ঢাকা, ২৩ অক্টোবর শুক্রবার, ২০২০ || ৮ কার্তিক ১৪২৭
good-food
৩৬

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, প্রতিদিন কলা খান

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৬:৩৫ ১৭ অক্টোবর ২০২০  

বিগত কয়েক দশকে দেশে ব্লাড প্রেসার রোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের বেশিরভাগেরই বয়স ৪৫ এর নিচে। এমন পরিস্থিতিতে প্রত্যেক বাংলাদেশিরই প্রতিদিন একটি করে কলা খাওয়া উচিত। 

 

এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম, যা শরীরে প্রবেশের পর সোডিয়ামের প্রভাব কমাতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। সেই সঙ্গে আরও একাধিক শারীরিক সমস্যা বাগে আসে। যেমন ধরুন... 

 

হাড় শক্তপোক্ত: একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত একটি করে কলা খেলে শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দূর হয়। এতে হাড় শক্তপোক্ত হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে অস্টিওআথ্রাইটিসের মতো বোন ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে।

 

দৃষ্টিশক্তির উন্নতি: এজন্য বাস্তবে কলার বিকল্প নেই। এতে উপস্থিত ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম এবং আরও নানাবিধ উপাদান শরীরে প্রবেশের পর চোখের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। রেটিনার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ম্যাকুলার ডিজেনারেশন কিংবা কোনও ধরনের চোখের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।

 

শরীর চাঙ্গা: কাজের চাপে খুবই ক্লান্ত! এমন পরিস্থিতিতে একটি কলা খান। দেখবেন অনেক চাঙ্গা লাগছে। কারণ ক্লান্তি দূর করতে এর জুড়ি নেই। মূলত এ কারণেই অ্যাথলেটদের ডায়েটে এটি অবশ্যই থাকে! 

 

ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি: কলার খোসা মুখে লাগালে ত্বকের রোগের প্রকোপ কমে। পাশাপাশি স্কিনের হারিয়ে যাওয়া ঔজ্জ্বল্য ফিরে। খোসায় থাকা একাধিক উপাকারি উপাদান এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। 

 

হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে: কলায় এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা পাচক রসের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। স্বাভাবিকভাবেই হজম প্রক্রিয়ার উন্নতি ঘটে। 

 

স্ট্রেস কমে: বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ডায়েটে কলা রাখলে শরীরে ট্রাইপটোফিন উপাদানের মাত্রা চোখে পড়ার মতো বৃদ্ধি পায়। যার প্রভাবে ফিল গুড হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। এতে স্ট্রেস লেভেল কমে। মানসিক অবসাদের প্রকোপ কমতেও সময় লাগে না। 

 

আজকের যুবসমাজের সিংহভাগই স্ট্রেস সমস্যার শিকার। স্বভাবতই তাদের নিয়মিত কলা খাওয়ার প্রয়োজন বেড়েছে। এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই! 

 

পুষ্টির ঘাটতি দূর: শরীরের সচলতা বজায় রাখতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট মাত্রায় ভিটামিন ও মিনারেলের প্রয়োজন। দেহ এসব উপাদানের যোগান পায় খাবারের মাধ্যমে। সমস্যাটা হলো আজকের প্রজন্ম অনেক ব্যস্ত থাকে। তাদের হাতে ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়ার সময় থাকে না। ফলে যা হওয়ার তাই হয়, পুষ্টির ঘাটতির কারণে নানাবিধ রোগ বাসা বাঁধে শরীরে। এমন পরিস্থিতিতে কলা দারুণ কাজে আসতে পারে। 

 

কিভাবে? এ ফলে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন ও মিনারেল। পাশাপাশি আছে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন ও ফলেটের মতো উপাদান, যা শরীর চাঙ্গা রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই ঠিক সময়ে খাবার খাওয়ার সুযোগ না পেলে ২-৪টি কলা খেতে ভুলবেন না! 

 

টক্সিক উপাদান বেরিয়ে যায়: শরীরে উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিক উপাদান বের করে দেয় কলা। দেহের প্রতিটি অঙ্গ চাঙ্গা রাখতে এর বিকল্প নেই। ফলটিতে বিদ্যমান প্রেকটিন উপাদান শরীরে প্রবেশ করা মাত্র ক্ষতিকর উপাদান বিনষ্ট হয়। ফলে শরীর হয় রোগমুক্ত। 

 

অ্যানিমিয়া দূরে পালায়: কলায় রয়েছে বিপুল পরিমাণে আয়রন, যা শরীরে লোহিত রক্তকণিকার মাত্রা বৃদ্ধি করে। এর মাধ্যমে অ্যানিমিয়ার প্রকোপ কমাতে অবদান রাখে। যারা এমন রোগে ভুগছেন, তারা আয়রন ট্য়াবলেটের পাশাপাশি নিয়ম করে কলা খান, চমৎকার উপকার মিলবে। 

 

ওজন নিয়ন্ত্রণে আসে: কলায় পটাশিয়াম ছাড়া রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ফাইবার, যা অনেকক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে। ফলে খাওয়ার পরিমাণ কমতে শুরু করে। কম খেলে ওজনও কমে! ফাইবার কনস্টিপেশনের মতো রোগ সারাতেও সহায়ক এটি। 

 

ডায়াবেটিস দূর: কলা খাওয়া মাত্র শরীরে ৩ গ্রামের মতো ডায়াটারি ফাইবারের প্রবেশ ঘটে। যার প্রভাবে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায় না। যে কারণে টাইপ-১ ও টাইপ-২, দুই ধরনের ডায়াবেটিস রোগীদেরই এ ফল খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। সর্বোপরি, এ মারণ রোগ থেকে দূরে থাকতে নিয়মিত কলা খাওয়া আবশ্যক।