ঢাকা, ২৬ জানুয়ারি সোমবার, ২০২৬ || ১৩ মাঘ ১৪৩২
good-food

তারেক, শফিকুর, নাহিদ ও জারা: ফেসবুকে বেশি অনুসারী কার?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৭:১৯ ২৬ জানুয়ারি ২০২৬  

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রচারণার চিরাচরিত জনসভা বা দ্বারে দ্বারে যাওয়ার পদ্ধতির পাশাপাশি প্রার্থীদের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের এই ডিজিটাল মাধ্যমে কে কতটা প্রভাবশালী, তা এখন অনেকেরই আগ্রহের বিষয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ফেসবুকে বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অনুসারীর সংখ্যা প্রচারের কৌশলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এই অনলাইন জনপ্রিয়তার দৌড়ে প্রধান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। যেমন, ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারার ফেসবুক অনুসারীর সংখ্যা ৭১ লাখের বেশি, যা অনেক শীর্ষ নেতাকেও ছাড়িয়ে গেছে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ফেসবুক পেজে অনুসারী রয়েছে ৫৬ লাখ, যিনি বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের অনুসারীর সংখ্যা ২৩ লাখ; তিনি ঢাকা-১৫ আসনের প্রার্থী। 

এদিকে নতুন দল হিসেবে পরিচিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের একটি পেজে ১২ লাখ এবং আরেকটি আইডিতে ১৪ লাখ অনুসারী রয়েছে। তিনি ঢাকা-১১ আসন থেকে লড়ছেন।

শুধু শীর্ষ নেতারাই নন, অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নেতারাও ফেসবুকে বেশ জনপ্রিয়। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অনুসরণ করেন প্রায় সাড়ে ৯ লাখ মানুষ। আবার বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থের অনুসারী সংখ্যা ৩২ লাখ। গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হকের অনুসারী ৯ লাখ ৭৫ হাজার এবং গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকির অনুসারী ৩ লাখ ৩৬ হাজার।

দলীয়ভাবেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলগুলোর শক্ত উপস্থিতি রয়েছে। বিএনপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের অনুসারী ৪৮ লাখ, জামায়াতে ইসলামীর ৩১ লাখ এবং এনসিপির ১৫ লাখ।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিপুল অনুসারী থাকলেই যে ভোটের ফলাফল প্রভাবিত হবে, এমনটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। 

বিশ্ব রাজনীতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে প্রচারের অন্যতম সফল উদাহরণ ২০০৮ সালে বারাক ওবামার নির্বাচনী প্রচারণা। বাংলাদেশেও সময়ের সঙ্গে এর ব্যবহার বেড়েছে এবং এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি ভিডিও ও ছবি দিয়ে প্রচার-অপপ্রচার চালানোর মতো নতুন কৌশলও দেখা যাচ্ছে।

হ্যাশমেটার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা সাড়ে ৪ কোটির বেশি, যা দেশের প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটারের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।

ফেব্রুয়ারি মাসের ১২ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে প্রার্থীরা ২৩ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রচারণার সুযোগ পাচ্ছেন এবং এই সময়ে ফেসবুকসহ অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম যে প্রচারের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হয়ে থাকবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহদী জাহিনের মতো নতুন ভোটাররা মনে করেন, অনুসারীর সংখ্যার চেয়ে প্রার্থীর প্রচারের কৌশলই বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং অনলাইন জনপ্রিয়তা ভোটের মাঠে জয়ের নিশ্চয়তা দেয় না।

ভোটের সব খবর বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর