ঢাকা, ২৯ সেপ্টেম্বর শুক্রবার, ২০২৩ || ১৪ আশ্বিন ১৪৩০
good-food
১৬৭

এনআইডি সার্ভার থেকে কোনো তথ্য ফাঁস হয়নি: ডিজি

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ০২:১৭ ১০ জুলাই ২০২৩  

নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সার্ভার ‘সুরক্ষিত আছে’ বলে জানিয়েছেন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক একেএম হুমায়ূন কবীর। ইসির সার্ভার থেকে কোনো তথ্য ফাঁস হয়নি দাবি করে তিনি বলেছেন, ইসির কাছ থেকে ১৭১টি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা সেবা নিয়ে থাকে। সার্ভারের তথ্যাবলীর উপরে কোনো রকমের থ্রেট আসেনি। আমাদের সার্ভার থেকে কোনো রকম তথ্য যায়নি। তারপরেও এই বিষয়ে কোনো ত্রুটি বিচ্যুতি পেলে, চুক্তিপত্র বরখেলাপ হলে তা বাতিল করব।

 

লাখ লাখ বাংলাদেশির ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের খবরে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে এনআইডি ডেটাবেইজের সুরক্ষার বিষয়ে রোববার সংবাদ সম্মেলনে আসেন এনআইডি অনুবিভাগের মহাপরিচালক হুমায়ূন কবীর।

 

তিনি বলেন, ইসির কাছ ভেরিফিকেশন সার্ভিস নেওয়া কোনো পার্টনারের পোর্টাল অরক্ষিত থাকলে কিছু তথ্য লিক হতে পারে। এমন কিছু হয়েছে কিনা খতিয়ে দেখছি। এখন পর্যন্ত আমাদের ডেটা সেন্টার ও ম্যানেজমেন্টে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। আমাদের সার্ভারে এখনও অ্যাবনর্মাল হিট নজরে আসেনি। আমাদের এখান থেকে তথ্য ফাঁস হয়নি।

 

ইসির সার্ভার সুরক্ষিত রয়েছে দাবি করে অধিকতর সুরক্ষা নিশ্চিতে আইসিটি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়ারও কথা জানান হুমায়ূন কবীর। দুদিন আগে বাংলাদেশে সরকারি একটি ওয়েবসাইট থেকে নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের খবর দেয় একটি আমেরিকান ওয়েবসাইট।

 

টেকক্রাঞ্চের ওই খবরে বলা হয়, বাংলাদেশি নাগরিকদের সম্পূর্ণ নাম, ফোন নম্বর, ইমেইল ঠিকানা এবং জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরসহ ব্যক্তিগত তথ্য উন্মুক্ত হয়ে আছে ইন্টারনেটে। আকস্মিকভাবে বাংলাদেশি সাইট থেকে নাগরিকদের তথ্য ফাঁসির বিষয়টি বুঝতে পেরে এক গবেষক ‘বাংলাদেশ ই-গভর্নমেন্ট কম্পিউটার ইন্সিডেন্ট রেসপন্স টিমের (বিজিডি ই-গভ সার্ট) সঙ্গে যোগাযোগও করেন।

 

ভিক্টর মার্কোপোলোস নামে ওই গবেষক যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ‘বিটক্র্যাক সাইবার সিকিউরিটি’র হয়ে কাজ করেন। তিনি ঘটনাচক্রে ২৭ জুন লাখ লাখ বাংলাদেশির তথ্য ইন্টারনেটে উন্মুক্ত হওয়ার বিষয়টি ধরতে পারেন।বাংলাদেশ সরকারের কোন ওয়েবসাইট থেকে তথ্যগুলো উন্মুক্ত হয়েছে, তা প্রকাশ করেনি টেকক্রাঞ্চ। তবে তারা যাচাই করে দেখেছে, উন্মুক্ত হওয়া তথ্যগুলো ভুয়া নয়।

 

বাংলাদেশে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রত্যেক নাগরিককে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র দেয় সরকার। প্রতিটি পরিচয়পত্রই অনন্য (ইউনিক)। এই পরিচয়পত্র দিয়ে নাগরিকরা ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট, জমি কেনা-বেচা, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা এবং অন্যান্য পরিষেবাগুলো পেয়ে থাকেন।

 

ইসিতে ভোটারদের ছবি, আঙুলের ছাপসহ অন্তত ৪০টির তথ্য সম্বলিত তথ্যভাণ্ডার সংরক্ষিত রয়েছে। নানা ধরনের নাগরিক সেবা দিতে অর্ধ শতাধিক সংস্থার সঙ্গে ইসির চুক্তি অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট কয়েকটি তথ্যের ‘ভেরিফিকেশন সার্ভিস’ চালু রয়েছে।

 

ইসির সিস্টেম ম্যানেজার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “এনআইডির সার্ভার হ্যাক হয়নি। সেবা নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্ভার হ্যাক হতে পারে। এনআইডি সার্ভারে কোনো থ্রেট নেই।”


সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এনআইডি সার্ভার কোনো থ্রেটের মধ্যে নেই। ১৭১টি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা তথ্য নিয়ে থাকে। এসব প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সঙ্গে চুক্তি রয়েছে, তারা কোনো তথ্য সংরক্ষণ করে রাখতে পারবেন না। কাজেই তাদের কোটি কোটি ডাটা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

 

বিষয়টি নিয়ে ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথও দাবি করেন, জাতীয় পরিচয়পত্র তথ্য ভাণ্ডার ‘অত্যন্ত সুরক্ষিত’ রয়েছে। তিনি বলেন, প্রায় ১২ কোটি ভোটারের নাগরিক তথ্য সংরক্ষণে আমাদের ডেটাবেইজ অত্যন্ত সুরক্ষিত। বিভিন্ন ধরনের হ্যাকিং প্রবণতা রোধে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ ও সতর্কতা রয়েছে।

 

বাংলাদেশি নাগরিকদের তথ্য আসলেই ফাঁস হয়েছে কিনা, সে ব্যাপারে শনিবার তদন্তে নামার কথা জানিয়েছে সরকারের কম্পিউটার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম (বিজিডি ই-গভ. সার্ট)।