ঢাকা, ২৮ জানুয়ারি বুধবার, ২০২৬ || ১৪ মাঘ ১৪৩২
good-food

যেসব প্রাণী কামড় দিলে জলাতঙ্ক টিকা দিতে হয়

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২২:০৮ ২৭ জানুয়ারি ২০২৬  

বাংলাদেশে প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ কুকুর, বিড়াল বা অন্যান্য প্রাণীর কামড়ে আহত হন। কিন্তু অনেকেই জানেন না কখন জলাতঙ্কের টিকা জরুরি, আর কখন তা প্রয়োজন হয় না।

অজ্ঞতার কারণে কেউ অযথা আতঙ্কিত হন, আবার কেউ অবহেলায় মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েন। অথচ জলাতঙ্কের লক্ষণ একবার দেখা দিলে প্রায় শতভাগ ক্ষেত্রে তা মৃত্যুঘাতী। তাই কামড়ের পর সঠিক সিদ্ধান্তই জীবন বাঁচাতে পারে।

জলাতঙ্ক কীভাবে ছড়ায়?

জলাতঙ্ক ভাইরাস মূলত আক্রান্ত প্রাণীর লালা থেকে ছড়ায়। কামড়, আঁচড়, বা ক্ষতস্থানে লালা লাগলে ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করতে পারে। সুস্থ ত্বকে লালা লাগলে সাধারণত ঝুঁকি থাকে না, কিন্তু ত্বক ছিঁড়ে গেলে বা মিউকাস মেমব্রেনে (চোখ, নাক, মুখ) লাগলে বিপদ।


যদি পোষা কুকুর এবং বিড়াল সম্পূর্ণ সুস্থ, নিয়মিত টিকাপ্রাপ্ত হয়, তবে ঝুঁকি কমে যায়। 
কোন প্রাণীর কামড়ে টিকা অবশ্যই নিতে হবে

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নিচের প্রাণীগুলো জলাতঙ্কের প্রধান বাহক:

•     কুকুর (বিশেষ করে রাস্তার কুকুর)

•     বিড়াল

•     শিয়াল

•     বানর

•     বাদুড়

•     নেকড়ে, বনবিড়াল বা বন্য মাংসাশী প্রাণী

এই প্রাণীগুলোর কামড়, আঁচড়, এমনকি রক্ত বের না হলেও, কেবল ত্বকে ক্ষত হওয়া মাত্র অবশ্যই দ্রুত টিকা নিতে হবে। বানরের আঁচড়েও বহু ক্ষেত্রে জলাতঙ্ক সংক্রমণের নজির আছে।


কোন পরিস্থিতিতে টিকা নিতেই হবে?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী—

•     ত্বক ছিঁড়ে রক্ত বের হওয়া কামড়

•     আঁচড়ে ত্বক উঠে যাওয়া

•     ক্ষতস্থানে প্রাণীর লালা লাগা

•     চোখ, নাক, মুখে লালা লাগা

•     বাদুড়ের সংস্পর্শে আসা

এসব ক্ষেত্রে দেরি না করে ক্ষত ১৫ মিনিট সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে টিকা শুরু করতে হবে। প্রয়োজনে রেবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন দিতে হয়।

কোন প্রাণীর কামড়ে সাধারণত জলাতঙ্কের টিকা লাগে না?

সব প্রাণী জলাতঙ্ক বহন করে না। যেমন—

•     গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া

•     ঘোড়া

•     ইঁদুর, খরগোশ, কাঠবিড়ালি

•     হাঁস-মুরগি বা পাখি

•     সরীসৃপ (সাপ, টিকটিকি)


বাদুড় কামড়ালে অবশ্যই টিকা দিতে হবে। 
এদের কামড়ে সাধারণত জলাতঙ্কের ঝুঁকি নেই। তবে ক্ষত সংক্রমণ এড়াতে চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু রেবিস টিকা সাধারণত দরকার হয় না।

পরিচিত পোষা কুকুর বা বিড়াল কামড়ালে?

যদি পোষা কুকুর/বিড়াল সম্পূর্ণ সুস্থ, নিয়মিত টিকাপ্রাপ্ত হয় এবং কামড়ের পর ১০ দিন পর্যবেক্ষণে সুস্থ থাকে, তাহলে অনেক ক্ষেত্রে টিকা বন্ধ রাখা যায়—তবে এই সিদ্ধান্ত চিকিৎসক নেবেন। নিজে থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া বিপজ্জনক।

কী করবেন কামড়ের পর?

১. ক্ষত ১৫ মিনিট সাবান-পানিতে ধোবেন

২. অ্যালকোহল/পোভিডন-আইডিন লাগাবেন

৩. দ্রুত হাসপাতালে যাবেন

৪. লোকজ চিকিৎসা (হলুদ, মরিচ, তেল) ব্যবহার করবেন না

জলাতঙ্ক প্রতিরোধযোগ্য, কিন্তু লক্ষণ শুরু হলে প্রায় নিরাময়হীন। তাই “দেখা যাক” মনোভাব নয়—সন্দেহ হলে টিকা নিন। বিশেষ করে কুকুর, বিড়াল, বানর বা বন্য প্রাণীর কামড়ে কখনোই অবহেলা করবেন না। সচেতন সিদ্ধান্তই হতে পারে জীবনরক্ষার সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ।
 

লাইফস্টাইল বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর