ঢাকা, ২১ আগস্ট বুধবার, ২০১৯ || ৫ ভাদ্র ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
১৯৪

‘কেমিকেল কেমনে দায়ী হয়?’

এরপরেও গুদাম সরাতে নারাজ ব্যবসায়ীরা !

প্রকাশিত: ২৩:৩৮ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  


এতো বড় ট্রাজেডির পরেও পুরান ঢাকার ওই এলাকাগুলো থেকে রাসায়নিক ও দাহ্য পদার্থের গুদাম সরাতে নারাজ সেখানকার ব্যবসায়ীরা। অথচ সম্প্রতি চকবাজার এবং ৯ বছর আগে নিমতলিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক হতাহতের জন্য দায়ী করা হয়েছে স্থানীয় ভবনগুলোতে থাকা রাসায়নিক ও দাহ্য পদার্থকে।

 

চকবাজার চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডের তিন দিন পর শনিবার সেখানে রাসায়নিকের গুদাম খালি করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। ওই অবস্থায় মেয়র সাঈদ খোকন গেলে তাকেও বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়।

 

বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে কেমিকেল কিংবা রাসায়নিকের কোনো সম্পর্ক নেই। অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে গ্যাসের সিলিন্ডার থেকে। সুতরাং বন্ধ করতে হবে গ্যাস সিলিন্ডার।

 

গত বুধবার রাতে চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ আগুনে পুড়ে যায় অন্তত পাঁচটি ভবন। যে ভবনগুলোর প্রায় প্রতিটিতে ছিল প্লাস্টিক দ্রব্য, রাসায়নিক কিংবা প্রসাধন সামগ্রীর গুদাম।

 

নয় বছর আগে নিমতলীতে অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক মানুষের প্রাণহানির পর পুরান ঢাকার সব রাসায়নিকের গুদাম সরিয়ে ফেলার সুপারিশ করা হয়েছিল।

 

এবারের অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির জন্য দাহ্য পদর্থের গুদামকে দায়ী করা হলে পুরনো দাবিটি আরও জোরেশোরে উঠেছে।

 

যে চার তলা বাড়িটি সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, নন্দকুমার দত্ত লেনের সেই বাড়ি ওয়াহেদ ম্যানশনের পাশের পাঁচ তলা ভবনে শনিবার সকালে তালা ভেঙে অভিযান চালাতে গিয়ে স্থানীয়দের বাধা পান ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

 

খবর পেয়ে দুপুরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন এসে ওয়াহেদ ম্যানশনের গুদামঘর থেকে রাসায়নিক কাঁচামাল সরাতে অভিযান শুরু করলে স্থানীয়রা শুরু করে বিক্ষোভ।

 

মেয়র কঠোর হওয়ার ঘোষণা দিলে বিক্ষোভকারীদের একজন তেড়ে এসে বলেন, সরকার কেমিকেল কেমিকেল কইতাছে, সরকার কেমিকেল কইতে কী বোঝায়, হেইডা কউক! এখানে সব ট্যালকম পাউডার, বডি স্প্রে, টায়ারের কালি, এইসব আছিল। এইগুলো কি কেমিকেল? আর গুদামে কেমিকেল আছে বইল্যা আপনেরা সাংবাদিকরা যা কইতাসেন, কেমিকেলের কারণে আগুন লাগছে বলতাছেন, আগুন তো লাগছে সিলিন্ডার থিকা। কেমিকেল এইখানে কেমনে দায়ী হয়?

আগুন নেভানোর পর ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম জুলফিকার রহমান বলেছিলেন, পারফিউমের বোতলে রিফিল করা হত এখানে। সেই বোতলগুলো ব্লাস্ট হয়ে বোমার মত কাজ করেছে। এছাড়া আরও অন্যান্য কেমিকেল ছিল।

 

চকবাজারের এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে, সে বিষয়ে কোনো কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত তথ্য না দিলেও শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ হুমায়ুন তাৎক্ষণিকভাবে বলেছিলেন, একটি গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার থেকে বিস্ফোরণ ঘটে।

 

নিমতলীর অগ্নিকাণ্ডের পর রাসায়নিকের গুদাম ও কারখানাগুলো সরানোর উদ্যোগ নেয়া হলেও স্থানীয়রাই সাড়া দেয়নি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এটা দুর্ভাগ্যজনক।

 

পাইকারি বাণিজ্যের জন্য সুপরিচিত চকবাজারের বাসিন্দাদের অনেকেই বলেন, অতিরিক্ত ভাড়ার লোভে বেশিরভাগ ভবন মালিক গুদাম ভাড়া দিচ্ছেন রাসায়নিকের ব্যবসায়ীদের। আর এ নিয়ে কথা বলেও কোনো ফল হয় না।

স্থানীয় কয়েকজন বলেন, রাসায়নিকের গুদাম সরাতে কথা বলতে গেলেও বাধা পাওয়া যায় রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে।

 

তবে মেয়র সাঈদ খোকন এবার হুঁশিয়ার করেছেন, পুরান ঢাকার সব রাসায়নিকের গুদাম ও কারখানা অপসারণের কাজ শুরু করেছেন তারা, কারও বাড়িতে অবৈধ কেমিকেলের মজুদ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে দুপুর ২টার দিকে মেয়র চলে গেলেও স্থানীয়দের অনেকে ‘সিলিন্ডার নিষিদ্ধ কর’ বলে স্লোগান দিতে থাকে।


এই বিভাগের আরো খবর