ঢাকা, ২৫ আগস্ট মঙ্গলবার, ২০২৬ || ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
good-food
৪২

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ব্যাংক আমানত ছাড়ালো ৯০ হাজার কোটি টাকা

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৪:১৭ ২৪ আগস্ট ২০২৬  

দেশের সুবিধাবঞ্চিত ও স্বল্প আয়ের মানুষকে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনার উদ্যোগে গতি বাড়ছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, শিক্ষার্থী এবং পথশিশুদের জন্য চালু করা বিশেষ সুবিধার ব্যাংক হিসাব বা ‘নো-ফ্রিল অ্যাকাউন্টে’ (এনএফএ) আমানত জমার পরিমাণ ৯০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত ২০২৬ সালের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন শেষে দেশের ব্যাংকগুলোতে মোট নো-ফ্রিল অ্যাকাউন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬৬ লাখ ৪৮ হাজার ১১৯টিতে। এসব হিসাবে পুঞ্জীভূত আমানতের পরিমাণ পৌঁছেছে ৯০ হাজার ১০১ কোটি ৩৭ লাখ টাকায়।

এর মধ্যে ১০, ৫০ ও ১০০ টাকার প্রারম্ভিক জমায় খোলা প্রান্তিক মানুষের মূল হিসাবের সংখ্যা ২ কোটি ৯৫ লাখ ৪৭ হাজার ৮৯৭টি। গত প্রান্তিকের তুলনায় এই হিসাব সংখ্যা ০.৭৯ শতাংশ এবং বার্ষিক ব্যবধানে ২.৯৩ শতাংশ বেড়েছে। আলোচ্য প্রান্তিক শেষে এসব মূল হিসাবে মোট জমার স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৫৪ হাজার ৯০৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

কৃষক ও সামাজিক সুরক্ষার জয়জয়কার

১০ টাকায় খোলা এসব হিসাবের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ দখল করে আছে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধাভোগীরা। মোট ব্যাংক হিসাবের ৩৬.৭৮ শতাংশ বা ১ কোটি ৮ লাখ ৬৮ হাজার ৭৯৮টি অ্যাকাউন্ট তাদের। এসব হিসাবে জমা রয়েছে ২১ হাজার ৪০ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

এর ঠিক পরেই রয়েছে কৃষকদের অবস্থান। মোট অ্যাকাউন্টের ৩৬.৩৩ শতাংশ বা ১ কোটি ৭ লাখ ৩৩ হাজার ৮৫৯টি হিসাব কৃষকদের। তবে জুন প্রান্তিকে কৃষকদের অ্যাকাউন্টে জমার পরিমাণ ১০.৩৫ শতাংশ কমে ৭ হাজার ৭৭৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকায় নেমেছে।

এছাড়া অতিদরিদ্রদের ৩৫ লাখ ১০ হাজার ২৯২টি হিসাবে আমানত ৫.৩৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯২২ কোটি ৮০ লাখ টাকায়। তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের খোলা ১৩ লাখ ৩ হাজার ৮০১টি অ্যাকাউন্টে জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১৮৫ কোটি ৮ লাখ টাকা।

ব্যাংকগুলোর অবস্থান ও আমানতের দখল

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর এসব ব্যাংক হিসাব পরিচালনায় একক প্রাধান্য বজায় রেখেছে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। মোট অ্যাকাউন্টের ৫০.২৮ শতাংশ (১ কোটি ৪৮ লাখ ৫৭ হাজার ৪২২টি) এবং মোট আমানতের ৬১.৩৭ শতাংশ (৩৩ হাজার ৬৯৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা) রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর হাতে।

একক ব্যাংক হিসেবে সর্বোচ্চ ২৩.৪০ শতাংশ হিসাব খুলে শীর্ষে রয়েছে সোনালী ব্যাংক পিএলসি। এরপরেই অবস্থান করছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (১৬.৫৮ শতাংশ) ও অগ্রণী ব্যাংক (১৪.৩২ শতাংশ)। আমানত সংগ্রহের ক্ষেত্রে আবার ৩১.৩১ শতাংশ হিস্যা নিয়ে শীর্ষস্থানে রয়েছে অগ্রণী ব্যাংক, আর সোনালী ব্যাংকের সংগ্রহে রয়েছে ২৮.৫৪ শতাংশ আমানত।

জামানতবিহীন ঋণ ও রেমিট্যান্স

স্বল্প আয়ের নো-ফ্রিল হিসাবধারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৭৫০ কোটি টাকার আবর্তক পুনঃঅর্থায়ন তহবিল চালু রয়েছে। এই স্কিম থেকে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৯ হাজার ৬৯৭ জন গ্রাহককে মোট ৯ হাজার ৭২৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, এই ঋণের অন্তত ২৫ শতাংশ নারী গ্রাহকদের মাঝে বিতরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

অন্যদিকে, এই বিশেষ হিসাবগুলোর মাধ্যমে প্রবাসীরা বৈধ পথে ৮ হাজার ৩৫৪ কোটি ২৫ লাখ টাকার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।

স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ও পথশিশুদের সঞ্চয়

নতুন নির্দেশনার পর শিক্ষার্থীদের সঞ্চয়ী হিসাব বা স্টুডেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে। জুন প্রান্তিক শেষে শিক্ষার্থী অ্যাকাউন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০ লাখ ৫৯ হাজার ৬১৫টিতে, যেখানে আমানতের পরিমাণ ৩৫ হাজার ১৮৮ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। স্টুডেন্ট ব্যাংকিংয়ে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আধিপত্য স্পষ্ট; তাদের অধীনে রয়েছে মোট জমার ৮১.৩৮ শতাংশ। সর্বোচ্চ ১৬ লাখ ২৩ হাজার ৬১৭টি হিসাব খুলেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি এবং সর্বোচ্চ ৯ হাজার ৪২ কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করেছে ডাচ-বাংলা ব্যাংক পিএলসি।

পাশাপাশি সমাজের সুবিধাবঞ্চিত পথশিশু ও কর্মজীবী শিশুদের আর্থিক নিরাপত্তায় কাজ করছে ১৮টি বাণিজ্যিক ব্যাংক। ৪৯টি এনজিওর সহায়তায় খোলা পথশিশুদের ৪০ হাজার ৬০৭টি হিসাবে জমা হয়েছে প্রায় ৩৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। এই উদ্যোগে এককভাবে সর্বোচ্চ ৩৬ হাজার ৬৩টি হিসাব খুলেছে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি।