ঢাকা, ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার, ২০২৬ || ১২ ভাদ্র ১৪৩৩
good-food

প্রতিদিন লিকার চা খেলে শরীরে কী ঘটে?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৫:৫৫ ২৭ আগস্ট ২০২৬  

সকালে ঘুমের রেশ কাটাতে এক কাপ গরম চায়ের জুড়ি মেলা ভার। দিনের শুরুতে চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে অনেকেই খুঁজে নেন সতেজতা। কেউ কফি পছন্দ করেন, আবার কারো সকাল শুরু হয় দুধ-চিনি দেওয়া চা দিয়ে।

তবে চায়ের ধরন বদলালে এর পুষ্টিগুণেও কিছুটা পরিবর্তন আসে। চিনি ও দুধ ছাড়া লিকার চা বা কালো চা তুলনামূলক হালকা একটি পানীয়, যা পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস

কালো চায়ে থাকা পলিফেনলজাতীয় যৌগ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। শরীরে অতিরিক্ত ফ্রি র‌্যাডিক্যালের কারণে কোষে যে ক্ষতি হতে পারে, তা মোকাবিলায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভূমিকা রাখে। নিয়মিত ও পরিমিত চা পান তাই সামগ্রিক স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হতে পারে।

হৃদযন্ত্রের যত্নে সহায়ক

বিভিন্ন গবেষণায় চায়ে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড ও অন্যান্য উদ্ভিজ্জ যৌগ নিয়ে হৃদ্‌স্বাস্থ্যের সম্ভাব্য উপকারের কথা বলা হয়েছে। নিয়মিত কালো চা পান রক্তনালীর স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং কিছু হৃদস্বাস্থ্য সূচকের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরলের চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে চা ব্যবহার করা যাবে না।

ত্বকের জন্যও উপকারী

লিকার চায়ে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করতে পারে। ফলে সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে এটি ত্বকের জন্যও কিছুটা উপকারী হতে পারে। চিনি ও অতিরিক্ত দুধ ছাড়া চা পানে বাড়তি চিনি ও ক্যালরি গ্রহণও কমে। তাই মিষ্টি চায়ের পরিবর্তে লিকার চা বেছে নেওয়া অনেকের জন্য ভালো অভ্যাস হতে পারে।

সতেজ থাকতে সাহায্য করে

কালো চায়ে ক্যাফেইন থাকে। পরিমিত ক্যাফেইন সাময়িকভাবে সতর্কতা, মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। তাই সকালে এক কাপ লিকার চা ঘুমঘুম ভাব কাটিয়ে কাজে মনোযোগী হতে সহায়ক হতে পারে।

মানসিক সতেজতায় ভূমিকা

চায়ের ক্যাফেইনের পাশাপাশি এতে থাকা এল-থিয়ানিনের মতো উপাদান নিয়ে মানসিক সতর্কতা ও মনোযোগের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তাই অনেকের কাছে সকালে এক কাপ চা শুধু পানীয় নয়, দিনের শুরুতে মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার একটি অভ্যাসও।

যেভাবে খাবেন

লিকার চা স্বাস্থ্যকর রাখতে অতিরিক্ত চিনি না দেওয়াই ভালো। খুব ঘন করে চা তৈরি না করে পরিমিত পরিমাণে পান করা যেতে পারে। একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, চায়ে ক্যাফেইন থাকায় অতিরিক্ত পান করলে ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা বা বুক ধড়ফড়ের মতো সমস্যা হতে পারে। 

যাদের ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীলতা রয়েছে, তাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকা উচিত। সুস্থ থাকার জন্য কোনো একক পানীয়ের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পানি, নিয়মিত শরীরচর্চা ও পর্যাপ্ত ঘুমের দিকে নজর দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

লাইফস্টাইল বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর