ঢাকা, ০৬ জুলাই সোমবার, ২০২০ || ২২ আষাঢ় ১৪২৭
good-food
৪১৫

কেন খাবেন লাল গমের আটা?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২০:৪৪ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

সাধারণত পুষ্টিকর খাবারে ৫ ধরনের উপাদান থাকে। সেগুলো হলো শক্তি উৎপাদক শর্করা, প্রোটিন, প্রয়োজনীয় ফ্যাট, ভিটামিন ও মিনারেল। যেকোনো ধরনের শস্য দানাতে এ উপাদানগুলো থাকে। যেগুলো আমাদের দেহে জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ শক্তি জুগিয়ে থাকে এবং কাজ করার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। বিভিন্ন ফলমূল এবং শাকসবজিতেও প্রয়োজনীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও মিনারেল থাকে; যা আমাদের শরীরের জন্য বেশ উপকারী।

লাল গমের আটা স্বাস্থ্যসম্মত ও খুবই পুষ্টিকর। কেননা এর বাইরের লাল বা বাদামি আবরণে অনেক পুষ্টিকর উপাদান থাকে। এটি ম্যাগনেশিয়ামে ভরপুর। এটি এক ধরনের খনিজ উপাদান, যা আমাদের দেহের প্রায় ৩০০ রকমের এনজাইমের কাজ পরিচালনা করে।

অন্যদিকে রিফাইন বা পরিশোধিত সাদা আটার পুষ্টিগুণ অনেক কম। যদিও এটি খেতে সুস্বাদু। অত্যধিক পরিশোধনের ফলে দেহের জন্য উপকারী কিছু ভিটামিন ও মিনারেল নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া এ ময়দায় আঁশের পরিমাণ কমে যায়। এর গ্লাইসেমিক সূচকও বেশি।

সাদার তুলনায় লাল আটায় প্রোটিন বেশি থাকে। ফ্যাট কম থাকে। কার্বোহাইড্রেট বেশি থাকে। আঁশের পরিমাণ বেশি থাকে। ক্যালরি কম থাকে। এছাড়া লাল আটা ফলিক এসিড, ফসফরাস, জিংক, কপার, ভিটামিন বি১, বি২ এবং বি৩-এর ভালো উৎস। 

আটা শর্করা জাতীয় খাবার। আটা ও ময়দা দিয়ে তৈরি খাবার যেমন: বিস্কুট, ব্রেড, প্যাটিস, শিঙাড়া, সমুচা ইত্যাদি মুখরোচক খাবার। এখন এসব খাবার তৈরিতে সাদা রঙের রিফাইন্ড বা পরিশোধিত আটা ব্যবহার করা হয়। 

লাল আটা আনরিফাইন্ড বা অপরিশোধিত। খেতে সুস্বাদু হলেও পরিশোধিত সাদা আটার পুষ্টিগুণ অনেক কম। গম থেকে আটা উৎপাদন এবং পরিশোধন প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৪ রকমের ভিটামিন, ১০ ধরনের খনিজ এবং এতে বিদ্যমান আমিষ নষ্ট হয়ে যায়। 
এর মধ্যে ৫০ শতাংশ ক্যালসিয়াম, ৭০ শতাংশ ফসফরাস, ৮০ শতাংশ আয়রন, ৯৮ শতাংশ ম্যাগনেসিয়াম, ৭৫ শতাংশ ম্যাঙ্গানিজ, ৫০ শতাংশ পটাশিয়াম এবং ৬০ শতাংশ কপার বিনষ্ট হয়।

সাদা আটায় খাদ্য আঁশের পরিমাণ কম থাকে। তবে ভূসিসমেত লাল আটায় অনেক আঁশ থাকে। এ আটার রুটি খাওয়ার পর রক্তে গ্লুকোজ ধীরে ধীরে বাড়ে। হৃদরোগ প্রতিরোধ, ওজন কমাতে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে লাল আটার জুড়ি নেই। 

সুস্বাস্থ্যের জন্য লাল আটা
* গবেষণায় দেখা গেছে, লাল আটার অদ্রবণীয় খাদ্য আঁশ রক্তের কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।
* এই আটায় লিগনান নামক এক ধরনের উপাদান রয়েছে, যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
* লাল আটার অদ্রবণীয় খাদ্য আঁশ ডায়াবেটিস রোগের জন্য উপকারী। কারণ এটি রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
* হৃদযন্ত্রের জন্যও উপকারী।
* প্রচুর ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট থাকায় দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
* লাল আটা ওজন কমাতে সহায়তা করে।
* কোষ্ঠকাঠিন্যও দূর করে।
 

লাল আটা ও ডায়াবেটিস
লাল আটা দিয়ে তৈরি খাবারে গ্লাইসেমিক ইনডেক্সও কম থাকে। সাধারণত খাবার খাওয়ার পর তা কত তাড়াতাড়ি রক্তে শোষিত হয় তা নির্ধারণের ইউনিট হচ্ছে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স। শর্করা জাতীয় খাবার যেমন_বিস্কুট, কেক, পিৎজা ইত্যাদি খাওয়ার অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। 
অন্যদিকে লাল আটা খুব অল্প রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায়। তাই ডায়াবেটিক রোগীদের লাল আটার রুটি খেতে পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা।
 

উচ্চ রক্তচাপ নিরাময়ে লাল আটা
রিফাইন্ড আটায় দেহের জন্য উপকারী ভিটামিন ও মিনারেলের ঘাটতি থাকায় তা দেহের রক্ত চাপ বাড়িয়ে দেয়। ফলে আমরা উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হই। তাই তা নিয়ন্ত্রণ করতে হলে লাল আটা দিয়ে তৈরি খাবার খেতে হবে।
 

ত্বক সুরক্ষায় লাল আটা
অতিরিক্ত পরিশোধিত আটা দিয়ে তৈরি খাবার খেলে ত্বক ভালো থাকে। ব্রণের সমস্যা কম হয়। কারণ লাল আটায় বিদ্যমান খাদ্য আঁশ শরীরের টক্সিন-জাতীয় উপাদান বের করে দিতে সাহায্য করে।
 

সতর্কতা
* লাল আটায় অক্সালেট নামক উপাদান রয়েছে। তাই যাদের গলব্লাডারে পাথর রয়েছে এবং যারা কিডনি রোগে আক্রান্ত, তাদের লাল আটা খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
* অনেকের লাল আটা খেলে অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে।

অতএব, সকালের নাশতায় যারা রুটি পছন্দ করেন, তারা সাদা আটার পরিবর্তে ভূসিসমেত লাল আটার অভ্যাস করুন।