ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর রোববার, ২০১৯ || ৭ আশ্বিন ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
৩৮৬

ডাকসু নির্বাচনে সম্ভাব্য প্যানেল এবং প্রার্থী যারা

প্রকাশিত: ১৪:১৮ ২৭ জানুয়ারি ২০১৯  

ছবি সংগৃহীত

ছবি সংগৃহীত


 

প্রায় ২৯ বছর পরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল নির্বাচন। ইতিমধ্যেই আগামী ১১ মার্চ ঘোষনা করা হয়েছে নির্বাচনের তারিখ।  এরই মধ্যে ভোটার তালিকা প্রণয়ন, প্রধান ও অন্যান্য রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ, নির্বাচনী আচরণবিধির খসড়া প্রণয়নসহ বিভিন্ন কাজ শেষ হয়েছে।

এ নিয়ে ক্রীয়াশীল ছাত্র সংগঠন গুলার মধ্যে রয়েছে ব্যাপক তোড়জোড়। সংগঠনের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারন শিক্ষার্থীর চায়ের কাপ, প্রায় সর্বত্রই এখন আলোচনার বিষয় ডাকসু নির্বাচন।

কোনো রাজনীতির সঙ্গে সংশ্নিষ্ট নন, এমন সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের বক্তব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬ হাজার ছাত্রছাত্রীদের চাওয়া যিনি বুঝতে পারবেন, দাবি পূরণে উদ্যোগী ও কর্মঠ, নির্লোভ ও কোনো বদনাম নেই- এমন প্রার্থীদেরই ভোট দেওয়ার কথা ভাবছেন তারা।

ডাকসু নির্বাচনে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রার্থিতার বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে এ নিয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে দ্বিধাবিভক্তি রয়েছে।

ডাকসুর গঠনতন্ত্রের ৪ ধারা অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ও অনাবাসিক সব নিয়মিত শিক্ষার্থীই ডাকসুর সদস্য। এর জন্য তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সব আর্থিক প্রাপ্য পরিশোধ করতে হবে। এ ছাড়া ডাকসু নির্ধারিত নিবন্ধন ফি দিয়ে অনিয়মিত শিক্ষার্থীরাও সদস্য হতে পারেন। একই ধারা অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদেরও নিবন্ধন ফির বিনিময়ে ডাকসুর সদস্য হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

 

ফলে ডাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নিয়মিত শিক্ষার্থীর শর্ত পূরণ করতে না পারায় ছাত্রলীগ, ছাত্রদল এবং বাম সংগঠনের অনেক শীর্ষ নেতাই প্রার্থী হতে পারবেন না। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও ঢাবি শাখার শীর্ষ চার নেতার মধ্যে তিনজন; ছাত্রদলের চারজন; প্রগতিশীল ছাত্রজোটভুক্ত চারটি বামপন্থি ছাত্র সংগঠন ও ছাত্রসংগ্রাম পরিষদভুক্ত তিনটি ছাত্র সংগঠনের ১০ জন- সব মিলিয়ে ৯টি সংগঠনের ১৭ নেতা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না।

আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহেই ঘোষণা হতে পারে নির্বাচনের তফসিল। তাই প্রার্থিতার ক্ষেত্রে চারটি প্যানেলের প্রার্থীদের মধ্যেই ডাকসু নির্বাচনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। সম্ভাব্য প্যানেলগুলো হলো- বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর মোর্চা প্রগতিশীল ছাত্রজোট এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।

 

ছাত্রলীগ:

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের তিন শীর্ষ নেতাই বর্তমান গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ২০০৮-০৯ এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। আর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের। সে হিসেবে এ তিন নেতা নিয়মিত ছাত্রের তালিকায় পড়েন না। সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন ভর্তি হন ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে।  এই চার নেতার মধ্যে শুধু সাদ্দাম হোসাইনই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। শিক্ষা বিরতি থাকায় তার ছাত্রত্ব এখনও শেষ হয়নি।

এ ছাড়াও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক উপ-কৃষিশিক্ষা বিষয় সম্পাদক আসিফ উদ্দিন আহমেদ, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সানী, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রলীগের সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেল, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা ডাকসু নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন।

এদিকে প্রার্থিতা ঘোষণা নিয়ে দোটানায় রয়েছে এ সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা। কারণ নতুন কমিটি গঠনের পর প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও তারা এখনও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি। গঠন হয়নি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটিও। ফলে ডাকসু ও হল সংসদগুলোয় প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে নিজেদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।

 

জাসদ ছাত্রলীগ :

এ সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দু'জনই ঢাকা কলেজের ছাত্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মাসুদ আহমেদ ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষে ও সাধারণ সম্পাদক চন্দ্রনাথ পাল ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তারা কেউই প্রার্থী হতে পারবেন না।

জাসদ (আম্বিয়া) সমর্থিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-বিসিএলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ঢাবির শিক্ষার্থী নন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সাদেকুুর রহমান সাগর ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রাহাত ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তারা প্রার্থী হতে পারবেন।

ছাত্রমৈত্রীর কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন। সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক রুদ্র রফিকুল্লাহ রাব্বী ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ও যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রাসেল ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তারা দু'জনই ডাকসু নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন।

ছাত্রদল প্যানেল :
ছাত্রত্ব না থাকায় ছাত্রদলের শীর্ষ চার নেতার কেউই ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার ২০০২-০৩, সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার ২০০৩-০৪, সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিব আহসান ১৯৯৫-৯৬, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান ১৯৯৭-৯৮ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেই হিসেবে তারা চারজনও নিয়মিত ছাত্রের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন অনেক আগেই। এ ছাড়া সংগঠনটির বিভিন্ন হল শাখার নেতাদেরও ছাত্রত্ব নেই।

প্রগতিশীল ছাত্রজোট :
ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি জি এম জিলানী ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। তিনি প্রার্থী হতে পারবেন না। সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। ছাত্রত্ব না থাকায় বাদ পড়বেন তিনিও। সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে আর সাধারণ সম্পাদক রাজীব দাস ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। গঠনতন্ত্র অনুসারে, এ দুই নেতা ডাকসু নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কেউই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আলমগীর হোসেন সুজন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল করছেন। সাধারণ সম্পাদক রাজীব গান্ধী রায় ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। রাজীব গান্ধী রায় প্রার্থী হতে পারবেন।

বাসদ (মার্ক্সবাদী) সমর্থিত ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাসুদ রানা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। সাধারণ সম্পাদক রাশেদ শাহরিয়ার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকী এবং সাধারণ সম্পাদক প্রগতি বর্মণ তমা দু'জনই ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে স্নাতকে ভর্তি হয়েছিলেন। তবে এ ক্ষেত্রে সালমানেরই কেবল ছাত্রত্ব রয়েছে।

ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কেউই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন। বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজীর ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে ও সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হক ইশতিয়াক ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। এ ক্ষেত্রে সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হক ইশতিয়াকপ্রার্থী হতে পারবেন।

সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ :

এদিকে গত বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি আন্দোলন শুরু করার দিন সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ৭১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছিল কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। এর মধ্যে ৪০ জনই ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

তাদের মধ্য থেকে পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূর, রাশেদ খান, ফারুক হাসান- এই তিনজনের নেতৃত্বে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতারা নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। ডাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বাদ পড়তে পারেন। এ ছাড়াও পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজ খান, বেলাল, সোহরাব হোসেন, বিন ইয়ামিন মোল্লা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন।


এই বিভাগের আরো খবর