প্রাণে বাঁচতে দিল্লি ছেড়ে পালাচ্ছেন মুসলিমরা
লাইফ টিভি 24
প্রকাশিত: ১৯:৫৫ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০
খাজুরি খাসের চার নম্বর গলির মুখটায় দাঁড়িয়ে কাঁদছিলেন ৬৫ বছর বয়সী মহম্মদ তাহির। কাঁদছিলেন পাশে দাঁড়ানো তাঁর দুই পুত্রবধূও। গলির মুখ থেকে তাঁদের বাড়িটা ছিল খান চার-পাঁচেক বাড়ির পরেই। হ্যাঁ, ছিল। এখন গোটা বাড়িটাই ছাই হয়ে গিয়েছে।
মঙ্গলবার গভীর রাতে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিতে দিতে হাজারখানেক যুবক ঢুকেছিল তাহিরদের গলিতে। তাদের হাতে ছিল বন্দুক, ধারালো অস্ত্রশস্ত্র। গলিতে ঢুকেই তারা মারধর শুরু করল সেখানকার বাসিন্দাদের। ঘরে ঘরে ঢুকে শুরু করল লুটপাট। তারপর একটা একটা করে বাড়িতে আগুন লাগাতে থাকল। লোকজন যে বাড়িগুলির ভিতরে রয়েছেন, তার পরোয়াই করল না।
বাড়ি দাউদাউ করে জ্বলছে দেখে প্রাণে বাঁচতে আর কয়েক জন পড়শির মতো তাহিরও তাঁর পরিবারের লোকজনকে নিয়ে উঠে যান ছাদে। তার পর এক এক করে সেই ছাদ থেকে পাশের বাড়ির ছাদে ঝাঁপ দেন। সেই বাড়ির ছাদ থেকে তার পরের বাড়ির ছাদে। এই ভাবে ছাদ টপকে টপকে তাহির পৌঁছে যান গলির শেষ প্রান্তে। যেখানে তখনও পৌঁছয়নি হানাদাররা।
পালিয়ে প্রাণে বাঁচতে পেরেছিলেন তাহিররা। কিন্তু বাড়ির মোহ আর ছাড়তে পারেন কী ভাবে? অনেক কষ্টে যে বানিয়েছিলেন বাড়িটা। তাই বুধবার বিকেলে দুই পুত্রবধূকে নিয়ে বাড়িটা দেখতে এসেছিলেন তাহির। গিয়ে দেখেন, গোটা বাড়িটাই ছাই হয়ে রয়েছে। পাশের বাড়িটারও একই দশা। তার পরেরটাও...। সেটা দেখার পর আর চোখের জল চেপে রাখতে পারেননি তাঁরা। গলির মুখে এসে কাঁদতে কাঁদতে বার বার পিছনে ফিরে ছাই হয়ে যাওয়া বাড়িটার দিকে তাকাচ্ছিলেন। আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারেননি। দুই পুত্রবধূকে নিয়ে চার নম্বর গলির মুখেই বসে পড়েছিলেন তাহির।
ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে তাহির বললেন, ‘ওরা বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিল। আমরা পড়িমড়ি করে বাড়ি ছেড়ে পালাতে শুরু করলাম। কোমর থেকে পঙ্গু আমার বউ। ও পারল না। আমার দুই ছেলেও গুরুতর জখম হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কিছুই আমরা দাঁতে কাটিনি। আমার সদ্যোজাত নাতিনাতনিরা জল খেয়ে রয়েছে।’
এটা ঠিকই, গলির কিছু হিন্দু বাসিন্দারও ঘরবাড়ি পুড়েছে। কিন্তু খাজুরি খাসের চার নম্বর গলিতে যত মুসলিম পরিবার থাকতেন, মঙ্গলবার গভীর রাতের ভয়াবহ ঘটনার পর তাঁরা সকলেই সেখান থেকে অন্যত্র পালিয়ে গিয়েছেন। একই চেহারা মৌজপুর বাবরপুর ও ভাগীরথী বিহারের গলিগুলির। কোনও মুসলিম পরিবার আর সেখানে নেই।
এই কাহিনী শুধু খাজুরি খাসের নয়। মৌজপুর বাবরপুর, ভাগীরথী বিহার, সর্বত্রই ছবিটা এক। গাড়ি নিয়ে সব্জি বেচেন বছরকুড়ির মহম্মদ এফাজ, খাজুরি খাসের চার নম্বর গলির মুখে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘এমন ভয়াবহ ঘটনা এর আগে দেখিনি। ওদের সকলের হাতে ছিল বন্দুক, লাঠি, ধারালো অস্ত্রশস্ত্র। ওরা ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিচ্ছিল। ওই ধ্বনি দিতে দিতেই গলির একের পর এক ঘরবাড়িতে ওরা আগুন লাগাতে শুরু করল। গুলি চালাচ্ছিল এলোপাথাড়ি।’
তাঁর আড়াই মাসের মেয়েকে লক্ষ্য করেও দুষ্কৃতীরা ইট, পাথর ছুড়েছিল, জানালেন খাজুরি খাসের আর এক বাসিন্দা সিতারা। সিতারা বললেন, ‘ওই সময় নিজেকে দিয়ে আমার বাচ্চাটাকে আড়াল করেছিলাম। বাঁচিয়েছি ঠিকই, কিন্তু এখন ভাবছি, ওকে কী খাওয়াব, পরাব?’
খাজুরি খাসের চার নম্বর গলির হিন্দু বাসিন্দারা কিন্তু ওই সময় তাঁদের মুসলিম পড়শিদের বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। মুসলিমদের ঘরবাড়িগুলি যখন পুড়ছে, তখন তাঁরা নিজেদের বাড়ি থেকে বালতির পর বালতি জল ঢেলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছিলেন। পারেননি, জানালেন চার নম্বর গলির এক হিন্দু বাসিন্দা। যিনি কিছুতেই তাঁর নাম জানাতে চাইলেন না। ভয়ে, যদি এর পর তাঁর উপরেও চড়াও হয় দুষ্কৃতীরা।
গলিতেই থাকতেন দিনমজুর মহম্মদ আরিফ। বিজয় পার্ক এলাকায় দিনদুয়েক আগে একটি কাজ পেয়েছিলেন আরিফ। জানালেন, এই ঘটনার পর তিনি প্রাণে বাঁচতে সম্ভলে চলে যাচ্ছেন। সব কিছু ছেড়েছুড়ে।
গলিতে গলিতে ঢুঁ মেরে দেখা গেল, গত রবিবার থেকে টানা হিংসার ঘটনার পর খাজুরি খাস, মৌজপুর বাবরপুর, ভাগীরথী বিহারের মুসলিম এলাকাগুলি খাঁ খাঁ করছে।
বাড়িগুলি ছাই, তাই আক্ষরিক অর্থেই, শ্মশানের চেহারা নিয়েছে এলাকাগুলি।
সূত্র: আনন্দবাজার
- ভিটামিন ডি নিয়ে ৬ ভুল ধারণা: জেনে নিন সঠিক তথ্য
- সাইবার হামলার শঙ্কা, বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ
- সৌদিতে পৃথক হামলায় নিহত ৪, আহত ১০, আছে বাংলাদেশিও
- ওয়ানডে ইতিহাসে দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়লেন ব্রুক
- বাংলাদেশে সাড়ে ৭৭ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে জাপান
- তুরস্ক-পাকিস্তান-কাতার ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে বদর চুক্তি
- সাদা নাকি লাল: ডায়াবেটিসে কোন চাল বেশি উপকারী?
- সৌদিতে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: গোপনীয় চিঠিতে যা জানা গেল
- রিয়াদ রুটে বিমানের ফ্লাইট চালু ২৫ অক্টোবর, দাম্মামে বৃহস্পতিবার
- ডিভি লটারি চালুর আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল ট্রাম্প প্রশাসনের
- বিসর্জনে শেষ শারদীয় দুর্গোৎসব
- বাংলাদেশ, নেপালের মতো ভারতে সরকার বদল হবে না: আরএসএস প্রধান
- রসুনের জাদুকরী গুণের কথা জানেন?
- মেসি-বেকহ্যামকে ট্যাগ করে নেইমারের রসিকতা
- পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে মাদক জব্দ: নারীসহ আটক ৮৪
- আ.লীগ-জামায়াত এক হয়েছে, পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে:প্রধানমন্ত্রী
- স্বাদের চিপস, স্বাস্থ্যের বিপদ
- বেগুনে পোকা থাকলে কি খাওয়া উচিত?
- রোনালদোকে নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানা করল পর্তুগাল
- জনতা, সোনালী ও রূপালী ব্যাংকের এমডির চুক্তি বাতিল
- একই আঙিনায় মসজিদ-পূজামণ্ডপ
- গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, বিএনপি কর্মীরা চাঁদাবাজিতে জড়িত নয়
- সংসদ সদস্য কি প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র বহন করতে পারেন?
- বালিশের পাশে ফোন রেখে ঘুমান? জেনে নিন ঝুঁকিগুলো
- মুম্বাইয়ে টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি, আহত ২
- ২০ অক্টোবর রাজশাহী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
- কবি নজরুলের যে কবিতায় কেঁপে উঠেছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্য
- পিস্তলকাণ্ডে সমালোচনার মুখে ইশরাক, নাকচ করলেন পদত্যাগের খবর
- কম্বোডিয়ায় ‘আটকা’ ১৮০০ বাংলাদেশি
- ভাত রান্নার আগে চাল ভালো করে ধুতে বলা হয় কেন?
- প্রক্রিয়া শুরু
মালয়েশিয়ায় যেভাবে হবে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ - ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে কমবে দারিদ্র্য, ধারণা বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের
- এনআইডিতে নাম, বয়স ও ঠিকানা সংশোধনে যেসব কাগজপত্র লাগবে
- মোটরসাইকেলের সামনেও নম্বর প্লেট রাখা বাধ্যতামূলক
- এডিস মশা শনাক্ত করবে ‘স্মার্ট ফাঁদ’
- ভাত রান্নার আগে চাল ভালো করে ধুতে বলা হয় কেন?
- বিএসএফের হাতে আটক দুই পুলিশ সদস্যকে ফেরত আনল বিজিবি
- বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের সূচি পরিবর্তন
- কম্বোডিয়ায় ‘আটকা’ ১৮০০ বাংলাদেশি
- ঢাকার বায়ুদূষণ দেশের জন্য লজ্জার বিষয়: প্রধানমন্ত্রী
- বয়স্করা যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন
- পিস্তলকাণ্ডে সমালোচনার মুখে ইশরাক, নাকচ করলেন পদত্যাগের খবর
- বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ
- কবি নজরুলের যে কবিতায় কেঁপে উঠেছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্য
- একই আঙিনায় মসজিদ-পূজামণ্ডপ
- মুম্বাইয়ে টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি, আহত ২
- রোনালদোকে নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানা করল পর্তুগাল
- বালিশের পাশে ফোন রেখে ঘুমান? জেনে নিন ঝুঁকিগুলো
- ২০ অক্টোবর রাজশাহী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
- বাংলাদেশ, নেপালের মতো ভারতে সরকার বদল হবে না: আরএসএস প্রধান











