ঢাকা, ১০ এপ্রিল শুক্রবার, ২০২০ || ২৬ চৈত্র ১৪২৬
good-food
৪১

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর লকডাউন নিয়ে ধোঁয়াশা

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২৩:০৩ ২২ মার্চ ২০২০  

ভয়ংকর করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মাদারীপুরের শিবচরের পর রোববার লকডাউন করার ঘোষণা দেয়া হয় গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলা। তবে এ নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। 

 

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলাকে লকডাউন করার সিদ্ধান্ত নেয় উপজেলা প্রশাসন। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তিও দেয়া হয়।

 

গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনে নির্বাচনের একদিন পরই  সাদুল্লাপুর  ‘লকডাউন’ করার সিদ্ধান্তটি নেয় উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠিও দেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে জেলা প্রশাসক জানান এমন একটি চিঠি এলেও আমি গ্রহণ করিনি।

 

এদিকে একটি বিয়েতে দুজন বিদেশফেরত করোনা রোগীর উপস্থিতির পর লকডাউন চাচ্ছিলেন এলাকাবাসী।  বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন জল ঘোলা করায় এখন ধোঁয়াশায় উপজেলাবাসী।


এর আগে রোববার (২২ মার্চ) এ সংক্রান্ত একটি চিঠি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নবী নেওয়াজ জেলা প্রশাসক আবদুল মতিনের কাছে পাঠান।

 

ওই চিঠিতে ইউএনও উল্লেখ করেন, সাদুল্লাপুর ৯ নম্বর বনগ্রাম ইউনিয়নের হবিবুল্লাপুর গ্রামের বাসিন্দা কালজ মণ্ডলের বিয়েতে দুইজন আমেরিকা প্রবাসী অংশ নেন। তারা দু’জনেই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। ওই বিয়েতে প্রায় ৪-৫শ লোক উপস্থিত ছিলেন। এরপর শনিবার (২১ মার্চ) গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দ্রুত ভাইরাসটি ছড়াতে পরে এমন শঙ্কায় এ উপজেলা লকডাউন করার সিন্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন  বলেন, ‘কোনো ‘লকডাউন’ না। চিঠিটি ভুলভাবে ছড়িয়েছে। এখানে তো কিছু হয়নি। ‘লকডাউন’ কেন হবে? কোনো রোগীই তো শনাক্ত হয়নি। ‘লকডাউন’ আমরা কেনো করতে যাবো? বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। ইউএনও তার চিঠি ফিরিয়ে নিয়েছেন।’

 

জেলা প্রশাসক (ডিসি) বলেছেন, উপজেলা লকডাউন করা হয়নি। লকডাউন ঘোষণা করায় ওই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) শোকজ করা হবে।

 

সাদুল্যাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নবীনেওয়াজ স্বাক্ষরিত ২২ মার্চের স্মারকপত্রে বলা হয়, সাদুল্যাপুর রোববার উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নে হবিবুল্লাপুর গ্রামে কাজল মণ্ডল পিতা শচিন্দ্র নাথ মণ্ডলের বোনের বিবাহোত্তর অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন দুজন আমেরিকা প্রবাসী আত্মীয়। তারা করোনাভাইরস পজেটিভ হিসাবে শনাক্ত হয়েছেন।

 

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রায় ৫০০ লোক দাওয়াত প্রাপ্ত হয়ে উপস্থিত ছিলেন। এ অবস্থায় ভাইরাসটি দ্রুত সংক্রামণ ঘটতে পারে মর্মে আশু আশংকা রয়েছে। ফলে অত্র উপজেলার সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে সাদুল্লাপুর উপজেলা করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে সাদুল্লাপুর উপজেলাকে 'লকডাউন' সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে মর্মে পত্রে উল্লেখ করা হয়। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে পত্রটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রেরিত হয়।

 

সাদুল্যাপুর উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহিনুর ইসলাম জানান, সাদুল্যাপুর উপজেলার হবিবুল্লাপুর গ্রামের কাজল চন্দ্র মণ্ডলের বাড়িতে আমেরিকা প্রবাসী দুজন আত্মীয় (যারা গাইবান্ধা শহরের খাপাড়ায় হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন)  ১১ ও ১২ মার্চ অবস্থান করেন। ১৩ মার্চ বিবাহোত্তর অনুষ্ঠানের নিমন্ত্রণ খেয়ে গাইবান্ধা শহরের খাঁ পাড়ায় নিজ বাড়িতে চলে যান।

 

তিনি আরও জানান, পরে তাদের দুজনের নমুনা ঢাকায় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়। রোববার আইইডিসিআর থেকে জানানো হয়, ওই দুইজনের নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

 

সিভিল সার্জন ডা. এবিএম আবু হানিফ বলেন, সাদুল্যাপুরের হবিবুল্লাপুরে করোনাভাইরাস আক্রান্ত পজেটিভ কোনো রোগীর শনাক্ত হয়েছে এই মর্মে কোনো তথ্য নেই। সুতরাং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নবীনেওয়াজ স্বাক্ষরিত উল্লেখিত বিষয়টি সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন। গুজবে কান না দেয়ার জন্য তিনি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

 

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন জানান, সাদুল্যাপুর উপজেলার ওই গ্রামে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এই মর্মে কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। সুতরাং লকডাউন করার কোন প্রয়োজনীয়তা নেই। প্রকৃত পক্ষে হবিবুল্লাপুর গ্রামে সন্দেহভাজনদের হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

 

সাদুল্যাপুর উপজেলাকে লকডাউন করার সিদ্ধান্তটি সঠিক নয় উল্লেখ করে কোনো গুজব না ছড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক।