ঢাকা, ১১ মার্চ বুধবার, ২০২৬ || ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২
good-food
৫৭

ভারতকে রাশিয়ার তেল কেনার ‘অনুমতি’, ট্রাম্পের ওপর চটলেন কমল হাসান

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৫:৩১ ৮ মার্চ ২০২৬  

বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারতকে রাশিয়া থেকে তেল কেনার ‘অনুমতি’ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে আলোচনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কঠোর বার্তা দিয়েছেন ভারতীয় অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ কমল হাসান।

ট্রাম্পের উদ্দেশ্যে সামাজিক মাধ্যম এক্সের এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “প্রিয় রাষ্ট্রপতি মহোদয়, আমরা ভারতের জনগণ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের নাগরিক। আমরা আর বিদেশিদের কাছ থেকে আদেশ গ্রহণ করি না। অনুগ্রহ করে আপনি নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকুন।”

“সার্বভৌম দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাই স্থায়ী বিশ্বশান্তির একমাত্র ভিত্তি। আমরা আপনার দেশ ও জনগণের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করি,”এ কথা লেখেন কমল হাসান।

চলমান সংকটের মধ্যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে শত শত তেলবাহী ট্যাঙ্কার আটকে পড়েছে।

এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে বাজার স্থিতিশীল রাখতে ভারতকে রাশিয়া থেকে তেল কেনার একটি ‘ছাড়’ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে একটি নির্দেশিকাও জারি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়, সমুদ্রে থাকা রাশিয়ান তেল ভারতীয় শোধনাগারগুলো কিনতে পারবে।

গত ফেব্রুয়ারিতে এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে ভারতের পণ্যের ওপর আরোপিত ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করেছিলেন ট্রাম্প। রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে কয়েক মাস ধরে এই শুল্ক আরোপ করা হয় ভারতের ওপর।

পরে ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা দেন, ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি একটি বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। ওই চুক্তির ফলে ভারতের পণ্যের ওপর থেকে শাস্তিমূলক শুল্ক কমানো হয়েছে।

ওই চুক্তির সময় ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, “ভারত যদি আবার রাশিয়ার তেল কেনা বাড়ায়, তাহলে ভারতের ওপর পুনরায় শুল্ক আরোপ করা হবে।”

পরে বাণিজ্য চুক্তিসংক্রান্ত এক ফ্যাক্টশিটে মার্কিন হোয়াইট হাউস প্রথমে দাবি করে, ভারত রাশিয়ান তেল কেনা বন্ধ করবে। তবে একদিন পর সেটি সংশোধন করে বলা হয়, ভারত রুশ তেল আমদানি কমানোর চেষ্টা করবে।

এর আগে রাশিয়া থেকে তেল কেনার পক্ষে যুক্তি দেয় নয়াদিল্লি। ভারতের দাবি, জাতীয় স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের সময় বিশ্ববাজারে তেলের দাম যাতে না বাড়ে, সে জন্য যুক্তরাষ্ট্রই ভারতকে রাশিয়ার তেল কিনতে উৎসাহ দিয়েছিল- এমন কথাও জানিয়েছিল ভারত।

ভারতের শোধনাগারগুলো প্রতিদিন প্রায় ৫ দশমিক ৬ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করে।

ভারতের মোট অপরিশোধিত তেলের চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত সরবরাহ দিতে প্রস্তুত রাশিয়া।

ভারতীয় একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ভারতে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল আমদানি কমে দৈনিক ১ দশমিক ১ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে আসে। ২০২২ সালের নভেম্বরের পর এটি সর্বনিম্ন। তবে ফেব্রুয়ারিতে আবার সেই হার বেড়ে প্রায় ৩০ শতাংশে পৌঁছেছে।

এদিকে ট্রাম্পের শুল্কনীতিকে অবৈধ বলে ঘোষণা করেছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দেওয়ার পর ট্রাম্প আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

রাশিয়াও ইতোমধ্যে জানিয়েছে, তারা ভারতে তেল সরবরাহ করতে প্রস্তুত।

ভারতের জলসীমার কাছাকাছি বিভিন্ন জাহাজে প্রায় ৯ দশমিক ৫ মিলিয়ন ব্যারেল রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল রয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই তা ভারতে পৌঁছাতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের ‘অনুমতি’ থাকুক বা না থাকুক- জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে ভারত শেষ পর্যন্ত রাশিয়া থেকেই তেল কেনার দিকেই ঝুঁকতে পারে।