ঢাকা, ২৩ জানুয়ারি শুক্রবার, ২০২৬ || ১০ মাঘ ১৪৩২
good-food

‘ভোট গণনায় বিলম্ব’ বক্তব্যে জনমনে সন্দেহ জেগেছে: যুক্তফ্রন্ট

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৭:০২ ২৩ জানুয়ারি ২০২৬  

ভোট গণনায় বেশি সময় লাগা নিয়ে সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বক্তব্য জনমনে সন্দেহ জেগেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাম প্রগতিশীল জোট গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নেতারা। তারা এই সন্দেহ দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন।

শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের নেতারা এ মন্তব্য করেন।

যুক্তফ্রন্ট নেতারা বলেন, সরকার গণভোটের দিকে যতটুকু নজর দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সরকার ততটুকু নজর দিচ্ছে না।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে যুক্তফ্রন্টের সমন্বায়ক বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, “নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দিকে নজর দেন।”

বুধবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, “নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণায় কিছুটা দেরি হতে পারে।” এরপর বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ একই সুরে বলেন, “নির্বাচনে ভোট গণনার সময় একটু বেশি লাগবে।”

এসব বক্তব্যে হতাশা প্রকাশ করে বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, “প্রেস সচিব বলেছেন ভোট গণনায় সময় লাগবে। কিন্তু সময় লাগবে কেন? এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি কী বুঝতে চেয়েছেন?”

“এই বক্তব্যের মাধ্যমে জনমনে সন্দেহ জেগেছে। এই সন্দেহ দূর করতে হবে,” বলেন তিনি।

জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে এই বাম নেতা বলেন, “স্বাধীনতা বিরোধী একটি শক্তি জান্নাতের টিকিট বিক্রি করছে যা নির্বাচনের ইশতেহার নিয়ম বহির্ভূত।”

সংবাদ সম্মেলনে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় ১৮ দফার অঙ্গীকার নিয়ে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। এই জোট থেকে ১৪৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জোটটিতে থাকা ৯ দল

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন, বাসদ (মার্ক্সবাদী), বাংলাদেশ জাসদ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ‑মাহবুব) ও সোনার বাংলা পার্টি।

যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি অঙ্গীকার 

রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন, গণতান্ত্রিক আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি দমন, স্বশাসিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠা ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার ও প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠন।

কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন ও বৈষম্যহ্রাস, শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্গঠন, জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবার গণমুখী সংস্কার, খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষি সংস্কার, শ্রমিক অধিকার ও ট্রেড ইউনিয়ন স্বাধীনতা এবং নারী অধিকার ও লিঙ্গসমতা।

যুবশক্তির বিকাশ, পরিবহন ও যোগাযোগ অবকাঠামো, পরিবেশ, জলবায়ু ও প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষা, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও গবেষণার গণমুখী সংস্কার, গণমাধ্যম ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক চেতনা এবং পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সংহতি।

ভোটের সব খবর বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর