ঢাকা, ২১ আগস্ট বুধবার, ২০১৯ || ৫ ভাদ্র ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
৫৯

এরশাদের আসনে জাপাকে ছাড় দিচ্ছে না আ.লীগ-বিএনপি

প্রকাশিত: ১৬:০৮ ৩১ জুলাই ২০১৯  


সদ্যপ্রয়াত জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর তার শূন্যআসনে কে কে নির্বাচন করবেন তা নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে। মনোনয়ন দৌড়ে কে কে সামিল হচ্ছে এটাই এখন নির্বাচনী এলাকায় আলোচনায় প্রধান্য পাচ্ছে।

সাবেক এ রাষ্ট্রপতির মৃত্যুর পর রংপুর-৩ সদর আসন শূন্য।পার্টির নেতাকর্মীদের মাঝে এখনো শোক বিরাজ করলেও দল থেকে কে নির্বাচন করবেন এই শূন্য আসনে, এ নিয়ে আলোচনা চলছে সর্বত্র। আসন জাতীয় পার্টিরই থাকবে, নাকি চলে যাবে আওয়ামী লীগের দখলে,তার চুলচেরা বিশ্নেষণ চলছে।

 বিএনপিও এ নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও ছাড় দিচ্ছেনা জাপাকে। রংপরের জাপার স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিশ্বাস এরশাদের মৃত্যুর পর তার জানাযা ও দাফনকে কেন্দ্র করে সাবেক এই রাষ্ট্রপতির জনপ্রিয়তা আরো অনেক বেশি বেড়েছে।এ আসনে যেই লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ভোট করুক না কেনো তার সঙ্গে অন্য কেনো দল পাত্তাই পাবে না।

এদিকে জাতীয় পার্টিসহ কোনোদলই এখন পর্যন্ত মনোনয়ন নিশ্চিত করতে পারেননি।তবে এরই মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠে নেমে পড়েছেন।

সূত্র জানায়, ১৯৯০ সালের পর থেকে প্রতিটি নির্বাচনেই বিপুল ভোটের মাধ্যমে জয়লাভ করেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।এরমধ্যে দুইবার এ আসন থেকে জেল থেকেই নির্বাচিত হয়েছিলেন এরশাদ। ভোটের রাজনীতিতে এখানে কখনোই ভাল ফলাফল করতে পারেনি বিএনপি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপি নেতা হাবিব উন নবী খান সোহেল, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজ্জাফর হোসেন দল থেকে মনোনয়ন চাইবেন।আওয়ামী লীগ থেকে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য চৌধুরী খালেকুজ্জামান এবং জেলা নেতা অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম রাজুর নাম শোনা যাচ্ছে।

অপরদিকে জাতীয় পার্টি থেকেই একাধিক প্রার্থীর নাম সোনা যাচ্ছে। পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ চাইছেন ছেলে শাদ এরশাদকে এই আসনে প্রার্থী করতে।কিন্তু সাদের রংপুরে নিয়মিত যাতায়াত না থাকায় তাকে গ্রহণ করছে না স্থানীয় জাপা নেতাকর্মীরা।অনেকে এরশাদের আমেরিকান প্রবাসী ছোট ভাই ড. হুসেইন মুর্শেদের কথা বললেও তিনি কোনো আগ্রহ দেখাননি। এরশাদের আরেক ভাতিজা জাপা থেকে বহিষ্কৃত আসিফ শাহরিয়া মনোনয়ন চাইলেই জেলা রংপুর তাকে মেনে নিবেন না বলে জানিয়েছেন জেলা নেতারা।সেক্ষেত্রে স্থানীয় নেতারা এরশাদ পরিবারে বাইরে রংপুর মহানগর সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসিরকে এক নাম্বার পছন্দের তালিকায় রেখেছেন।এছাড়াও জাপা থেকে পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুজ্জান জাহাঙ্গীর ও জেলা জাপা নেতা আব্দুর রাজ্জাকও পার্টি থেকে মনোনয়ন চাইবেন।তবে, ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর অন্য এলাকার হওয়ায় এবং আব্দুর রাজ্জাক এক সময়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ থাকায় তাদের নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক আছে।

 আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য চেীধুরী খালেকুজ্জামান জানান, এই উপনির্বাচনে অবশ্যই আওয়ামী লীগ প্রার্থী দেবে। তিনি নিজেই মনোননয়ন প্রত্যাশী।আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেই এ বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী দলটির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিবুন নবী খান সোহেল জানান, দল ইতিমধ্যে এই আসনের অংশ নেয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জাপা থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী রংপুর মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির বলেন, নব্বইয়ের পর থেকে প্রতিটি আন্দোলনে রাজপথে ছিলাম।৯০ থেকে ৯৬ সাল পর্যন্ত একমাসও নিজ বাসায় থাকতে পারিনি।এরশাদ মুক্তি আন্দোলনে আমিই প্রথম আসামি হয়েছিলাম। সে সময় আমাদের সাথে যারা আন্দোলন করেছিলেন তারা সিংহভাগই এখন জাপায় নেই।রংপুরের মানুষের সেন্ডিমেন্টকে যদি মূল্যায়ন করা হয় তাহলে আমাকে মনোনয়ন দেবে।

রংপুর মহানগরীর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন বলেন, রংপুর সিটি মেয়র, মহানগরীর ২৫ ওয়ার্ড ও সদরের দুই ভাইস চেয়ারম্যান সম্মিলিতভাবে এস এম ইয়াসিরকে জাপা থেকে একক প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেছি এবং এই সিদ্ধান্ত কেন্দ্রে পাঠিয়েছি।আশা করি কেন্দ্র তৃণমূলের সিদ্ধান্তকে প্রধান্য দিয়ে ইয়াসির ভাইকেই মনোনয়ন দেবেন।


এই বিভাগের আরো খবর