ঢাকা, ০৭ জুলাই মঙ্গলবার, ২০২০ || ২২ আষাঢ় ১৪২৭
good-food
২৪১

যেভাবে ডিম খেলে মিলবে সব পুষ্টিগুণ

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৯:৪৭ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

কম খরচে পুষ্টি। গরিব মানুষের ডিমের উপর ভরসা করার মূল কারণ এটাই। স্বাদ, পুষ্টি ও সুষম আহারের খোঁজে ডিমের সঙ্গে পাল্লা দেবে এমন খাবার খুব কমই রয়েছে। তবে একসময় মনে করা হতো, ডিমের কুসুমে কোলেস্টেরল বাড়ে। কিন্তু আধুনিক গবেষণা প্রমাণ করেছে, এ ধারণা ভিত্তিহীন। বরং ডিমের কুসুম খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে।  
পুষ্টিবিদ সুমেধা সিংয়ের মতে, শরীরের ওজন বাড়াতে ডিম কোনও প্রভাবই ফেলে না। রবং তেল-মশলার যেকোনও খাবার ওজন বাড়ায়। ডিমও খুব কষিয়ে রান্না করলে কিংবা ঘন ঘন ভেজে খেলে মেদ বাড়ে। তবে সেটা তেল-মশলা যুক্ত থাকার কারণেই। মেদ নিয়ে ভয় থাকলে ডিম বাদ দেয়ার কারণ নেই। বরং বেশ কিছু উপায়ে ডিম খেলে মেদের সঙ্গে লড়া যায় নির্বিঘ্নে। শরীরও পায় পুরো পুষ্টিগুণ।
তেল-ঝালের ডালনা বাদ দিন। ভাজাভুজি এড়াতে ঘন ঘন পোচ বা অমলেটেও না বলুন। বরং ডিম খান এসব উপায়ে।

পানি দিয়ে পোচ: তেল নয়। পোচ রাঁধুন পানি ও ভিনিগারের সাহায্যে। একটি পাত্রে কিছুটা পানি নিন। তাতে অল্প ভিনিগার যোগ করে পানিটা নাড়ুন। এবার খুব সাবধানে প্রথমে ডিমের সাদা অংশ ফেলুন পানিতে। তার উপর ফেলুন ডিমের কুসুম। এমনভাবে ফেলতে হবে যাতে তা ভেঙে না যায়। খানিক পর ডিমের সাদা অংশ ফুলে উঠে ঢেকে দেবে হলুদ কুসুমকে। সাদা আস্তরণের ভেতর টলটল করবে কুসুম। ঝাঁঝরি হাতা দিয়ে পোচটিকে আলতো করে তুলে নিন। তেল ছাড়া এমন পোচই গোটা বিশ্বে জনপ্রিয়। ডিমের সবটুকু পুষ্টিগুণ মেলে এ পোচ থেকে। মেদ জমার ভয়ও থাকে না।
 

সালাদ: পালং, শশা, ব্রকোলি, সিদ্ধ গাজর, কড়াইশুটি, টমেটো-পেঁয়াজের সালাদের সঙ্গে মেশান সিদ্ধ ডিমের কুচানো অংশ। উপর থেকে ছড়ান গোলমরিচ ও লেবুর রস। এতে গোটা ডিমের পুষ্টিগুণ যেমন মিলবে, তেমন আবার সবুজ সবজি, শাক ও গাজরের প্রভাবে মেদ বাধা পাবে। ফলে ডিমে বাড়বে না ওজন।
 

ওটমিল ও ডিম: ডিমের সঙ্গে ওটমিল খান। ওটমিল পাচনমূলক অ্যাসিড ক্ষরণেও বাধা দেয়। তাই এটি খেলে সহজে খিদেও পায় না। ওটমিল শরীরে বাড়তি কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড জমার পথে বাধা দেয়। এদিকে ডিম জোগান দেয় প্রোটিনের। ফলে ওটমিল ও ডিম একত্রে লড়াই করলে মেদ জমা কঠিন হেয় দাঁড়ায়।
 

হাফ বয়েল: ডিমের বাইরের সাদা অংশ সিদ্ধ হলেও ভিতরের কুসুম আধা সিদ্ধ থাকে। এমনটাই স্বাস্থ্যকর বলে দাবি করেন চিকিৎসকরা। আগুনের আঁচ ডিমের ভেতরে থাকা ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করে। সেই সঙ্গে কুসুমের ভেতর থাকা সবটুকু পুষ্টিগুণকেই আগলে রাখে। ফুটন্ত লবণ পানিতে মিনিট পাঁচেক সিদ্ধ করলেই এমন হাফ বয়েল ডিম মিলবে সহজেই।

ফুল বয়েল: গোটা সিদ্ধ ডিম থেকে প্রায় ১২.৬ গ্রাম প্রোটিন মেলে। এমন ফুল বয়েলড ডিম যেমন শুধুই খাওয়া যায়, তেমনই সালাড হোক কিংবা স্যান্ডউইচ-সবকিছুতেই সঙ্গত করতে পারে এটি। ডিমের সবধরনের পদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো হজম হয় এমন ডিম। লবণ পানিতে মিনিট দশেক সময় নিয়ে ফোটালেই তৈরি হবে সিদ্ধ ডিম।