে প্রচুর পরিমাণে এসিড ও চিনি থাকে। প্রতিবার চুমুক দেওয়ার সাথে সাথে এই এসিড দাঁতের এনামেলের ওপর আক্রমণ করে। 

এমনকি যারা নিয়মিত ব্রাশ করেন, তারাও এই ক্ষতি থেকে পুরোপুরি মুক্ত নন। এসিডযুক্ত পানীয় খাওয়ার পর স্ট্র ব্যবহার করা বা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলার অভ্যাস দাঁতকে কিছুটা রক্ষা করতে পারে।

পানি পানে অনীহা

মুখের লালা বা স্যালাইভা আমাদের দাঁতের প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ। এটি মুখের এসিডকে নিরপেক্ষ করে এবং এনামেলকে শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু আমরা যখন পর্যাপ্ত পানি পান করি না, তখন লালা নিঃসরণ কমে যায়। ক্যাফেইন বা অ্যালকোহল পানের ফলেও শরীর পানিশূন্য হতে পারে। এতে দাঁতের সুরক্ষা নষ্ট হয়ে যায়। তাই সারাদিন হাইড্রেটেড থাকা বা পর্যাপ্ত পানি পান করা দাঁত ভালো রাখার অন্যতম সহজ উপায়।

ঘরোয়া উপায়ে দাঁত সাদা করা

সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে অনেকেই লেবুর রস, বেকিং সোডা বা চারকোল দিয়ে দাঁত সাদা করার চেষ্টা করেন। এগুলো সাময়িকভাবে দাঁত চকচকে করতে পারে ঠিকই, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এনামেলের মারাত্মক ক্ষতি করে। 

এসব উপাদানের ঘষামাজায় দাঁতের ওপরের স্তর ক্ষয়ে গিয়ে ভেতরের হলুদ অংশ বেরিয়ে আসে। ফলে দাঁত আরও বেশি হলুদ ও সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। দাঁত সাদা করতে চাইলে ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

সাধারণ টুথপেস্টের ওপর নির্ভরতা

আমরা মনে করি যেকোনো টুথপেস্ট ব্যবহার করলেই হলো। কিন্তু সাধারণ টুথপেস্টগুলো মূলত মুখের সতেজতা বা সাদা করার দিকেই বেশি নজর দেয়। 

এনামেল সুরক্ষার জন্য বিশেষায়িত টুথপেস্ট ব্যবহার করা জরুরি। এগুলো এনামেলকে শক্তিশালী করে এবং এসিডের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। সঠিক টুথপেস্ট নির্বাচন আপনার দাঁতের দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

দাঁত ভালো রাখতে কিছু প্রয়োজনীয় পরামর্শ

দাঁতের এনামেল একবার হারিয়ে গেলে তা আর প্রাকৃতিকভাবে ফিরে পাওয়া যায় না। এটি আমাদের শরীরের এমন একটি অংশ যা নিজে নিজে তৈরি হতে পারে না। তাই প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই এখানে মুখ্য। দাঁত ভালো রাখতে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখুন-

* সবসময় নরম ব্রিসলের টুথব্রাশ ব্যবহার করুন এবং হালকা হাতে ব্রাশ করার অভ্যাস করুন।

* মিষ্টি বা অ্যাসিডিক খাবার খাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট পর ব্রাশ করুন। খাওয়ার পরপরই ব্রাশ করলে নরম হয়ে থাকা এনামেল আরও দ্রুত ক্ষয়ে যায়।

* সারাদিন চুমুক দিয়ে পানি খাওয়ার অভ্যাস করুন যাতে মুখ শুকিয়ে না যায়।

* আপনার টুথপেস্ট নির্বাচনে সচেতন হোন। এমন পেস্ট বেছে নিন যা দাঁতকে ভেতর থেকে মজবুত করতে সাহায্য করে।

একটি সুন্দর হাসির জন্য কেবল সাদা দাঁত থাকলেই চলে না বরং দাঁত সুস্থ থাকা জরুরি। এনামেল যত শক্তিশালী হবে আপনার হাসিও তত দীর্ঘস্থায়ী হবে। 

তাই আজই আপনার ছোট ছোট ভুল অভ্যাসগুলো বদলে ফেলুন এবং দাঁতের সঠিক যত্নে মন দিন। মনে রাখবেন মজবুত দাঁতই সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি।

লাইফস্টাইল বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর