ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার, ২০২১ || ৬ আশ্বিন ১৪২৮
good-food
৭২

সুড়ঙ্গে ঢুকেই অদৃশ্য ট্রেন, সন্ধান মেলেনি ১১০ বছরেও

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২০:২৪ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১  

ঘটনাটি ঠিক ১১০ বছর আগের। ১৯১১ সালে ধুমধাম করে ট্রেনটির উদ্বোধন করেছিল ইটালির জেনেটি নামে একটি রেল সংস্থা। উদ্বোধনের দিন যাত্রীদের বিনা টিকিটে ঘোরানোর ব্যবস্থাও করেছিল সংস্থাটি। অতঃপর ছয় জন রেলকর্মী এবং ১০০ জন যাত্রী নিয়ে রওনা দেয় ট্রেনটি। কিন্তু গন্তব্যে আর পৌঁছনো হয়নি তার। মাঝ পথেই রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে যায় গোটা ট্রেনটি! আজ পর্যন্ত যার কোনও খোঁজ মেলেনি।

 

খোঁজ পাওয়া যায়নি ওই রেলকর্মী ও যাত্রীদেরও। ১১০ বছর আগের সেই দিনের কথা ভাবলে আজও গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। এতগুলো যাত্রী নিয়ে আস্ত একটা ট্রেন কিভাবে মুহূর্তে অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে! এর কোনো কারণও অনুসন্ধান করতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। এমনকি অনেক খুঁজেও ট্রেনের কোনো চিহ্ন পর্যন্ত মেলেনি বলেই জানা যায়।

 

সেদিন রোমের একটি স্টেশন থেকে ১০০ জন যাত্রী এবং ওই ছয় কর্মী নিয়ে রওনা দিয়েছিল ট্রেনটি। যাত্রীদের জন্য ট্রেনে এলাহি খাবারের ব্যবস্থাও ছিল। উদ্দেশ্য ছিল ট্রেনে করে যাত্রীদের ইটালির বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে দেখানো। যাত্রীরাও সবাই খুব উপভোগ করছিলেন গোটা ব্যাপারটা।

 

যাত্রাপথের মাঝে ছিল একটি সুড়ঙ্গ। ট্রেন সেই সুড়ঙ্গে প্রবেশ করেছিল ঠিকই, কিন্তু আর তাকে বের হতে দেখা যায়নি। পরবর্তীকালে ট্রেনের সন্ধানে সুড়ঙ্গের মধ্যে অনেকেই গিয়েছেন। কিন্তু তন্ন তন্ন করে খুঁজেও কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।পাহাড়ের বুক চিরে তৈরি হওয়া ওই সুড়ঙ্গের ভিতর আর কোনও রাস্তাও ছিল না। ট্রেন দুর্ঘটনারও কোনও চিহ্ন মেলেনি। ট্রেনের মধ্যে মোট ১০৬ জন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দু’জনের সন্ধান পরবর্তীকালে পাওয়া গিয়েছিল বটে। সুড়ঙ্গের বাইরে থেকে তাঁদের উদ্ধার করা হয়েছিল। 

 

সেই সময়কার প্রকাশিত খবর অনুয়ায়ী, অগোছালো কথা বলছিলেন তাঁরা। ওই ঘটনা সম্বন্ধে বিশদে সেভাবে তেমন কিছুই জানাতে পারেননি তাঁরা। অবশ্য দু’জনের কথার বিষয়বস্তুও ছিল একই। সুড়ঙ্গে প্রবেশের মুহূর্তে সাদা ধোঁয়া গ্রাস করেছিল ট্রেনটিকে। সেই সময় নাকি কোনোক্রমে দু’জনে ট্রেন থেকে ঝাঁপ দেন। তারপর আর কিছু মনে ছিল না তাঁদের।

 

এদিকে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় বোমার বিস্ফোরণে সুড়ঙ্গের মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খোঁজাখুঁজিও থামিয়ে দিতে হয় সংশ্লিষ্টদের।  এর বেশ কিছু বছর পর, নিখোঁজ ওই ট্রেনটিকে ঘিরে এমন কিছু ঘটনা বা তথ্য সামনে আসতে শুরু করে, যা জানলে আরও হতচকিত হয়ে যেতে হয়।

 

মেক্সিকোর এক চিকিৎসকের দাবী, অনেক বছর আগে মেক্সিকোর একটি হাসপাতালে নাকি ওই ১০৪ জন যাত্রীকে ভর্তি করা হয়েছিল। তাঁরা প্রত্যেকেই অসংলগ্ন কথা বলছিলেন। প্রত্যেকেই কোনও একটি ট্রেনের উল্লেখ করছিলেন। সেই ট্রেনে করেই নাকি তাঁরা মেক্সিকো পৌঁছেছিলেন!

 

এমনকি ইটালির বিভিন্ন প্রান্তে, জার্মানি, রোমানিয়া এবং রাশিয়াতেও নাকি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মানুষ ঠিক ওই রকমই একটি যাত্রিবোঝাই ট্রেন দেখতে পেয়েছেন বলে দাবী করতে শুরু করেছিলেন!  প্রত্যক্ষদর্শীরা ট্রেনের যে বর্ণনা দিয়েছিলেন, তা হুবহু ওই অদৃশ্য হওয়া ট্রেনটির ঘটনার সঙ্গেই জড়িত ছিল। সেই সময়কার সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ট্রেনটি নাকি ট্রাইম ট্রাভেল করে ১৮৪০ সালে মেক্সিকোয় গিয়ে পৌঁছে!

 

যদিও এই সমস্ত দাবীর স্বপক্ষে কোনো জোরালো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই ট্রেনকে ঘিরে টাইম ট্রাভেলের যে কাহিনী ছড়িয়ে পড়ে, তাতেও সিলমোহর দেয়া যায়নি। তাহলে ট্রেনটির হলোটা কী? ট্রেনের ওই ১০৪ জন যাত্রীই বা কোথায় গেলেন? যত সময় গড়িয়েছে, এই প্রশ্নগুলো আরও জোরালো হয়েছে। তবে কোনো জবাব মেলেনি। বন্ধ সুড়ঙ্গের ভিতরেই যেন বন্দি রয়ে গেলো সেই ‘ভূতুড়ে ট্রেনের’ রহস্য!