ঢাকা, ২৭ জুন বৃহস্পতিবার, ২০১৯ || ১৪ আষাঢ় ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
৬৮

ভূমিকম্পেও ক্ষতি হয় না

মাটির নিচে ২শ’ বছরের পুরনো গ্রাম!

প্রকাশিত: ২২:০৫ ১০ এপ্রিল ২০১৯  


ওপর থেকে দেখে বোঝার কোনও উপায় নেই যে এখানে পায়ের তলায় বসবাস করছে একটা গোটা গ্রাম! কারণ, গোটা গ্রামটাই গড়ে উঠেছে মাটির নিচে। মাটি থেকে ২২-২৩ ফুট গভীরে।

গ্রামের প্রতিটি বাড়ির স্থাপত্য পরিকল্পনা এক কথায় অসাধারণ! ঘরগুলিতে তাপমাত্রা শীতকালে ১০ ডিগ্রির কম হয় না, আর গ্রীষ্মে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকে না। কোথায় রয়েছে এমন গ্রাম?

চিনের হেনান প্রদেশের সানমেনশিয়ায় রয়েছে এই অদ্ভুত গ্রাম। প্রায় ২০০ বছর ধরে এখানে মাটির তলাতেই বাড়ি বানিয়ে বসবাস করছেন কয়েক হাজার মানুষ। সানমেনশিয়া এলাকায় এমন অন্তত ১০ হাজার ঘরের সন্ধান মিলেছে। এগুলোর বেশির ভাগই বর্তমানে পরিত্যক্ত। মাটির নিচে তৈরি এই ঘরগুলিকে চিনা ভাষায় বলা হয়ইয়ায়োডং’, যার অর্থ হল গুহা ঘর।

জানা গেছে, একটা সময়ে এখানে প্রায় হাজার বিশেক মানুষের বসবাস ছিল। কিন্তু আধুনিক সুযোগ সুবিধার অভাবে এবং প্রতিকূল জীবনযাত্রার চাপে অনেকেই এলাকা ছেড়ে চলে যান।

তবে এখনও সানমেনশিয়া এলাকার এই গুহা ঘরগুলিতে প্রায় হাজার মানুষ বসবাস করেন।

 

মাটি থেকে ২২-২৩ ফুট গভীরে তৈরি এই ঘরগুলি লম্বায় ৩৩ থেকে ৩৯ ফুট পর্যন্ত হয়।

ঐতিহাসিকদের মতে, হেনান প্রদেশের সানমেনশিয়ায়ইয়ায়োডং’- বসবাসের ইতিহাস ২০০ বছরের বেশি প্রাচীন নয়। তবে চিনের পার্বত্য এলাকায় আজ থেকে প্রায় ৪০০০ বছর আগে, ব্রোঞ্জ যুগে এই ধরনের গুহা ঘর তৈরি করে বসবাস করতেন একদল মানুষ।

 

২০১১ সাল থেকে এই গ্রামটির সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে স্থানীয় প্রশাসন। বর্তমানে এই সবইয়ায়োডংবা গুহা ঘরগুলিতে বিদ্যুত সংযোগ-সহ সব রকম আধুনিক সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ইয়ায়োডংগুলি ভূমিকম্পেও ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। আশ্চর্য এই ঘরগুলির আকর্ষণে এই এলাকায় বর্তমানে পর্যটকদের আনাগোনা অনেকটাই বেড়ে গেছে। পর্যটক টানার জন্য এখনইয়ায়োডংভাড়া দেয়ারও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এক মাসের জন্য ভাড়ায় এইইয়ায়োডং’- থাকতে চাইলে আপনাকে গুনতে হবে প্রায় ২১ ইউরো।

পছন্দ হয়ে গেলে কিনেও নিতে পারেন রকম একটি গুহা ঘর।  শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এইইয়ায়োডং’-এর দাম ৩২ হাজার ইউরো। ইন্টারনেট।