ঢাকা, ১৬ জুন মঙ্গলবার, ২০২৬ || ২ আষাঢ় ১৪৩৩
good-food
১৫০

লিফটে আটকা পড়লে যা করবেন

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৪:০৬ ১ মে ২০২৬  

ইট-পাথরের এই ব্যস্ত নগরে বহুতল ভবনে চলাচলের জন্য লিফট এখন আমাদের নিত্যসঙ্গী। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ যান্ত্রিক এই যানের সাহায্যে মুহূর্তেই এক তলা থেকে অন্য তলায় পৌঁছে যাচ্ছেন। তবে মাঝেমধ্যে যান্ত্রিক ত্রুটি বা বিদ্যুৎ বিভ্রাটে লিফট মাঝপথে আটকে গিয়ে তৈরি হয় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি। 

এমন মুহূর্তে ভয় না পেয়ে কিছু জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করলে বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব।

শান্ত থাকুন ও স্বাভাবিক শ্বাস নিন

লিফট আটকে গেলে প্রথমেই আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। অনেকের ধারণা থাকে যে লিফট আটকে গেলে ভেতরে বাতাস শেষ হয়ে যাবে, যা সম্পূর্ণ ভুল। 

আধুনিক প্রতিটি লিফটে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা থাকে। তাই চিৎকার বা অতিরিক্ত দৌড়ঝাঁপ না করে নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করুন। শরীর শিথিল রাখলে দুশ্চিন্তা কম হয় এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।

জরুরি বাটন ও ইন্টারকমের ব্যবহার

প্রতিটি লিফটেই সাধারণত অ্যালার্ম বা ইমার্জেন্সি কল বাটন থাকে। লিফট অচল হয়ে পড়লে প্রথমেই সেই বাটনটি চাপুন। এতে ভবনের নিরাপত্তাকর্মী বা রক্ষণাবেক্ষণ দল আপনার অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারবে। 

এছাড়া লিফটের ভেতরে ইন্টারকম বা ফোন থাকলে সেটির মাধ্যমে সরাসরি বাইরে যোগাযোগের চেষ্টা করুন।

মোবাইল ফোনে যোগাযোগ

যদি লিফটের ভেতর মোবাইলের নেটওয়ার্ক থাকে, তবে দ্রুত পরিবারের সদস্য বা ভবনের দায়িত্বশীল কাউকে কল করুন। আপনি কত তলার কাছাকাছি আটকে আছেন এবং ভেতরে কতজন আছেন, তা পরিষ্কারভাবে জানান।

অন্ধকার হয়ে গেলে ফোনের টর্চ ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে ব্যাটারি বাঁচাতে অপ্রয়োজনে ফোনের ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

দরজা খোলার চেষ্টা করবেন না

ভয় পেয়ে অনেকেই লিফটের দরজা ধাক্কা দিয়ে বা টেনে খোলার চেষ্টা করেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। লিফট যদি দুই তলার মাঝখানে আটকে থাকে এবং আপনি জোর করে বের হতে যান, তবে নিচে পড়ে গিয়ে প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে। এছাড়া লিফটের ভেতর লাফানো বা ঝাঁকুনি দেওয়া থেকেও বিরত থাকুন। এতে যান্ত্রিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে লিফট আরও বড় ত্রুটির মুখে পড়তে পারে।

করণীয়: লিফটে ওঠার সময় সবসময় খেয়াল করুন সেটি মেঝের সমতলে আছে কি না। মেঝের চেয়ে একটু ওপরে বা নিচে থাকলে সেই লিফটে ওঠা থেকে বিরত থাকুন। দরজা বন্ধ হওয়ার সময় তাড়াহুড়ো করে ভেতরে ঢোকা বা হাত-পা দিয়ে দরজা আটকানোর চেষ্টা করবেন না। 

ছোট শিশুদের কখনোই একা লিফটে উঠতে দেবেন না। এছাড়া লিফট নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও মাসে অন্তত একবার কারিগরি পরীক্ষা করানো জরুরি।

উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে অনুসরণ করুন। তারা পুরোপুরি নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত নিজে থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করবেন না। 

সচেতনতা ও ধৈর্যই পারে আপনাকে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ থেকে সুরক্ষিত রাখতে।

 
লাইফস্টাইল বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর