ঢাকা, ২৩ অক্টোবর শুক্রবার, ২০২০ || ৮ কার্তিক ১৪২৭
good-food
৫০

বেশি দিন বাঁচতে চান, চায়ের সঙ্গে বিস্কুটের বদলে মুড়ি খান

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২০:৩১ ১৫ অক্টোবর ২০২০  

দুপুরে ভাতের পর সব বাড়িতেই বিকালে চা খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। সেই সঙ্গে অনেকে বিস্কুট খান। এমনকি বাড়িতে মেহমান এলে চায়ের সঙ্গে তা খেতে দেয়া হয়। আসলে চায়ের সঙ্গে টা মানেই বিস্কুট। কিন্তু আপনি জানেন কী এটি খেলে মোটা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ডায়াবেটিস পর্যন্ত হতে পারে। 

 

বেশিরভাগ বিস্কুট তৈরিতে ব্যবহার করা হয় পাম তেল। এ তেল শরীরে প্রবেশ করলে হার্টের ক্ষতি হতে পারে। ময়দা ছাড়া বিস্কুট বানানো যায় না। ময়দায় থাকা গ্লুটেন, বিভিন্ন মাইক্রো ও ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্টস রক্তে সুগারের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এ থেকে হৃদরোগের সম্ভাবনা দেখা দেয়। 

 

এছাড়া বিস্কুটে থাকে প্রচুর পরিমাণ প্রিজারভেটিভ ও সোডিয়াম। যা দেহের পক্ষে একদম ভালো নয়। আবার বিস্কুট খাওয়ার অভ্যাস হয়ে গেলে তা ত্যাগ করা যায় না। কারণ, এটি খেলে মস্তিষ্কে কোকেন ও মরফিন তৈরি হয়।
যা এক প্রকার আনন্দের সৃষ্টি করে। ফলে একটার জায়গায় ৪টি তা খেয়ে ফেলেন কেউ কেউ। 

 

এতে ক্ষতি হয় নিজেদেরই। তাই বিকালের চায়ে বিস্কুটের বদলে একমুঠো মুড়ি খান। এর অনেক উপকারিতা রয়েছে। ওজনও ঝরে খুব তাড়াতাড়ি। ফলে স্লিম থাকা যায়। কম ক্যালোরিতে পেট ভরাতে চাইলে মুড়ির থেকে স্বাস্থ্যকর কিছু নেই। যাদের খুব বেশি খিদে পায়, তাদের জন্য লাঞ্চ এবং ডিনারের মাঝে এটি হলো সবচেয়ে ভালো খাবার। 

 

১ কাপ চায়ের সঙ্গে পেঁয়াজ, শসা, গাজর দিয়ে মুড়ি মাখিয়ে খেলে পেট ভর্তি থাকে। সেই সঙ্গে শরীরে কোনও অতিরিক্ত ক্যালোরি জমে না। অনেকটা পানি টেনে নেয় বলে মুড়ি খেলে বেশ খানিকটা পেট ভরে থাকে। পেটের নানা গোলমালে শহর-গ্রাম নির্বিশেষে এখনও এর পানি খাওয়ার চল রয়েছে।

 

মুড়ির বাকি উপকারিতা-

দেহের শক্তি বৃদ্ধি: মুড়িতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে শর্করা। এটি দেহের শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। প্রতিদিনের কাজে সক্রিয় থাকতে জ্বালানি হিসেবে কাজ করে এ খাবার।

 

হজমে সাহায্য: মুড়িতে রয়েছে হজমে সাহায্যকারী ফাইবার। এটি হজমে সাহায্য করে। অন্ত্রকে ঠিক রাখে। একই সঙ্গে শরীরের মেটাবলিজমের উন্নতিতে সহায়তা করে।

 

হাড় মজবুত: মুড়ি ভিটামিন ডি, রাইবোফ্লাভিন ও থিয়ামিনের উৎস। এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, আয়রন ও ফাইবার। তাই এটি খেলে হাড় ও দাঁত শক্ত হয়।

 

উচ্চরক্তচাপের প্রশমন: মুড়িতে খুব সামান্য পরিমাণ সোডিয়াম থাকে। যা রক্তচাপের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এটি খেলে উচ্চ রক্তচাপ এড়ানো যায়। হার্ট অ্যাটাকের মতো হৃদরোগ প্রতিরোধ করা যায়।

 

মস্তিষ্কের বিকাশে: এতে রয়েছে নিউরোট্রান্সমিটার পুষ্টিগুণ। ফলে এটি খেলে মস্তিষ্কের স্নায়ু উদ্দীপনাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা পাওয়া যায়। মুড়ি মস্তিষ্কের উন্নতি এবং কগনিটিভ ফাংশনের উন্নতিতে কাজ করে।

 

ডায়েটে কন্ট্রোলে: মুড়ি ওজন কমাতে সাহায্য করে। এ সুস্বাদু খাবার হতে পারে স্বাস্থ্যকর ডায়েট স্ন্যাকস। এর সঙ্গে সামান্য ভেজানো ছোলা, শসা, পেঁয়াজ মিশিয়ে খেলে অনেক পুষ্টিগুণ মেলে।

 

ত্বকের যত্নে: মুড়ি রূপচর্চায় ব্যবহার করা হয়। এর গুঁড়া, মধু ও গোলাপ জল মিশিয়ে মুখে মাখলে ব্রণ সেরে যায়।

 

মুড়ির পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া: মুড়ি শরীরের জন্য খুবই ভালো। তবে একটু সাবধান। কারণ, উপকারিতার পাশাপাশি এর কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে। এটি বেশি খেলে ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা থাকে। এতে উপস্থিত গ্লাইসিমিক রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তাই মুড়ি পরিমিত পরিমাণে খাওয়া ভালো। 

 

এটি কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ। তাই বেশি খেলে ওজন বৃদ্ধি পায়। ফলে মোটা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই পানি দিয়ে ভিজিয়ে মুড়ি খাওয়ার থেকে শুকনো খাওয়াই ভালো।