ঢাকা, ২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার, ২০২৬ || ৮ মাঘ ১৪৩২
good-food

সন্তান দেখতে কার মতো হবে তা ঠিক হয় কীভাবে?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২২:১৩ ২১ জানুয়ারি ২০২৬  

নতুন কোনো শিশু পরিবারে এলেই শুরু হয়ে যায় মধুর এক বিতর্ক। বাচ্চা দেখতে কার মতো হয়েছে কেউ বলেন নাকটা একদম বাবার মতো, আবার কেউ বলেন চোখ দুটো ঠিক মায়ের মতো। নাকি দাদা দাদির হাসি পেল এই প্রশ্নগুলো নতুন বাবা মায়ের কাছে খুব পরিচিত। আসলে একটি শিশুর চেহারা কেমন হবে তার পেছনে রয়েছে বিজ্ঞানের এক দারুণ কারসাজি। সম্প্রতি বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে যে শিশুর মুখাবয়ব কেবল বাবা বা মায়ের হুবহু নকল নয় বরং এটি জিনের এক জটিল ও চমৎকার মিশ্রণ।

স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো শিশুই হুবহু মা বা বাবার কপি নয়। শিশুর চেহারা আসলে একটি অনন্য মিশ্রণ। ইনস্টাগ্রামে স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ দিয়ে পরিচিত জনপ্রিয় গাইনোকোলজিস্ট ডা. আমব্রিন এস বিষয়টিকে খুব সহজভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জানান, শিশু তার বাবা ও মা উভয়ের কাছ থেকেই অর্ধেক করে ডিএনএ বা জিন পায়। এই জিনের সংমিশ্রণই ঠিক করে দেয় শিশুর চোখ, চুল, গায়ের রং এমনকি মুখের গড়ন কেমন হবে।

বাবার কাছ থেকে যা পায়

ডা. আমব্রিনের মতে, সাধারণত কিছু শারীরিক বৈশিষ্ট্য শিশু বাবার কাছ থেকে বেশি পায়। যেমন-
১. চোয়ালের গড়ন ও নাক মুখের হাড়ের গঠন বা চোয়াল এবং নাকের আকৃতিতে বাবার জিনের প্রভাব বেশি থাকে।
২. চুল ও টাক পড়ার প্রবণতা চুলের ধরণ এবং ভবিষ্যতে টাক পড়ার সম্ভাবনা বাবার বংশ থেকে আসার সম্ভাবনাই বেশি।
৩. উচ্চতা শিশু লম্বায় কতটা হবে, তা অনেকাংশে বাবার উচ্চতার ওপর নির্ভর করে।
৪. ত্বকের ধরন ত্বক তৈলাক্ত হবে নাকি শুষ্ক, এই বৈশিষ্ট্যটিও বাবার দিক থেকে প্রভাবিত হতে পারে।

মায়ের কাছ থেকে যা পায়

অন্যদিকে মায়ের কাছ থেকেও শিশু কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য অর্জন করে। যেমন-
১. চোখের আকৃতি ও পাপড়ি চোখের গড়ন এবং পাপড়ির সৌন্দর্য মায়ের কাছ থেকে পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
2. ঠোঁট ও গাল ঠোঁটের আকৃতি এবং গালের ফোলা ভাব মায়ের জিনের প্রভাবে হতে পারে।
৩. মেটাবলিজম ও ঘুমের অভ্যাস শিশু কতটা ঘুমাবে বা তার শরীর কীভাবে চর্বি জমাবে, তা মায়ের জিনের ওপর নির্ভর করে।
৪. মেজাজ শিশু শান্ত হবে নাকি চঞ্চল, এই স্বভাবটিও মায়ের কাছ থেকে আসতে পারে।

তবে মনে রাখতে হবে, এগুলো কোনো ধ্রুব সত্য বা নিয়ম নয়। প্রকৃতির খেয়ালে এর ব্যতিক্রম হতেই পারে। অনেক সময় দাদা দাদি বা নানা নানির বৈশিষ্ট্যও শিশুর মধ্যে ফুটে ওঠে, যা জিনের এক অদ্ভুত খেলা।

জিনের বাইরেও যা প্রভাব ফেলে

শুধু জিন নয়, মায়ের গর্ভের পরিবেশ এবং জন্মের সময়ের চাপও শিশুর চেহারায় প্রভাব ফেলে। ২০২৪ সালে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন এর একটি গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে ভ্রূণের ওপর যে চাপ পড়ে, তা মুখের কোষগুলোর বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলে। অর্থাৎ শিশু গর্ভে কীভাবে ছিল বা জন্মের সময় কতটা চাপ অনুভব করেছে, তার ওপর ভিত্তি করে তার মুখের আকৃতি কিছুটা বদলাতে পারে।

জন্মের পর অনেক সময় শিশুর মাথা লম্বাটে বা চোখ ফোলা মনে হতে পারে। এটি মূলত বার্থ ক্যানেল বা জন্মপথ দিয়ে আসার সময় চাপের কারণে হয়। কয়েক দিন বা সপ্তাহের মধ্যেই তা ঠিক হয়ে যায়। এমনকি যমজ শিশুদের চেহারাও হুবহু এক হয় না, কারণ পরিবেশগত কারণে তাদের মধ্যেও সূক্ষ্ম পার্থক্য তৈরি হয়।

চেহারার চেয়েও যা জরুরি

শিশু কার মতো দেখতে হলো, তা নিয়ে আলোচনা করা আনন্দের বিষয়। কিন্তু গর্ভাবস্থায় মায়ের সুষম খাবার, বিশেষ করে ফলিক অ্যাসিড, আয়রন ও প্রোটিন নিশ্চিত করা এবং ধূমপান বা মাদক থেকে দূরে থাকা শিশুর সুস্থতার জন্য সবচেয়ে জরুরি। জন্মের পর শিশুর গায়ের রং বা চোখের মণি পরিবর্তন হতে পারে। চুল গাঢ় হতে পারে বা মুখের গড়ন স্পষ্ট হতে পারে। তাই চেহারার তুলনায় শিশুর স্বাস্থ্য, বৃদ্ধি এবং রিফ্লেক্স বা প্রতিক্রিয়া ঠিক আছে কি না, সেদিকেই বেশি নজর দেওয়া উচিত। দিনশেষে একটি সুস্থ শিশুই পরিবারের সবচেয়ে বড় উপহার।

লাইফস্টাইল বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর