ঢাকা, ২১ জানুয়ারি বুধবার, ২০২৬ || ৭ মাঘ ১৪৩২
good-food
১২

ঘরের কোন জিনিসটি কত দিন ব্যবহার করা নিরাপদ?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২০:৪৭ ২০ জানুয়ারি ২০২৬  

ঘর গুছিয়ে রাখা আর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা মানেই শুধু ধুলোবালি ঝেড়ে ফেলা নয়। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য আমাদের ব্যবহৃত নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলো সময়মতো পরিবর্তন করাও অত্যন্ত জরুরি। আমরা অনেক সময় মায়ার টানে বা আলসেমি করে পুরনো জিনিস ব্যবহার করতে থাকি। ভাবি যে আরেকটু চলুক না, এখনই ফেলে দেওয়ার কী দরকার? কিন্তু এই সামান্য অবহেলা আমাদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে। 

আমাদের প্রতিদিনের ব্যবহার্য জিনিসগুলোতে জীবাণু আর ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধে, যা সাধারণ চোখে দেখা যায় না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্দিষ্ট সময় পর পর এসব জিনিস বদলে ফেলা উচিত। চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক ঘরের কোন জিনিসটি কত দিন পর পরিবর্তন করা স্বাস্থ্যসম্মত।

রান্নাঘর জীবাণুর আস্তানা

রান্নাঘর হলো বাড়ির সবচেয়ে ব্যস্ত জায়গা এবং একই সাথে জীবাণুর প্রিয় বাসস্থান। এখানকার কিছু জিনিসের দিকে আমরা খুব একটা নজর দিই না, কিন্তু সেগুলো নিয়মিত বদলানো খুব জরুরি।

স্পঞ্জ এবং ডিশ ক্লথ

থালাবাসন ধোয়ার স্পঞ্জ বা কাপড় আমরা মাসের পর মাস ব্যবহার করি। অথচ এটি সব সময় ভেজা থাকে এবং এতে খাবারের কণা লেগে থাকে। ফলে এখানে ব্যাকটেরিয়া খুব দ্রুত বংশবিস্তার করে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, প্রতি ১৫ দিন পর পর বা দুর্গন্ধ বের হওয়ার সাথে সাথেই এটি বদলে ফেলা উচিত। প্রতিদিন ব্যবহারের পর এটি ভালো করে ধুয়ে রোদে শুকানো ভালো। কলকাতার গৃহিণী শুভী চ্যাটার্জি বলেন, তিনি প্রতি ৭ থেকে ১০ দিন অন্তর তার রান্নাঘরের স্পঞ্জ পরিবর্তন করেন। তার মতে, এটি নিয়ে কোনো আপস করা উচিত নয়।

পানির ফিল্টার

পানির ফিল্টার আমাদের নিরাপদ পানি দেয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে এতে আয়রন বা অন্যান্য ময়লা জমে আটকে যায় এবং এর কার্যক্ষমতা কমে যায়। এলাকার পানির মানের ওপর ভিত্তি করে প্রতি ৩ থেকে ৬ মাস পর পর ফিল্টার কার্টিজ পরিবর্তন করা উচিত। আর যদি আপনি পিচার ফিল্টার ব্যবহার করেন তবে সেটি ১ থেকে ২ মাস অন্তর বদলানোই বুদ্ধিমানের কাজ।

মসলা

প্যাকেটজাত মসলার গায়ে লেখা মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। প্যাকেট খোলার পর ব্যবহার না করলেও ৬ মাসের বেশি রাখা ঠিক নয়। এতে স্বাদ ও গন্ধ নষ্ট হয়ে যায়। তবে আস্ত মসলা ঠিকমতো সংরক্ষণ করলে ৩ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত ভালো থাকে।

রান্নার সরঞ্জাম

একটি হাড়ি বা কড়াই সাধারণত ৫ বছর পর্যন্ত ভালো থাকে। তবে রান্নার বাসনের উপাদানের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। বিশেষ করে ননস্টিক প্যানের প্রলেপ বা কোটিং যদি একটুও উঠে যায় তবে সেটি আর ব্যবহার করা উচিত নয়। ভালো মানের পাত্র দীর্ঘদিন টেকে। 

বাথরুমের পরিচ্ছন্নতা ও সতর্কতা

বাথরুম সব সময় ভেজা থাকে বলে এখানে ফাঙ্গাস বা মোল্ড জন্মানোর সুযোগ বেশি। তাই বাথরুমের জিনিসপত্র নিয়মিত পরিবর্তন করা স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।

টুথব্রাশ

দন্ত্যচিকিৎসকদের মতে, প্রতি ৩ থেকে ৪ মাস পর পর টুথব্রাশ পরিবর্তন করা উচিত। ব্রাশের শলাকা বা ব্রিসলগুলো বাঁকা হয়ে গেলে আরও আগেই বদলানো দরকার। মহারাষ্ট্রের অরূপ কুমার জানান, তিনি তার পরিবারের সবার জন্য প্রতি ২ মাস অন্তর নতুন টুথব্রাশ কেনেন। দাঁতের সুরক্ষা তার কাছে সবার আগে।

লুফা বা শরীর মাজুনী

গোসলের সময় ব্যবহৃত লুফা অথবা স্পঞ্জ বা শরীর মাজুনী শরীরের মরা চামড়া পরিষ্কার করে। দীর্ঘক্ষণ ভেজা অবস্থায় থাকায় এগুলোর ভেতরে যে কত পরিমাণ ময়লা জমে তা আমরা কল্পনাও করতে পারি না।। তাই প্রতি ২ থেকে ৩ মাস পর পর এটি পরিবর্তন করা উচিত।

টয়লেট ব্রাশ

৬ থেকে ১২ মাস টয়লেট ব্রাশে প্রচুর পরিমাণে জীবাণু লেগে থাকে যা শুধু পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করা সম্ভব নয়। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে বছরে অন্তত একবার বা সম্ভব হলে ৬ মাস অন্তর ব্রাশটি বদলে ফেলুন।

তোয়ালে

তোয়ালে দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে এর সুতাগুলো নষ্ট হয়ে যায় এবং এতে দুর্গন্ধ হয়। তাই ১ থেকে ২ বছর পর পর তোয়ালে এবং বাথরুমের ম্যাট বদলে ফেলা উচিত।

শোবার ঘর শান্তির নীড়

শোবার ঘরের কিছু জিনিস আমরা কম বদলাই। কিন্তু ধুলোবালি জমা বিছানা বা পুরনো বালিশ ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এবং অ্যালার্জির কারণ হতে পারে।

বিছানার চাদর

বিছানার চাদর নিয়মিত ধোয়া হলেও ২ থেকে ৩ বছর পর পর নতুন চাদর কেনা ভালো। কাপড়ের মান ও ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে এই সময় কমবেশি হতে পারে।

বালিশ

বালিশে শরীরের তেল ও অ্যালার্জেন জমে থাকে। তাই প্রতি ১ থেকে ২ বছর পর পর বালিশ পরিবর্তন করা উচিত।

ম্যাট্রেস বা তোশক

ভালো ঘুমের জন্য আরামদায়ক ম্যাট্রেস খুব জরুরি। সাধারণত ৮ থেকে ১০ বছর ব্যবহারের পর ম্যাট্রেস তার সাপোর্ট বা আরামদায়ক ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তখন এটি বদলে ফেলা উচিত।

বড় ইলেকট্রনিক্স ও আসবাবপত্র

ফ্রিজ, এসি বা ওয়াশিং মেশিনের মতো বড় যন্ত্রগুলো সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হয়। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করলে এগুলো ১৫ বছর পর্যন্ত ভালো সেবা দিতে পারে। তবে কার্যক্ষমতা কমে গেলে বা বারবার নষ্ট হলে বদলানোই বুদ্ধিমানের কাজ।

ঘর সাজানো বা নতুনের ছোঁয়া পাওয়ার জন্য নয়, বরং পরিবারের সবার সুস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করেই আমাদের এই নিয়মগুলো মেনে চলা উচিত। পুরনো জিনিস আঁকড়ে না ধরে সময়মতো পরিবর্তন করলে ঘর হবে জীবাণুমুক্ত এবং জীবন হবে নিরাপদ।