ঢাকা, ২৬ জানুয়ারি সোমবার, ২০২৬ || ১২ মাঘ ১৪৩২
good-food

ক্ষুধা লাগলে মেজাজ কেন খিটখিটে হয়?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২০:৪২ ২৫ জানুয়ারি ২০২৬  

অনেকেই লক্ষ্য করেছেন যে ক্ষুধা পেলে হঠাৎ করেই মেজাজ বিগড়ে যায়। শান্ত মানুষটাও হঠাৎ খিটখিটে হয়ে ওঠেন। শিশুদের ক্ষেত্রে তো কথাই নেই, খেলার মাঠে হাসিখুশি শিশুটি মুহূর্তেই কান্নাকাটি শুরু করে দিতে পারে। এই অভিজ্ঞতা নতুন নয়। শিশু থেকে শুরু করে বড় মানুষ সবাই জানে, পেট খালি থাকলে মেজাজ ভালো থাকে না। আমরা বিরক্ত হই। অল্পতেই রেগে যাই। কিন্তু এই অনুভূতিকে বোঝাতে আলাদা একটি শব্দ আছে যা অনেকেরই অজানা।

এই অনুভূতির নাম ‘হ্যাংরি’ (Hungry)। ইংরেজি হাঙ্গরি (ক্ষুধার্ত) এবং অ্যাংরি (রাগান্বিত) শব্দ দুটি মিলিয়ে এই শব্দটি তৈরি হয়েছে। ২০১৮ সালে অক্সফোর্ড ডিকশনারিতে এটি স্থান পেলেও এই অনুভূতির বয়স অনেক পুরনো। কিন্তু ক্ষুধার সাথে আমাদের মেজাজের এই গভীর সম্পর্ক নিয়ে বিজ্ঞানীদের কাছে এতদিন খুব বেশি তথ্য ছিল না। অধিকাংশ গবেষণাই মূলত খাদ্যাভ্যাস বা বিপাকীয় সমস্যা নিয়ে হয়েছে। সম্প্রতি মনোবিজ্ঞান এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একটি দল মানুষের দৈনন্দিন মেজাজের ওপর ক্ষুধার প্রভাব নিয়ে একটি বিশেষ গবেষণা চালিয়েছেন। তারা দেখতে চেয়েছেন কেন ক্ষুধার সময় কেউ শান্ত থাকতে পারেন আবার কেউ দ্রুত মেজাজ হারান। কিন্তু কেন এমন হয়?

সাধারণত ধারণা করা হয় যে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গেলেই আমরা ক্ষুধার্ত হই এবং মেজাজ খারাপ হয়। কিন্তু বিজ্ঞানীদের গবেষণা বলছে বিষয়টি এত সহজ নয়। ৯০ জন সুস্থ মানুষের ওপর এক মাস ধরে গবেষণা চালিয়ে তারা দেখেছেন যে শুধু রক্তের গ্লুকোজ লেভেল কমে যাওয়াটাই মেজাজ খারাপের মূল কারণ নয়। বরং যখন মানুষ সচেতনভাবে বুঝতে পারে যে সে ক্ষুধার্ত, তখনই তার মেজাজ খারাপ হতে শুরু করে। অর্থাৎ ক্ষুধা লাগার অনুভূতির সাথে আমাদের মনের সচেতনতা বা ইন্টারোসেপশন জড়িত।

আমাদের মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশের নিউরনগুলো শরীরে শক্তির ঘাটতি বুঝতে পারলে ক্ষুধার সংকেত পাঠায়। এই সংকেত তখন মস্তিষ্কের অন্য একটি অংশ ‘ইনসুলা’-তে পৌঁছায়। ইনসুলা আমাদের স্বাদ এবং আবেগের অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করে। গবেষকরা দেখেছেন, যারা তাদের শরীরের ভেতরের সংকেত বা শক্তির মাত্রা সঠিকভাবে বুঝতে পারেন, তাদের মেজাজ খুব একটা ওঠানামা করে না। তারা ক্ষুধা লাগলেও শান্ত থাকতে পারেন।

শিশুরা তাদের শরীরের দ্রুত পরিবর্তনশীল সংকেতগুলো ঠিকমতো বুঝতে পারে না। তারা খেলার সময় এতটাই মগ্ন থাকে যে ক্ষুধা বা তৃষ্ণার কথা ভুলে যায়। হঠাৎ করে যখন শক্তির ঘাটতি দেখা দেয়, তখন তারা কান্নাকাটি বা জেদ করতে শুরু করে। ঠিক তেমনই বড়রাও আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা আর ডিজিটাল পর্দার আকর্ষণে অনেক সময় খাওয়ার কথা ভুলে যান। ফলে হঠাৎ করেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায় এবং ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা বাড়ে। ক্ষুধা মেটাতে তখন হাতের কাছে থাকা ফাস্টফুড বা অস্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে ঝোঁক বাড়ে।

'হ্যাংরি' অবস্থা থেকে বাঁচার উপায়

ক্ষুধা থেকে তৈরি হওয়া বিরক্তি বা রাগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এর জন্য কিছু সহজ নিয়ম মেনে চলা যেতে পারে-

#খাবারের নির্দিষ্ট সময় মেনে চলা নিয়ম করে খাবার খেলে শরীর একটি নির্দিষ্ট ছন্দে চলে। খাবারের সময় বাদ দিলেবা দেরি করলে মেজাজ খিটখিটে হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

#শরীরের প্রতি মনোযোগ দেওয়া কাজের ফাঁকেও নিজের শরীরের দিকে একটু খেয়াল করুন। সামান্য ক্ষুধা অনুভব করলেই হালকা কিছু খেয়ে নিন।

#শারীরিক পরিশ্রম নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া ভালো থাকে এবং ক্ষুধার সংকেত বোঝার ক্ষমতা বাড়ে।
#সচেতনতা পরিবারের কোনো সদস্য বা বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে তাদের মেজাজ খারাপ হওয়ার আগেই খাবারের ব্যবস্থা করুন।

নিজের শরীরের ভাষা বুঝতে পারলে ক্ষুধার জ্বালায় মেজাজ হারানোর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। ছোটদের ক্ষেত্রেও অভিভাবকদের উচিত সময়মতো তাদের খাবার দেওয়া, যাতে ক্ষুধার্ত হয়ে তাদের মন খারাপ না হয়। একটু সচেতনতা আমাদের শরীর ও মন দুটোই ভালো রাখতে পারে।
 

লাইফস্টাইল বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর