ঢাকা, ২৩ জুন মঙ্গলবার, ২০২৬ || ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
good-food
১৬৬

সিলিন্ডার নাকি ইন্ডাকশন, কোনটিতে বেশি সুবিধা?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৬:৫৬ ২৭ এপ্রিল ২০২৬  

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। সংসারের খরচ সামলাতে সবাই এখন খুঁজছেন সাশ্রয়ী বিকল্প। গৃহস্থালির একটি বড় খরচ হলো রান্নার জ্বালানি। বর্তমানে বাংলাদেশে সিলিন্ডার গ্যাসের (LPG) দাম নিয়মিত ওঠানামা করছে, যা অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক বাজেটে চাপ সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয়তা বাড়ছে ইন্ডাকশন চুলার। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আসলেই কি বিদ্যুৎ খরচ গ্যাসের চেয়ে কম? চলুন, একটি তুলনামূলক হিসেব দেখে নেওয়া যাক।

বর্তমানে বাজারে একটি ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম সরকারি-বেসরকারি ভেদে প্রায় ১৯৪০ থেকে ২১০০ টাকার মধ্যে। ৪ থেকে ৫ সদস্যের একটি পরিবারের প্রতিদিন তিনবেলার রান্নার জন্য মাসে গড়ে ১.৫টি থেকে ২টি সিলিন্ডার প্রয়োজন হয়।

অন্যদিকে, একটি সাধারণ ইন্ডাকশন চুলা সাধারণত ১৫০০ থেকে ২০০০ ওয়াটের হয়ে থাকে। তবে রান্নার সময় সবসময় এটি সর্বোচ্চ ক্ষমতায় চলে না। গড়ে ১৫০০ ওয়াট বা ১.৫ কিলোওয়াট ধরে যদি হিসাব করা হয় তাহলে প্রতিদিন ৩ ঘণ্টা রান্না করলে বিদ্যুৎ খরচ হয় (১.৫ কিলোওয়াট × ৩ ঘণ্টা) = ৪.৫ ইউনিট।

মোট বিদ্যুৎ খরচ (৪.৫ × ৩০) = ১৩৫ ইউনিট। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম গড়ে ৮ টাকা ধরলে মাসে বিল আসবে (১৩৫ × ৮) = ১০৮০ টাকা।

অর্থাৎ, গ্যাসের তুলনায় ইন্ডাকশন চুলায় রান্না করলে মাসে প্রায় ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় করা সম্ভব। রান্নার সময় কমিয়ে আনলে বা পাওয়ার কমিয়ে রান্না করলে এই খরচ আরও কমে আসবে।

কেন ইন্ডাকশন চুলা বেশি কার্যকর?

কেবল টাকার অঙ্কেই নয়, কার্যকারিতার দিক থেকেও ইন্ডাকশন চুলা বেশ কিছু সুবিধা দেয়:

১. তাপের অপচয় রোধ: গ্যাসের চুলায় রান্নার সময় প্রচুর তাপ আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে রান্নাঘর গরম হয়ে যায় এবং জ্বালানি অপচয় হয়। কিন্তু ইন্ডাকশন চুলায় সরাসরি হাঁড়ি বা পাত্র গরম হয়, ফলে তাপের অপচয় হয় না এবং রান্না অনেক দ্রুত হয়।

২. নিরাপত্তা: সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে লিক হওয়া বা সিলিন্ডার বিস্ফোরণের একটি ভয় থাকে। ইন্ডাকশন চুলা এই দিক থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ। এতে আগুন সরাসরি জ্বলে না বলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নেই বললেই চলে।

৩. পরিবেশবান্ধব: এটি ধোঁয়ামুক্ত এবং রান্নাঘরের পরিবেশ শীতল রাখতে সাহায্য করে।

কিছু চ্যালেঞ্জ ও বিবেচ্য বিষয়

সুবিধা থাকলেও ইন্ডাকশন চুলা ব্যবহারের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে:

প্রাথমিক বিনিয়োগ: ইন্ডাকশন চুলার জন্য বিশেষ ধরনের ফ্ল্যাট বটম বা তলা সমান এবং চৌম্বকীয় হাঁড়ি-পাতিল প্রয়োজন হয়। তাই শুরুতে চুলা ও নতুন পাত্র কেনার জন্য কিছু বাড়তি টাকার প্রয়োজন পড়ে।

লোডশেডিং সমস্যা: এটি বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। তাই যেসব এলাকায় লোডশেডিং বেশি হয়, সেখানে হুটহাট বিদ্যুৎ চলে গেলে রান্নায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

হিসাব অনুযায়ী, মাসিক খরচের নিরিখে সিলিন্ডার গ্যাসের চেয়ে ইন্ডাকশন চুলা অনেক বেশি সাশ্রয়ী। আপনি যদি শহরে বসবাস করেন এবং আপনার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল থাকে, তবে ইন্ডাকশন চুলা হতে পারে আপনার সেরা পছন্দ। তবে লোডশেডিংয়ের কথা মাথায় রেখে ব্যাকআপ হিসেবে একটি ছোট গ্যাসের চুলা রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে।

সংসারের খরচ কমাতে আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ করাই এখন সময়ের দাবি। সঠিক ব্যবহার ও সঠিক পাত্র নির্বাচনের মাধ্যমে আপনিও পারবেন আপনার রান্নার খরচ প্রায় অর্ধেক কমিয়ে আনতে।

 
লাইফস্টাইল বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর