ঢাকা, ২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার, ২০২৬ || ৬ মাঘ ১৪৩২
good-food

মানুষ ভুলে যায় কেন?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২২:০০ ১৯ জানুয়ারি ২০২৬  

আমরা সবাই কখনো না কখনো এমন মুহূর্তের মুখোমুখি হই, যখন কিছুই যেন ঠিকমতো মনে পড়তে চায় না।

যেমন কখনও চাবি কোথায় রেখেছি ভুলে যাই, আবার কখনও কারও নামই হয়তো মনে পড়ে না, কিংবা হঠাৎ করেই ভুলে যাই—আমি আসলে কী করতে যাচ্ছিলাম। স্মৃতিভ্রংশের এই ছোট ছোট ফাঁকফোকর খুবই স্বাভাবিক।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেন এমন হয়?

বিবিসি বাইটসাইজ স্মৃতি কীভাবে কাজ করে এবং কেন আমরা ভুলে যাই—সেই রহস্যটাই খোলাসা করেছে।

স্বল্পমেয়াদি বনাম দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতি

পরীক্ষার আগে দিনের পর দিন পড়ে শেষ মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভুলে যাওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। ইউনিভার্সিটি অব ব্রিস্টলের ডিমেনশিয়া নিউরোলজির সহযোগী অধ্যাপক ড. লিজ কুলথার্ড বলেন, স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতির মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে।

অনেকেই মনে করেন, স্মৃতি মানেই বুদ্ধিমত্তা—কিন্তু বিষয়টি এমন নয়।

তার ভাষায়, “যখন আপনি কয়েক সেকেন্ডের জন্য কিছু মনে রাখেন—যেমন ফোন নম্বর—তখন মূলত বারবার মনে মনে সেটি আওড়ান বা কল্পনায় দেখেন। স্বল্পমেয়াদি স্মৃতি এমনই এক ধরনের লুপ।”

কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতি তৈরি করতে হলে তথ্য মস্তিষ্কের একটি বিশেষ অংশে জমা হতে হয়, যাকে বলা হয় হিপোক্যাম্পাস।

নতুন কোনো স্মৃতি তৈরি হওয়ার সময় সেখানে থাকা নার্ভ ফাইবার ও সিন্যাপ্সে পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তন প্রক্রিয়াকে বলা হয় সিন্যাপটিক প্লাস্টিসিটি। একবার স্মৃতি সেখানে জমা হলে, সেটি ধরে রাখতে বারবার মনে করার প্রয়োজন পড়ে না।

এরপর কী হবে—তা অনেকটাই আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ঘুমের সময়সহ নানা মুহূর্তে স্মৃতি আরও শক্তিশালী হয়, অথবা ধীরে ধীরে মুছে যায়।

কীভাবে মনে রাখবেন?

ড. কুলথার্ডের কিছু পরামর্শ—

•     মনোযোগ ধরে রাখুন: পুরো মনোযোগ না দিলে তথ্য ধরে রাখা কঠিন।

•     চাপ কমান: অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা স্মৃতি গঠনে বাধা দেয়।

•     পর্যাপ্ত ঘুমান: ভালো ঘুম স্মৃতি শক্তিশালী করে।

•     নিয়মিত খান: ক্ষুধা মনোযোগ নষ্ট করে।

•     অগ্রাধিকার ঠিক করুন: অতিরিক্ত ব্যস্ততা ভুলে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।

ভালো ঘুম হতে পারে শক্ত স্মৃতির আসল চাবিকাঠি।

স্মৃতি উন্নত করার উপায়

অনেকেই মনে করেন, স্মৃতি মানেই বুদ্ধিমত্তা—কিন্তু বিষয়টি এমন নয়।

“আমাদের প্রত্যেকেরই আলাদা স্মৃতির ধরন আছে,” বলেন ড. কুলথার্ড।

স্মৃতি বাড়ানোর একটি জনপ্রিয় কৌশল হলো মেমোরি প্যালেস। এতে পরিচিত কোনো জায়গার সঙ্গে তথ্যকে যুক্ত করা হয়। কল্পনায় সেই জায়গা ধরে হাঁটতে হাঁটতে তথ্যগুলো মনে পড়ে যায়। প্রাচীন গ্রিস থেকেই এই কৌশলের ব্যবহার চলে আসছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—পুনরাবৃত্তি। কোনো তথ্য যত বেশি বার দেখা বা চর্চা করা হয়, তা মনে থাকার সম্ভাবনাও তত বাড়ে। ভালো ঘুম হতে পারে শক্ত স্মৃতির আসল চাবিকাঠি।