ঢাকা, ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার, ২০২৬ || ৪ কার্তিক ১৪৩৩
good-food
৮

একই আঙিনায় মসজিদ-পূজামণ্ডপ

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ০১:৫২ ২০ অক্টোবর ২০২৬  

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে একই মাঠে পাশাপাশি অবস্থিত মসজিদে নামাজ আদায় এবং দুর্গা মন্দিরে পূজা-অর্চনা চালিয়ে আসছেন স্থানীয় মুসলমান ও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। 

দুটি ভিন্ন ধর্মের মানুষ সম্প্রীতি বজায় রেখে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব ও প্রার্থনায় অংশ নিয়ে এলাকায় ধর্মীয় সহাবস্থানের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

উপজেলার বাগধা ইউনিয়নে পূর্ব বাগধা দাসপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠের পূর্ব প্রান্তে ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় পূর্ব বাগধা দাসপাড়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির। 

পরবর্তীতে ২০০৭ সালে এ মাঠের পশ্চিম প্রান্তে ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন স্থানে গড়ে ওঠে বাইতুল আমান জামে মসজিদ। মাঝখানে একটি খেলার মাঠ রেখে দুই প্রান্তে অবস্থিত ধর্মীয় দুটি প্রতিষ্ঠান ঘিরে দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে কোনো বিবাদ ছাড়াই নিজ নিজ ধর্ম পালন করছেন স্থানীয় অধিবাসীরা।

দুর্গাপূজার সময় সরেজমিনে দেখা যায়, পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে মন্দিরের সামনে ব্যানার টাঙিয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—প্রতি ওয়াক্ত নামাজের আজানের আগে মাইক, সাউন্ডবক্স ও বাদ্যযন্ত্র বন্ধ রাখতে হবে এবং নামাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা বজায় থাকবে। সেই অনুযায়ী বাইতুল আমান জামে মসজিদে আসরের আজান শুরুর আগেই বন্ধ হয়ে যায় মন্দিরের মাইকসহ সব বাদ্যযন্ত্র। 

মসজিদে জামায়াতে নামাজ শেষ হওয়ার পর পুনরায় মন্দিরে ঢাকের বাদ্য, শঙ্খ, উলুধ্বনি ও আরতি শুরু হয়।

পূজার পাশাপাশি একই মাঠে প্রতিদিন দুই ধর্মের শিশু-কিশোরেরা একসঙ্গে খেলাধুলা করে। মন্দিরের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও সব ধর্মের নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোর একত্রে উপভোগ করেন।

পূর্ব বাগধা দাসপাড়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির কমিটির যুগ্ম সম্পাদক উজ্জ্বল দাস বলেন, “স্কুল মাঠের পূর্ব পাশে ১৯৯০ সালে মন্দির এবং ২০০৭ সালে মাঠের পশ্চিম প্রান্তে জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠা হয়। আমরা সবাই মিলেমিশে মসজিদ-মন্দিরে নিজ নিজ ধর্ম পালন করে আসছি। আমদের কখনো কোন সমস্য হচ্ছে না।”

স্থানীয় বায়তুল আমান জামে মসজিদের মুসল্লি মো. খলিল মিয়া বলেন, “আমরা একই গ্রামে হিন্দু-মুসলিম যেমন মিলেমিশে বসবাস করছি। তেমনি পাশাপাশি স্থানে মসজিদ ও মন্দির থাকায় নির্বিঘ্নে নিজ-নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে আসছি। এ নিয়ে কোন দিন কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগও উঠেনি।”

মসজিদের আরেক মুসল্লি মো. আলী আজগর বলেন, “মসজিদে প্রতি ওয়াক্ত নামাজের সময় মন্দিরের মাইক, ঢাক-ঢোলসহ বাদ্যযন্ত্র বন্ধ রাখা হচ্ছে। আমরাও তাদের মন্দিরে পূজা অর্চনার সময় সহযোগিতা করছি। এটাই আমাদের মধ্যে সম্প্রীতির নিদর্শন।”

মসজিদ, মন্দির ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জমিদাতা পরিবারটির সদস্য বিমল দাস জানান, তার বাবা নীলকান্ত দাস, কাকা রাখাল চন্দ্র দাস ও ভাই কালিপদ দাস মসজিদ, মন্দির, স্কুল ও ইউনিয়ন পরিষদের জমি দান করেছেন। পূর্বপুরুষদের আমল থেকেই এলাকায় এই সম্প্রীতির আবহ বজায় রয়েছে।

বাগধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাবুল ভাট্টি বলেন, “আমি বিগত ২৪ বছর যাবত চেয়ারম্যান থাকাবস্থায় মসজিদ-মন্দির, স্কুলসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ হয়েছে। একই মাঠের দুইপ্রান্তে মসজিদ ও মন্দিরে যার-যার ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যে দিয়ে সম্প্রীতি বজায় রেখে অনুষ্ঠান করছে। বিষয়টি আমাদের এলাকার জন্য যেমন গর্বের, তেমনি দৃষ্টান্তও।”

বাংলাদেশ বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর